নাটাকরঞ্জা

  জায়েদ ফরিদ ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলায় ‘নাটা’ শব্দটি হয়তো হিন্দি ‘লতা’ থেকে এসেছে। আর করঞ্জক হল কচ-রঞ্জক অর্থাৎ চুল রঞ্জক যা এর প্রাচীন ব্যবহারে দেখা যায়। অর্থাৎ লতাকরঞ্জ থেকে নাটাকরঞ্জ এবং ‘নাটা’ শব্দের উৎপত্তি। এর ইংরেজি নাম ‘নিকারনাট’ যা ডাচ শব্দ ‘নিকার’ থেকে এসেছে বলে অনুমান করা হয়, যার অর্থ মাটির মার্বেল। যখন নাটার প্রাচুর্য ছিল তখন এ সব নাটা গুলতির গুলি হিসেবে ব্যবহার করা হতো মাটির গুলির পরিবর্তে। পৃথিবীতে নাটার কম পক্ষে ৪০টি প্রজাতি আছে যার সিকি সংখ্যক পাওয়া যায় উপমহাদেশে। ধূসর ও হলদে প্রজাতি খুব সাধারণ। সিসালপিনিয়া পরিবারের উদ্ভিদ। ফল দেখতে ধূসর, আর সিসালপিনিয়া সিলিয়েটা দেখতে হলদেটে।

বিদেশে নাটা দিয়ে মালা তৈরি হয়। নাটা দিয়ে খেলা হয় ‘ঔয়ারে’ নামক এক ধরনের বোর্ড-গেম। আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে এ খেলার খুব চল রয়েছে। কয়েকটি দেশে এর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও হয়। এ গেমে কাঠের ভেতর খোদাই করা থাকে ৬টি বাটি আর স্টোর হিসেবে আরও দুটি অতিরিক্ত বাটি। এই বাটিগুলোতে ৪টি করে উভয়পক্ষের মোট ৪৮টি বীজ থাকে। খেলাতে একজন আরেকজনের সম্পদ অধিকার করে তাকে দেউলিয়া করার চেষ্টা করে। এটা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানার জাতীয় খেলা। এ খেলা এত নেশাকর যে, সে দেশের ‘ধাশান্তি’ ট্রাইবের পৌরাণিক কাহিনীতে বলা হয়, খেলার আনন্দ চালু রাখার জন্য ছেলে আর মেয়ে খেলোয়াড় বিয়েই করে নিয়েছিল। এ কারণে ‘ঔয়ারে’ শব্দের অর্থও ‘বিয়ে করা’। মজার ব্যাপার হল ইন্দোনেশিয়াতে নর্তকীরা এ খেলায় আসক্ত। তাদের ভাষ্য, গুঁটি চালতে চালতে তাদের হাত নৃত্যের অভীষ্ট মুদ্রাকে সূক্ষ্ম ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। যা হোক, এ খেলাতে গুঁটি চালনায় কঠিন অংকের হিসাব করতে হয় বলে হিসাবে দক্ষতা অর্জন করে খেলোয়াড়রা। এখন ক্যারিবীয় দ্বীপের শিশু-কিশোরও এ খেলা খেলে, নিশ্চয়ই বেশ টনটনে হয় তাদের অংকের মাথা।

নাটা অসাধারণ মূল্যবান ভেষজ। পুরনো ও নতুন সব ধরনের জ্বরেই নাটার ওষুধ গ্রহণযোগ্য। নাটা সব ধরনের রোগীকেই সেবন করানো যায়, এমন কি গর্ভবতী এবং উদরাময় রোগীকেও। এর তিক্ততা কুইনিন অপেক্ষা কম। এটা প্লীহা ও যকৃতের বিকৃতি দূর করে ও শরীরে নতুন রক্তকণিকার উদ্ভব ঘটায়। আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসায় ম্যালেরিয়া ছাড়াও রয়েছে- ডায়াবেটিস, ক্রিমিরোগ, সর্দি, টাকপড়া, কিডনি রোগ, চর্মরোগ, পুরনো পচা ঘা ইত্যাদি। বিশ্বব্যাপী এর অন্যান্য কবিরাজী ও লোকায়িত ব্যবহারের মধ্যে আছে- বুকে ব্যথা, জণ্ডিস, ডায়েরিয়া, হাঁপানি, ঋতুরোগ, অর্শ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, কফ, বাত, খিচুনি, টিউমার, কুষ্ঠ, যকৃৎ ও প্লীহার রোগ।

লেখক : টেশনিক্যাল কিউরেটর, বিজ্ঞান জাদুঘর, রিয়াদ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×