দুর্লভ কাঁকড়াভুক বেজি

  আনম আমিনুর রহমান ৩১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রীমঙ্গলে পৌঁছাতে দুপুর হয়ে যায়। হোটেলে ব্যাগ রেখে কোনোরকম খাবার খেয়ে চলে যাই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে। হাতে মাত্র তিন ঘণ্টা সময়। এরই মধ্যেই আমরা ১৬ প্রজাতির প্রজাপতি, ৬ প্রজাতির পাখি ও দু’প্রজাতির স্তন্যপায়ীর দেখা পাই। পরদিন ভোরে আবারও লাউয়াছড়া। সকাল-দুপুর কেটে যায়। বিকালবেলা গহিন বনে দেখা পাই দুর্লভ ধূসর হাঁড়িচাচা ও বিপন্ন লালমাথা ট্রগনের। ফিরতি পথ ধরি। রেস্ট হাউসের পাশের টি স্টলে চা-পানি পান করতে করতে চিন্তা করি- গতকাল অল্প সময়েও চশমাপরা হনুমান ও কমলাপেট কাঠবিড়ালির দেখা পেয়েছি, অথচ আজকে একটা স্তন্যপায়ীর সঙ্গে দেখা হয়নি। সঙ্গে থাকা কিরণকে বলি, একবার শেষ চেষ্টা করতে চাই। রেল সেতুর নিচের ছড়ার আশপাশের ঝোপ-জঙ্গলটা আবার ঘুরে দেখতে চাই। ও বলে, সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আমি বলি, আমার মন বলছে, ওখানে গেলে নতুন কিছু পাব।

আমরা এগিয়ে যাই। কিরণ আগে। একটা বড় গাছের সামনে এসে ইশারায় দাঁড়াতে বলে সে। পাশের ঝোপে কী যেন নড়ছে! ক্যামেরার লেন্সে চোখ রাখি। ঘন ঝোপের ভেতর স্পষ্ট ওর চলাফেরা লক্ষ করি। বেশ সতর্ক। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়েছে, ছড়ার দিকে আসছে না। আমি চটজলদি দু’তিনটা ছবি তুলে নেই। মিনিট দশেক অপেক্ষা করি। ও আর এদিকে আসে না। কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক তাকিয়ে চলে যায় জঙ্গলের ভেতর। এতক্ষণ যার কথা বললাম ও এদেশের দুর্লভ স্তন্যপায়ী প্রাণী কাঁকড়াভুক বেজি (Crab-eating Mongoose). বৈজ্ঞানিক নাম Herpestes urva. পরিবার Herpestidae. বর্তমানে বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত।

বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রজাতির এ কাঁকড়াভুক বেজি মোটাসোটা ও মজবুত গড়নের। দেহের দৈর্ঘ্য ৩৬ থেকে ৫২ সেন্টিমিটার। লেজ ২৫ থেকে ৩১ সেন্টিমিটার। ওজন ১.৮ থেকে ৪.০ কেজি। দেহ ও লেজের লোম লম্বা, রুক্ষ এবং উসকো-খুসকো। দেহের ওপরের লোম কালচে; আগা সাদা। মুখ থেকে বুক পর্যন্ত স্পষ্ট সাদা চওড়া ডোরা ঘাড়ের পাশ দিয়ে চলে গেছে, যা দেখতে অনেকটা গোঁফের মতো। গাঢ় বাদামি মাথায় সাদা ছোপ। দেহের নিচের লোম পশমি এবং লোমের গোড়া কালচে-বাদামি; বাকি অংশ হালকা-বাদামি। লেজের লম্বা লোমগুলো হালকা-বাদামি থেকে ঘিয়ে। লেজের আগায় লোম নেই। পা ও পায়ের পাতা সাদা-কালচে।

কাঁকড়াভুক বেজি মূলত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি বনের বাসিন্দা। তবে শেরপুরের পাতাঝরা বন ও টেকনাফের উপকূলীয় গরান বনেও দেখা যায়। মার্চ থেকে জুলাই মাস এদের প্রজননকাল। স্ত্রী কাঁকড়াভুক বেজি প্রায় ৬৩ দিন গর্ভধারণের পর সচরাচর দুটো বাচ্চা প্রসব করে।

লেখক : বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী, প্রাণিচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×