স্বর্ণ অশোক

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোকারম হোসেন

স্বর্ণ অশোকের স্থানীয় অন্যান্য নাম নেই

বৈজ্ঞানিক নাম :

Saraca thaipingensis.

ফুল ফোটার মৌসুম :

হেমন্ত ও শীত

পরিবার :

Caesalpinaceae.

জন্মস্থান : মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা

বিস্তৃতি : ঢাকায় বলধা গার্ডেন এবং বোটানিক গার্ডেন

আমার জানা মতে একটিই পরিণত গাছ আছে বলধা গার্ডেনের সাইকি অংশে। তবে কখন বা কোথা থেকে গাছটি এখানে লাগানো হয়েছিল তা জানা যায় না। আমাদের দেশে যে কয় ধরনের অশোক পাওয়া যায় তার মধ্যে স্বর্ণ অশোক বেশ আকর্ষণীয় ও দুষ্প্রাপ্য। অন্যান্য অশোকের সঙ্গে প্রস্ফুটনকালের কিছুটা ভিন্নতা আছে। ফুল উজ্জ্বল সোনালি রঙের বলেই নাম স্বর্ণ অশোক। গাছ মাঝারি আকৃতির। কাণ্ড কালচে রঙের, ডালপালা ঊর্ধ্বমুখী ও শক্তপোক্ত ধরনের। অন্যান্য অশোকের তুলনায় স্বর্ণ অশোকের পাতা খানিকটা বড়। সাধারণত পৌষ-মাঘ প্রধান প্রস্ফুটন মৌসুম। গাছজুড়ে হলুদ-সোনালি রঙের অসংখ্য গুচ্ছবদ্ধ ফুল ফোটে। তখন ডালপালা পুষ্পভারে কিছুটা আনত থাকে। গুচ্ছবদ্ধ ফুলগুলো উজ্জ্বল রঙের হওয়ায় অনেক দূর থেকেই সবার নজর কাড়ে।

স্বর্ণ অশোক চিরসবুজ ছায়াঘন বৃক্ষ। সাধারণত ১০ থেকে ২৪ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পত্র পক্ষল যৌগিক, পত্রাক্ষ ২০ থেকে ৫৬ সেন্টিমিটার লম্বা ও রোমহীন। পুষ্পবিন্যাস করিম্ব, ১৭ থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার প্রশস্ত, প্রধান শাখাসমূহ ৭ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার। পুষ্পদলহীন, সোনালি-হলুদ থেকে ফিকে কমলা, নলাকার, মঞ্জরিপত্র ডিম্বাকার, আশুপাতি, মঞ্জরিপত্রিকা ২টি, ২ থেকে ৫ মিমি লম্বা, দীর্ঘায়ত-ভল্লাকার, আশুপাতি, বৃন্ত ১০ মিমি লম্বা, পুষ্পাধার ১ থেকে আড়াই সেন্টিমিটার লম্বা। বৃত্যাংশ ৪টি, ৫ থেকে ১০ মিমি, হলুদ। পুংকেশর ৩ থেকে ৬টি, পরাগধানী উপবৃত্তাকার, ১ থেকে ২ মিমি লম্বা। ফল পড আকৃতির, ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার, ভল্লাকার-দীর্ঘায়ত, ফিকে লাল, বেগুনি লাল, বাঁকা, ঠোঁটযুক্ত, কখনও প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার। চিরসবুজ অরণ্য এবং উষ্ণ অঞ্চলে স্বর্ণ অশোক বেশি দেখা যায়।

লেখক : সম্পাদক, তরু পল্লব, প্রকৃতিবিষয়ক লেখক