লটকন টিয়ে

  আ ন ম আমিনুর রহমান ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডাক্তার ও পক্ষী আলোকচিত্রী শামীম রিজওয়ানের সঙ্গে ফজরের ওয়াক্তের আগেই সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে পৌঁছালাম। আজানের পর পরই পৌঁছালাম ওয়াজ টাওয়ারের কাছে। আমরা যখন উপরে উঠলাম তখনও আলো ফোটেনি। কিছুক্ষণ পর ‘চি...চি...চিই...’ শব্দ করে একঝাঁক সবুজ ছোট পাখি মান্দার গাছে এসে বসল। পাখিগুলো গাছের ডালে ঝুলে, উল্টে-পাল্টে মান্দারের পাপড়ি থেকে রস খেতে লাগল। আহ্ কি সুন্দর সে দৃশ্য! আলো কম থাকলেও আমাদের ক্যামেরায় ছবি তোলা বন্ধ থাকল না। ঘটনাটি ছিল গত ৯ মার্চ ২০১৯ সালের। তবে ২০১২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পাখিগুলোকে প্রথম দেখেছিলাম বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে।

ছোট্ট সবুজ কসরতকারী এ পাখিগুলো বাংলাদেশের আবাসিক পাখি লটকন টিয়ে। শুকশারি, ঝুলন টিয়া বা ভোরা নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Vernal Hanging Parrot, Vernal Hanging-parrot বা Indian Lorikeet. Pssitaculidae গোত্রের পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Loriculus vernalis. বাংলাদেশ ছাড়াও পুরো এশিয়াজুড়ে এদের দেখা যায়।

লটকন টিয়া খাটো লেজের গাট্টাগোট্টা পাখি। দৈর্ঘ্য ১৩ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার। ওজন ৩৭ থেকে ৩৮ গ্রাম। পালকের রং একনজরে হলুদাভ-পাতা সবুজ। কোমর লাল। খাটো চৌকো ও ছোট লেজের পেছনের অংশ লাল। চোখের বৃত্ত হলুদ। চোখ হলুদাভ-সাদা। চঞ্চু প্রবাল-লাল যার আগা হলুদ। পা ও আঙুল কমলা-হলুদ। নখ বাদামি। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম হলেও পুরুষের গলা নীল ও স্ত্রীরটা ফ্যাকাশে নীল। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির চোখ বাদামি, কোমর লাল ও লেজের উপর-ঢাকনি লাল-সবুজ।

লটকন টিয়া মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্রচিরসবুজ বন ও গাছপালাপূর্ণ এলাকার বাসিন্দা। দিবাচর পাখিগুলো সচরাচর ছোট থেকে মাঝারি দলে বিচরণ করে। এরা অত্যন্ত সুন্দর কসরত করতে পারে, বিশেষ করে গাছের সরু ডাল বা লতায় উল্টো হয়ে ঝুলে থেকে খাবার খাওয়া বা ঘুমানো। বাদুড়ঝোলা হয়ে এভাবে ঘুমানো পাখি মনে হয় এদেশে আর দ্বিতীয়টি নেই। গাছের সবুজ পাতার সঙ্গে সবুজ পাখিগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকতে পারে। কচি পাতা, ফুলের কুঁড়ি ও পাপড়ি এবং মধুরেণু এদের মূল খাবার। উড়তে পারে দ্রুতগতিতে।

জানুয়ারি থেকে এপ্রিল প্রজননকাল। এসময় গাছের ছোট মুখওয়ালা খোঁড়লে বাসা করে। অবশ্য বাঁশের ফাঁপা খোলে কাঠঠোকরার করা গর্ত পেলেও সেখানে বাসা করে। স্ত্রী ডিম পাড়ে ২ থেকে ৪টি। ডিমের রং চকচকে সাদা। স্ত্রী-পুরুষ উভয়ই ডিমে তা দেয়। ডিম ফোটে ১৪ থেকে ১৭ দিনে। ছানারা ১৮ থেকে ২২ দিন বয়সে বাসার মুখে উঠে বসতে পারে। আয়ুষ্কাল ৩ থেকে ৪ বছর।

লেখক : বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী, প্রাণিচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×