সিলেটের কাঁটাবাদাম

  শিমুল খালেদ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আমরা চিনতাম হিংরা নামে। যদিও এর প্রচলিত নাম ‘কাঁটাবাদাম’। ইংরেজি নাম-Chestnut. কাঁটাবাদামের আদিনিবাস আমেরিকা। হাজার হাজার মাইল পেরিয়ে কেমন করে সিলেটের পাহাড়-টিলাময় অঞ্চলের বংশবিস্তার করেছে, সেটা এক রহস্য বটে। কাঁটাবাদামের বিস্তারিত জানতে গিয়ে জানা যায়, এক সময় উত্তর পূর্ব আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে রাজত্ব ছিল মিষ্টি স্বাদের মাংসল আমেরিকান জাতের চেস্টনাটের। হঠাৎ করেই সেই আদি প্রজাতির কাঁটাবাদাম গাছ মরে ক্রমশ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যেতে থাকে। পরে জানা যায় তার কারণ এক জাতের ক্ষতিকর ছত্রাকের আক্রমণ, যা ধরা পড়ে ১৯০৪ সালে। বর্তমানে সেই আমেরিকান চেস্টনাটের জায়গা দখল করেছে তার জাতভাই চীনা জাতের চেস্টনাট। কাঁটাবাদাম গবেষণা নিয়ে আমেরিকায় একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছিল, যার নাম- আমেরিকান চেস্টনাট ফাউন্ডেশন।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রভাষক খালেদ রাজ্জাক জানান, তার টিলাবাড়ির বাগানে বেশ কিছু কাঁটাবাদাম গাছ আছে। এক সময় তাদের বাড়িতে কাঁটাবাদামের অনেক গাছ ছিল। পাকার সময়ে বাড়িতে উৎসব উৎসব ভাব থাকত। শতশত টিয়া পাখি কলকাকলিতে মাতিয়ে রাখত বাড়ি। সঙ্গে কাড়াকাড়িতে যোগ দিত গ্রামের ছেলেমেয়ে। টিয়ার ঝাঁক এক-দুই দিনেই সাবাড় করে ফেলত পুরো বাগানের সুস্বাদু বাদাম। ফল পাড়ার পর নিজেদের জন্য রেখে আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে পাঠানো হতো। এখন অবশ্য গাছের সংখ্যা কমে গেছে। টিয়া পাখির দলও আর আগের মতো আসে না। কাঁটাবাদাম গাছ ৪০ থেকে ৫০ ফুটের মতো উঁচু হয়। আমেরিকায় ৯৮ ফুট উঁচু হওয়ার রেকর্ডও শোনা যায়। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বুনোবৃক্ষ চরিত্রের কাঁটাবাদামের গাছ অনায়াসে সিলেট অঞ্চলের টিলাভূমিতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মাচ্ছে। গাছ দ্রুত বাড়ে এবং বাদামও ধরে অনেক। টিয়া পাখি ছাড়াও কাঠবিড়ালীর মুখ থেকে বাদাম রক্ষা করা কঠিন। কাঁটার বলের ভেতর থেকে কীভাবে যেন এরা খুব সহজে বাদাম খেয়ে নেয়। ভিটামিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেটসহ পুষ্টিগুণে ভরপুর কাঁটাবাদাম শরীরে শক্তি জোগানের পাশাপাশি ত্বক সুস্থ রাখে,রক্তে লোহিত কণিকা বৃদ্ধি করে এবং মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি বৃদ্ধিতে অবদান রাখে।

কাঁটাবাদাম গাছ বনজ গাছের মতো আপনা-আপনি বংশবিস্তার করে। হেমন্তের মাঝামাঝি গাছে ফুল আসে। ফল পাকতে পাকতে শরৎকাল। গাছের কাঠ প্রচণ্ড শক্ত, মজবুত আর টেকসই বলে এ গাছ সিলেটে বিলুপ্তপ্রায়। কাঠ পলিশ করা যায় না বলে এ গাছের কাঠ দিয়ে ফার্নিচার হয় না। সিলেটের ঐতিহ্য কাঁটাবাদামের গাছ ক্রমশ প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বিলুপ্তির হাত থেকে সংরক্ষণ করতে দরকার সবার সচেতনতা।

লেখক : প্রকৃতিবিষয়ক লেখক

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত