গুণেভরা উদ্ভিদ থানকুনি

  আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ ৩১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানী ঢাকার টাউন হল কাঁচাবাজার। শাকের দোকানে দেখা মিলল বেশ বড় বড় পাতার থানকুনি শাক। পনেরো টাকা আঁটি। দামদর করে দুই আঁটি কুড়ি টাকায় কেনা যায়। তবে থানকুনি পাতাগুলো আমাদের গ্রাম-গঞ্জে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো পাতার তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ বড়। আলাপচারিতায় জানলাম এগুলো চাষের থানকুনি। চাহিদা ও বাজারমূল্য ভালো থাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশ, ভারতসহ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় দেশের আর্দ্র এলাকায় থানকুনি ভালো জন্মে। বাড়ির ছাদ, টবসব আঙিনায়ও লাগানো যায় এই ঔষধিগাছ। বসন্তকালে থানকুনি লতার ফুল আসে এবং গ্রীষ্মকালে ফল পাকে। বীজের মাধ্যমে বা অঙ্গজ উভয়ভাবেই থানকুনির বংশবিস্তার হয়।

থানকুনি পাতা দেশের খুব পরিচিত একটি ভেষজ গুণসম্পন্ন উদ্ভিদ। Apiaceae পরিবারের এ উদ্ভিদটির ইংরেজি নাম Indian Pennywort আর ল্যাটিন নাম Centella aciatica. সংস্কৃতিতে থানকুনি ব্রাহ্মী নামে পরিচিত। অঞ্চলভেদে থানকুনি পাতাকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থানকুনি, আদাগুনগুনি, ঢোলামানি, মু­কপনী, থুলকুড়ি, মানামানি, ধুলাবেগুন, টুনিমানকুনি ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি বললে সবাই এটিকে চেনে। থানকুনি এক ধরনের বর্ষজীবী লতা। মাটির ওপর লতা বেয়ে বেড়ায় এবং লম্বা বৃন্তের ওপর গোলাকার খাঁজকাটা কিনারাযুক্ত পাতা ওপর দিকে মুখ করে থাকে।

থানকুনি ভেষজগুণে সমৃদ্ধ। থানকুনি পাতা সব ধরনের পেটের রোগের মহৌষধ। পাতা বেটে ভর্তা করে বা ঝোল করে খেলে বদহজম, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক ও পেটব্যথা দূর হয়। থানকুনির বলকারক, রুচিবর্ধক ও হজম বৃদ্ধিকারক গুণ রয়েছে। থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খেলে রক্তে উপস্থিত ক্ষতিকর উপাদান বেরিয়ে যায়। সর্দি ও জ্বরেও থানকুনি বেশ উপকারী। আলসার, হাঁপানি, চুলকানি ও অন্যান্য চর্মরোগ সারাতে থানকুনি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। থানকুনি পাতার সক্রিয় উপাদান মস্তিষ্কের কোষ সতেজ রাখতে সহায়তা করে। পুরনো ক্ষত সারাতে থানকুনি পাতা সেদ্ধ করে তার পানি দিয়ে নিয়মিত ধুলে সহজে নিরাময় হয়। নতুন ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে উপকার পাওয়া যায়। থানকুনি পাতার রস খেলে মাথা থেকে চুল পড়া কমে। দাঁতের রোগেও থানকুনি উপকারী। দুই চামচ থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে অল্প করে চিনি মিশিয়ে সাত দিন খেলে সব ধরনের কাশি ভালো হয়ে যায়। থানকুনি পাতা চামড়া মসৃণ করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে পুনর্গঠনে সাহায্য করে। তবে একাধারে থানকুনি শাক বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×