উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  হুমায়ূন কবীর

শীতকালে উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস দেশের বড় বড় নদী, মোহনা, হাওরসহ জলজ উদ্ভিদপূর্ণ বিভিন্ন জলাভূমি মুখরিত করে তোলে। এরা বড় আকারের উজ্জ্বল ও বর্ণিল জলচর পাখি। দ্রুত উড়তে পারে এবং ঝাঁকে থাকতে পছন্দ করে। ভোরে ও সন্ধ্যায় এরা বেশি সক্রিয় থাকে। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি দেখতে আলাদা। লেজের মাঝের পালক সরু ও লম্বা আলপিনের মতো, যা পুরুষ পাখিকে স্ত্রী পাখি থেকে আলাদা করে। প্রজননকালীন পুরুষ পাখির মাথা ও ঘাড় পিঙ্গল রঙের হয়। ঘাড়ের দু’দিকে সাদা পট্টি সরু থেকে চওড়া হয়ে বুক ও পেটের কাছে মিশে যায়। অপরদিকে স্ত্রী পাখির মাথা, লেজ ও ঘাড় অপেক্ষাকৃত ছোট হয়। মাথা ও ঘাড়ের পালক বাদামি রঙের। বাকি দেহের রং বাদামি। উভয় পাখির চোখের মনি বাদামি। এদের পা ও পায়ের পাতা কালচে রঙের।

উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস সাধারণত পানি থেকে বেশ কিছুটা দূরে খোলা জলাশয়বা জলাভূমির মাটিতে বাসা বাঁধে। প্রজননের সময় সাইবেরিয়া ও মঙ্গোলিয়ার উত্তরাঞ্চলের আর্দ্রভূমির লতা-পাতার মধ্যে ঘাস, গাছ-গাছড়া ও পালক বিছিয়ে বাসা বানিয়ে ডিম দেয়। ডিমের সংখ্যা ৭ থেকে ৯টি। ডিমের রং নীলচে ফ্যাকাসে। প্রায় ২১ থেকে ২৪ দিনে ডিম ফোটে এবং প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিনে ছানার গায়ে ওড়ার পালক গজায়। অপ্রজননকালীন এরা দলবদ্ধভাবে বসবাস করে, দলে অন্যান্য প্রজাতির হাঁসও ঘুরে বেড়ায়। এরা তীরে হেঁটে, অগভীর জলে সাঁতার কেটে অথবা পানিতে মাথা ডুবিয়ে খাবার খোঁজে।

উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁস প্রধানত তৃণভোজী। পানিতে ভাসমান উদ্ভিদ এদের প্রধান খাদ্য। এ ছাড়া বীজ, শস্য, কন্দ, কচিকাণ্ড, পাতা ইত্যাদি খেয়ে থাকে। তবে প্রজনন মৌসুমে ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণীও খায়।

বিপন্নের তালিকাতে এখনও উত্তুরে ল্যাঞ্জাহাঁসের নাম আসেনি। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, পৃথিবী থেকে দ্রুত জলাশয়গুলো বেহাত হওয়া এবং শিকারির অপতৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় খুব শিগগিরই এরা বিপন্নের তালিকায় স্থান করে নেবে।

লেখক : বন্যপ্রাণী গবেষক