হেমন্তে ছাতিম ফুল

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোকারম হোসেন

ছাতিমের স্থানীয় অন্যান্য নাম : ছাতিয়ান, ছাইত্তান

বৈজ্ঞানিক নাম : Alstonia scholaris

ফুল ফোটার মৌসুম : শরৎ-হেমন্ত

পরিবার : Apocynaceae.

জন্মস্থান : ভারত, চীন ও মালয়েশিয়া

বিস্তৃতি : ঢাকায় রমনা পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ বিভিন্ন পার্ক-উদ্যান এবং প্রায় সারা দেশ।

ঢাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বেশ কয়েকটি ছাতিম গাছ চোখে পড়লেও নির্দিষ্ট করে দেখতে হলে যেতে হবে রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, চামেরি হাউস ও আবদুল গণি রোডে। বাক্স-প্যাকিং ও দেশলাইয়ের কাজে ব্যবহার্য হওয়ায় গ্রামে শিমুল গাছের মতো এ গাছও নির্বিচারে কাটা পড়ছে। ছাতিমের আকার ও গড়নের কিছু বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। সরল উন্নত কাণ্ড কিছুদূর ওপরে হঠাৎ শাখা-প্রশাখার একটি ঢাকনা সৃষ্টি করে আবার একলাফে একে ছাড়িয়ে অনেক দূর উঠে যায় এবং এমনি পত্রঘন কয়েকটি চন্দ্রাতপের স্তর সৃষ্টি করে। এসব কারণে অনেক দূর থেকেই ছাতিম গাছ শনাক্ত করা যায়। ১৫ থেকে ২০ মিটার উঁচু, চির সবুজ দুধকষভরা সুশ্রী গাছ। পাতা প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার লম্বা, মসৃণ, ওপর উজ্জ্বল সবুজ, নিচ সাদাটে। শরতের শেষে গাছ ভরে গুচ্ছবদ্ধ, তীব্রগন্ধী, সবুজ-সাদা ছোট ছোট ফুল ফোটে। ফল সজোড়, থোকায় থোকায় ঝুলে থাকে। আদি নিবাস ভারত, চীন ও মালয়েশিয়া। A.

macrophylla জাতের ছোট ছাতিম বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জন্মে। ফুল সাদা ও আকারে কিছুটা বড়। কাঠ সাধারণ আসবাবে ব্যবহার্য এবং উৎকৃষ্ট জ্বালানি। গাছের ছাল ও আঠা জ্বর এবং হৃদরোগ, হাঁপানি, ক্ষত, আমাশয় ও কুষ্ঠে উপকারী। এই অঞ্চলে ছাতিম পবিত্রতার প্রতীক হলেও ইংরেজি নাম ডেভিলস ট্রি, মানে অশুভ আত্মা বা শয়তানের বৃক্ষ কেন হল তা বলা মুশকিল। এ গাছের সংস্কৃত নাম সপ্তপর্ণী।

লেখক : প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক, সাধারণ সম্পাদক, তরুপল্লব