বিলুপ্তপ্রায় পাহাড়ি বনছাগল

  আ ন ম আমিনুর রহমান ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক সময় চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি বনে বিচরণ করত। নির্বিচারে শিকার আর বনভূমি উজাড়ের কারণে বর্তমানে সংখ্যা একবারেই নগণ্য। গত তিন-চার দশকে এদের আবাসস্থল প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। মৌলভীবাজারের ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা থেকে উদ্ধার করা দুটি প্রাণীকে ২০১১ সালে ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে প্রথম দেখি।

বান্দরবানের প্রত্যন্ত সাঙ্গু-মাতামুহুরী উপত্যকার স্থানীয় মুরংদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করছে ‘ক্রিয়েটিভ কনজারভেশন অ্যালায়েন্স’ (সিসিএ)। কদিন আগে আলিকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনের দুর্গম ইয়ংনং পাড়ার কয়েকজন লোক মুরং ভাষায় ‘নিয়া’ নামে একটি বিরল স্তন্যপায়ী প্রাণীর ছানা ধরে এনে চড়া দামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। সিসিএ-এর প্যারাবায়োলজিস্টরা এতে বাধা দেন। কোনো কাজ না হওয়ায় তারা মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার সিজার রহমানের কাছে যান। সিজার বাচ্চাটি উদ্ধারে বন বিভাগের সহায়তা চান। তাদের পরামর্শে লামার ডিএফও এসএম কায়সারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২৩ জানুয়ারি রেঞ্জার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনবিভাগের কর্মীরা সিসিএ-এর সদস্যদের সহযোগিতায় ছানাটি উদ্ধার করেন। মা ছাড়া ১১ কেজি ওজনের দুমাস বয়সী ছানাটিকে ডুলাহাজরা সাফারি পার্কের তত্ত্বাবধানে রাখ হয়। উদ্ধার হওয়া এ ছানাটি হল বিরল ও বিপন্ন বনছাগল বা পাহাড়ি ছাগল। ইংরেজি নাম- সেরাও, রেড সেরাও বা মেইনল্যান্ড সেরাও। গোত্র- বোভিডি; বৈজ্ঞানিক নাম- Capricornis rubidus. বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় এদের দেখা যায়। মাথা বড়, মুখ লম্বাটে ও ঘাড় মোটা। খাড়া ও ছুঁচালো কান দুটো গাধার কানের মতো। কালো শিং দুটো পেছন দিকে বাঁকানো; আগা চোখা। পা শক্তপোক্ত। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম। দেহের দৈর্ঘ্য ১.০ থেকে ১.১ মিটার। পুরুষ ৭০ থেকে ৭৫; স্ত্রী ৫০ থেকে ৫৫ কেজি। দেহের লালচে-বাদামি পশমগুলো রুক্ষ ও লম্বা। লেজ ছোট ও রোমশ। চোখের চারদিক ও খুরের ওপরটা সাদাটে। খুর কালো। এরা ঘন ঘাস-লতাপাতাপূর্ণ খাড়া পাথুরে পাহাড়ে বাস করে। পাহাড়ের খাড়া ঢালে একাকী বা ছোট দলে ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্যা বা ভোররাতে বিচরণ করে। ঘাস, বাঁশের কচি পাতা ও শেওলা খায়। দিনে পাহাড়ের চূড়ার বড় পাথরের আড়ালে বা গুহায় বিশ্রাম নেয়। অক্টোবর-নভেম্বর প্রজননকাল। বনছাগী ৮ থেকে ৯ মাস গর্ভধারণের পর পাহাড়ের গুহা বা পাথরের ফাঁকে একটি ছানা প্রসব করে। আয়ুষ্কাল জানা নেই। বিলুপ্তপ্রায় বনছাগল সংরক্ষণে এখনই কোনো পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই এরা এ দেশ থেকে হারিয়ে যাবে।

লেখক : বন্যপ্রাণী ও পাখি বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত