বন্যায় ভাসছে স্বপ্ন সাধ

  কানিজ কবির ০৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বন্যায় ভাসছে স্বপ্ন সাধ

ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের মতো ফুঁসছে নদী, ছুটছে নদী। কোনো পিছুটান নেই। বাঁধন নেই। স্বাধীন। ঝুর ঝুর করে পাড় ভাঙছে। সাধের ঘর ভাঙছে। ফসলি ক্ষেত ভাঙছে। ইচ্ছামতো শিকড় শুদ্ধ উপড়ে নিচ্ছে গাছ।

হাট-বাজার বিলীন হচ্ছে। স্বপ্নের বীজতলা সয়লাব হচ্ছে। ঝোপ-ঝাড়ের পোকা-মাকড় ভেসে যাচ্ছে স্রোতের তোড়ে। কেঁচোগুলো মরে মরে ভেসে উঠেছে। পাখিগুলো মজা করে উড়ে উড়ে খাচ্ছে। হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে হাম্বা হাম্বা করছে গরু। ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে ছাগল ডাকছে খাবারের আশায়। কুকুরটা শুকনো জায়গা পাচ্ছে না দাঁড়ানোর। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে মানুষ ঘর ছেড়েছে। রোজগার নেই। বাঁধের উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে।

বন্যার জল এবার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। চারদিকে জলের অবাধ প্রবেশ। যেদিকে তাকানো যায় শুধু জল আর জল। কোনো ঘরের টিনের চাল জেগে আছে, আবার কোনো ঘর ডুবুডুবু। রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। হাঁটুজলে সবাই চলাচল করছে। হাঁসগুলো মনের আনন্দে ডুব-সাঁতারের খেলা খেলছে।

বন্যা আসে। দেশ ভাসে। তবে প্রতি বছরই নয়। এবার বন্যার আবির্ভাব সর্বগ্রাসী। মানুষের দুর্ভোগ ও কষ্টের কারণ। জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। উত্তরের বিভিন্ন জেলায় ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ২৮ জেলা কম-বেশি বন্যায় আক্রান্ত।

ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের এক হিসেবে দেখা গেছে, বর্তমানে ৩৪ লাখের বেশি মানুষ বন্যাকবলিত। প্রায় বছরই বন্যার কারণে লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অসংখ্য গবাদি পশু মারা যায়। মানুষও প্রাণ হারায়। নষ্ট হয় ফসলি জমি। পুকুর-ডোবা-জলাশয় ভরাট ও দখল করে বসতি গড়ে উঠছে।

উজান থেকে বেশি পলিপ্রবাহ নদ-নদীর তলদেশ ভরাট হচ্ছে। বৈরী জলবায়ুর কারণে কখনও অতি বৃষ্টিতে বন্যার সৃষ্টি করছে। নিয়মিত খনন না হওয়ার কারণে অনেক নদী খালে পরিণত হচ্ছে, তাতে জল ধারণ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত জল নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে আমাদের। ফলে বন্যা সৃষ্টি হয়ে লোকালয় গ্রাস করছে।

বিধ্বংসী বন্যা কারোই কাম্য নয়, কিন্তু সীমিত বন্যা দেশের জন্য আশীর্বাদ। বন্যার বিধ্বংসী রূপের পাশাপাশি এটি ভালো কিছুও বয়ে নিয়ে আসে। বন্যায় সব ময়লা-আবর্জনা ধুয়ে যায়। যেসব জলাশয় বৃষ্টির জলে কখনও ভরে না, সেগুলো বন্যার জলে সহজেই ভরে যায়।

নদ-নদীর নাব্যতা ফিরে আসে এবং খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ইত্যাদি জলে ভরপুর হয়ে নৌ-চলাচলে সুবিধা হয়। কৃষি জমিতে বন্যায় পলিমাটি প্রাকৃতিক জৈব সারের কাজ করে। সেচসহ বিভিন্ন কারণে জলের স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বন্যায় ভূগর্ভস্থ শূন্য জলের অভাব পূরণ করে থাকে।

লেখক : প্রকৃতিবিষয়ক লেখক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×