সারস শামুকখোল

  আ ন ম আমিনুর রহমান ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টির কারণে মোহনপুরের বিলে ভালোভাবে ছবি তোলা হল না। অগত্যা রাজশাহী শহরে চলে এলাম। দুপুর গড়িয়ে বিকাল। বৃষ্টি থেমে গেছে। রোদ উঁকিঝুঁকি মারছে। দুপুরের খাবার খাওয়া হয়নি। কিন্তু খাবার খেতে গেলে কাজ শেষ করা হবে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে জেলখানার পাশের বড় কড়ই গাছগুলোর দিকে গেলাম। সাদা-কালো বড় বড় পাখি। আমি আর কায়েস মিলে ১৩টি বড় গাছে প্রায় চারশ বাসা গুনলাম। একই জায়গায় এত বাসা!

সাদা-কালো পাখিগুলো এ দেশের সচরাচর দৃশ্যমান আবাসিক সারস শামুকখোল। শামুকভাঙা, শামুককেচা বা শামুকগুজা নামেও পরিচিত। ইংরেজি নাম Asian Open-bill বা Open-bill Stork. বৈজ্ঞানিক নাম Anastomus oscitans. বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের আবাসিক পাখি এরা। বর্তমানে এ দেশে এদের প্রচুর সংখ্যায় দেখে গেলেও একযুগ আগেও খুব একটা দেখা যেত না। মাত্রাতিরিক্ত শিকারের কারণে আশির দশকে এদের সংখ্যা একেবারেই কমে গিয়েছিল। মানুষের সচেতনতায় বর্তমানে সংখ্যা বাড়লেও এখনও শিকার চলছে। এ ছাড়া আরেকটি বড় সমস্যা হল এদের খাদ্যাভাব।

শামুকখোলের দেহের দৈর্ঘ্য ৬৮ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার। ওজন ২.৩ থেকে ৪.৪ কেজি। স্ত্রী ও পুরুষ দেখতে একই রকম। প্রজননকালে এদের মাথা, গলা, পিঠ, বুক ও ডানার ওপরের পালক ধবধবে সাদা দেখায়। কাঁধ-ঢাকনি, ডানার প্রান্ত-পালক, মধ্য-পালক ও লেজ হয় সবুজে কালো। চোখ সাদা, ধূসর বা হালকা বাদামি। লম্বা চঞ্চু কালচে-বাদামি, চঞ্চুর মাঝখানে ফাঁক। চোখের চারদিকে পালকহীন চামড়া থাকে। পা ও পায়ের পাতা গোলাপি। প্রজননকাল ছাড়া অন্য সময় এদের পালকের রং ধূসরাভ-সাদা এবং পা অনুজ্জ্বল পাটকিলে। অপ্রাপ্তবয়ষ্ক পাখির দেহ ধোঁয়াটে-বাদামি, কাঁধ-ঢাকনি কালচে-বাদামি, পা অনুজ্জ্বল এবং ওপর ও নিচের চঞ্চুর মাঝখানে ফাঁক কম। ছানার চঞ্চুর মাঝখানে ফাঁক থাকে না।

শামুকখোল দিবাচর, জলচর ও ভূচারী পাখি। সচরাচর ছোট বা বড় ঝাঁকে জলাশয়ে দেখা যায়। অগভীর পানিতে হেঁটে হেঁটে খাবার খোঁজে। মূল খাবার শামুক হলেও অনেক সময় ব্যাঙ, মাছ, কাঁকড়া, ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদিও খায়। ছোট সবুজ শামুক এদের প্রিয় খাবার। সচরাচর দুই ঠোঁটের মাঝখানে শামুক রেখে ”ঞ্চুর চাপে খোলস ভেঙে শামুকের নরম মাংস খায়। অনেক সময় শামুক মুখে উড়তেও দেখা যায়। জুন থেকে সেপ্টেম্বর এদের প্রজননকাল। এ সময় এরা গোঙানির মতো শব্দ করে ও চঞ্চু দিয়ে আওয়াজ করে। উঁচু গাছের ডালে মাচানের মতো বাসা বানায় ডালপালা দিয়ে। কোনো কোনো পুরুষ পাখি অনেক সময় দুটি স্ত্রীর সঙ্গে প্রজনন করে এবং দুটি স্ত্রী একই বাসায় ডিম পাড়ে। ডিমের রং সাদা। সংখ্যা ৩ থেকে ৪টি। স্ত্রী-পুরুষ উভয়েই ডিমে তা দেয়। ডিম ফোটে ২৭ থেকে ২৯ দিনে। ছানা ৩৫ থেকে ৩৬ দিনে উড়তে শেখে। আয়ুষ্কাল ১২ থেকে ১৩ বছর।

লেখক : অধ্যাপক, বন্যপ্রাণী প্রজনন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র, গাইনিকোলজি, অবস্টেট্রিক্স অ্যান্ড রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ বিভাগ ও পরিচালক (বহিরাঙ্গন), বশেমুরকৃবি, সালনা, গাজীপুর

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×