ফসলি সন থেকে পহেলা বৈশাখ

  প্রকৃতি ও জীবন ডেস্ক ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আজ চৈত্র সংক্রান্তি। বাংলা বছরের শেষ দিন। শেষ দিন ঋতুরাজ বসন্তেরও। কালের প্রবাহে হারিয়ে যাচ্ছে আরও একটি বছর। নানা আচার-অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেয়ার দিনও আজ। লৌকিক আচার অনুযায়ী, দিন শেষে বিদায়ী সূর্যের সঙ্গে সঙ্গে অস্তমিত হবে বছরের শেষ দিনও। রাত পোহালে ভোরের আলোয় উদযাপিত হবে পহেলা বৈশাখ। দেশ মেতে উঠবে নতুন আমেজে। চিরায়ত বাঙালিয়ানার উপলব্ধিতে নিজের উৎসমূলকে ফিরে দেখারই এক সানন্দ অনুষঙ্গ।

প্রতি বছর দিন বদলের পালা গুনে প্রকৃতিতে আসে বৈশাখ। প্রচণ্ড দাবদাহে চৌচির হয় মাঠঘাট। কালবৈশাখীর নৃত্য উড়িয়ে নিতে চায় সব জঞ্জাল। ঝড়ের রুদ্রমূর্তি দেখে মানুষ বুঝে নেয় প্রকৃতির সঙ্গে তাদের ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতিকে রুষ্ট করলে তাদের জীবনেও বিপর্যয় নেমে আসবে। তাই তো শক্তির আধার হিসেবে যুগে যুগে পূজিত হয়েছে প্রকৃতির নানা উপাদান- সূর্য, বৃক্ষ, পাহাড়, সাপ, নদী ইত্যাদি।

প্রাকৃতিক বন্ধনকে আরও অটুট রাখতে ষড়ঋতুর হাত ধরে গ্রীষ্মের পদার্পণ। বৈশাখ আসে নতুনের বারতা নিয়ে। পুরনো বছরের যত গ্লানি আর জীর্ণতা ধুয়ে মুছে ফেলে স্বপ্নময় নতুন বছরের শুভ সূচনায় মেতে ওঠে বাঙালি প্রাণ। পালন করে, ‘নববর্ষ’। মেলা ও নানা উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষ শুরুর প্রথম দিন পায় সংস্কৃতি ও কৃষ্টির গৌরবময় ছোঁয়া।

আবহমান বাংলায় বর্ষ বরণের উৎসব এসেছে প্রকৃতি থেকে। কেননা, একটা সময় ছিল যখন নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ পালিত হতো ‘আর্তব উৎসব’ তথা ‘ঋতুধর্মী উৎসব’ হিসেবে। ফসল উত্তোলন গণনায় একসময় বিপর্যস্ত হয়েছিল মুঘল আমলের ফসলি হিসাব। অনিয়মতান্ত্রিক খাজনা পরিশোধের গরমিলে পড়ে যেত বাংলার কৃষক। তাই প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার নির্দেশ দেন সম্রাট আকবর। আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি ‘সৌর সন’ এবং আরবি ‘হিজরি সন’ এর ওপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম চালু করেন। প্রথমে এ সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিতি পায়।

বর্তমানে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখকে বাংলা নববর্ষ হিসেবে পালন করা হয়। ইলিশ পান্তা আর মঙ্গলশোভাযাত্রা যোগ করে নতুন মাত্রা। সর্বস্তরের মানুষের ঝলমলে অংশগ্রহণে জমে ওঠে বৈশাখী মেলা। এ যেন মৈত্রী-সম্প্রীতির এক উদার মিলনক্ষেত্র। বিশ্বজুড়ে বাঙালিদের কাছে তাই দিনটি একইসঙ্গে আনন্দময়, উৎসবমুখর ও রঙিন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×