ঘাসবনের রাতচরা

  আ ন ম আমিনুর রহমান ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাতচরা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবুডাইংয়ে ঘাসবনের রাতচরা

বাস থেকে নেমেই একটা ছাপড়া হোটেলে আফজালকে নিয়ে তৃপ্তিসহকারে ভাত খেলাম। তারিক ও সুজন আগে থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিশ্বরোডে অপেক্ষা করছিল।

দেরি না করে অটোয় চেপে সোজা চলে গেলাম বাবুডাইং। অটো থেকে নেমেই কয়েকটি বিরল পাখির সন্ধান শুরু করলাম। শুরুতেই দেখা হল দুরন্ত নাগরবাটইয়ের সঙ্গে।

কিন্তু অতি চালাক এ পাখিটির সঙ্গে পেরে উঠলাম না। চোখের পলকে হাওয়া হয়ে গেল। একটি লম্বালেজি শ্বেত দুধরাজকে দেখে যেই ওর পিছু নিয়েছি অমনি আফজালের পায়ের কাছ থেকে উড়ে গেল ছদ্মবেশী নিশাচর বিরল পাখিটি। শ্বেত দুধরাজ ছেড়ে ওর পিছু নিলাম। কিন্তু বিধি বাম। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও দেখা পেলাম না।

বাবুডাইংয়ের ছদ্মবেশী আবাসিক ও তথ্য অপ্রতুল পাখিটির নাম ঘাসবনের রাতচরা। ইংরেজি নাম Savanna, Franklin's or Allied Nightjar. বৈজ্ঞানিক নাম : Caprimulgus affinis. বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই এদের দেখা যায়।

ঘাসবনের রাতচরা দেখতে নলপিটানি রাতচরার মতো হলেও আকারে কিছুটা ছোট, লেজ খাটো, দেহের ওপরে সুস্পষ্ট সাদা দাগ নেই। দৈর্ঘ্য ২০ থেকে ২৬ সেন্টিমিটার। ওজনে পুরুষ ৫৪ থেকে ৮৬, স্ত্রী ৭৫ থেকে ১১০ গ্রাম। একনজরে দেহের পালক ধূসর-বাদামি। মাথার চাঁদি ও ডানা-ঢাকনিতে সূক্ষ্ম কালচে দাগ থাকে। ডানা-ঢাকনির প্রান্ত লালচে ও গলায় অসম্পূর্ণ সাদা পট্টি রয়েছে। স্ত্রী-পুরুষের রঙে কিছুটা পার্থক্য আছে।

পুরুষের লেজের বাইরের পালক সাদা ও ডানায় সাদা পট্টি রয়েছে। অন্যদিকে স্ত্রীর পুরো লেজ ধূসর-বাদামি, ডানায় হলুদ পট্টি আছে। স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে বাদামি। পা, পায়ের পাতা ও আঙুল ফ্যাকাশে।

এরা গাছপালাপূর্ণ ঘাসবন, শিলাপূর্ণ তৃণভূমি, শিলাময় পাহাড়ের পাদদেশ ও ছোট ঝোপঝাড়পূর্ণ এলাকার বাসিন্দা। এ দেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবুডাইং ও সিলেট বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বন ছাড়া অন্য কোথাও দেখার তথ্য নেই।

এরা একাকী বা জোড়ায় জোড়ায় বিচরণ করে। নিশাচর ও সান্ধ্যচারী রাতচরা দিনের বেলা মাটিতে ঝরা পাতার ওপর বসে থাকে। উড়ন্ত পোকামাকড়, মথ ও গুবরে পোকা খায়। ‘চিউইপ... চিউইপ...চিউইপ...’ স্বরে ডাকে।

মার্চ থেকে আগস্ট রাতচরার প্রজননকাল। এরা কোনো বাসা বানায় না। শুকনো মাটিতে ঝরা পাতার ওপর ১ থেকে ২টি কালচে ছিট-ছোপসহ লালচে-বাদামি রঙের ডিম পাড়ে।

স্ত্রী-পুরুষ পালাক্রমে ডিমে তা দেয়। ডিম ফোটে ১৬ থেকে ২০ দিনে। ২৮ থেকে ৩৪ দিনে ছানা উড়তে শেখে। আয়ুষ্কাল ৬ থেকে ৭ বছর।

লেখক : বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী ও প্রাণিচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, বন্যপ্রাণী প্রজনন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র, বশেমুরকৃবি, সালনা, গাজীপুর

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×