উদ্ভিদ উদ্যানে নিশাচর সরালি

প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ড. আ ন ম আমিনুর রহমান

নিশাচর সরালি

মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদতাত্ত্বিক উদ্যানে আমরা দুর্লভ চন্দনা টিয়া খুঁজছি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর উদ্যানের উত্তর-পশ্চিমের গামারি গাছগুলো থেকে ‘ক্রি...অ্যার... ক্রি... অ্যার...’ ডাক কানে আসে।

ওপরে তাকাতেই ঘন পাতার আড়ালে সবুজ পাখিটাকে দেখতে পাই। ঝটপট কয়েকটা ছবি তুলে পাশের লেকে ডাহুক পাখি খোঁজায় মন দিই। ক্যামেরার ভিউ ফাইন্ডারে চোখ রেখে খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম কচুরিপানা, টোপাপানা ও বড় জলজ ঘাসের ফাঁকে বিশ্রামরত ১৪ থেকে ১৫টি ছোট হাঁসজাতীয় পাখি।

৭ থেকে ৮ বছর আগে চিড়িয়াখানার লেকে এদের দেখেছিলাম। এরা দেশের পরিচিত আবাসিক গেছোহাঁস। অবশ্য সরালি বা ছোট সরালি হাঁস নামেই বেশি পরিচিত। ইংরেজি নাম Lesser Whistling Duck. বৈজ্ঞানিক নাম Dendrocygna javanica.

সরালির দেহের গড় দৈর্ঘ্য ৪২ সেন্টিমিটার। গড় ওজন ৫০০ গ্রাম। এরা কালচে-বাদামি ও ধূসরাভ পাখি। হাঁসা ও হাঁসি দেখতে একই রকম। প্রাপ্ত বয়স্ক পাখির পীতাভ মাথার চাঁদি, ঘাড়, ঘাড়ের ওপরটা ধূসর-বাদামি।

গলা বড় সরালির চেয়ে ছোট। পিঠে আঁশের মতো দাগ আছে। ওড়ার পালক কালচে। ডানার সামনের দিক, কোমর ও লেজ-ঢাকনি উজ্জ্বল তামাটে। বগল হালকা হলদে। বুক, পেট ও তলপেট তামাটে।

চোখ ফ্যাকাশে বাদামি ও চোখের পাতা উজ্জ্বল হলুদ। ঠোঁট কালচে-ধূসর। পা ও পায়ের পাতা হালকা নীলচে। আঙুলের পর্দা ও নখ কালচে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক পাখির পালক অনুজ্জ্বল ও দেহতল ধূসরাভ-পীত।

সরালি দৃশ্যমান আবাসিক পাখি। এরা হাওর, বিল, পুকুর ও ধানক্ষেতে বিচরণ করে। সচরাচর বড় বড় ঝাঁকে থাকে। নিশাচর এই পাখিগুলো রাতে জলমগ্ন জমিতে মাথা ডুবিয়ে, হেঁটে বা সাঁতার কেটে খাবার খোঁজে।

জলজ আগাছা, শস্যদানা, মাছ, পোকামাকড় ইত্যাদি খায়। দিনের বেলা গাছে, মাটিতে বা পানিতে বিশ্রাম নেয় ও ঘুমায়। জুন থেকে অক্টোবর এদের প্রজননকাল।

এ সময় গাছের গর্ত, নলবন, উলুবন, ক্ষেতের আইল বা জলা সংলগ্ন ঘাসবনে বাসা বানিয়ে ৭ থেকে ১২টি ডিম পাড়ে। হাঁসি একাই ডিমে তা দেয়। হাঁসা বাসা পাহারা দেয়। ডিম ফোটে ২২ থেকে ২৪ দিনে। ছানা উড়তে শেখে ৩৩ থেকে ৩৫ দিনে। এদের আয়ুষ্কাল ৫ থেকে ৬ বছর।

লেখক : বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী ও প্রাণিচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ, বন্যপ্রাণী প্রজনন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র, বশেমুরকৃবি, সালনা, গাজীপুর