শীতল ছায়ার বটগাছ

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এসএম মুকুল

বটগাছ আশ্রয় বা ভরসার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। সম্ভবত এ কারণেই বটগাছের সঙ্গে পরিবারের প্রধানের তুলনা করা হয়। আবহমান বাংলার গ্রামীণ জনপদে পথের ধারে, নদীর পারে, হাটে অথবা জনবিরল স্থানে ডাল-পাতায় ভরা বটগাছ পথিকের বিশ্রামের জায়গা। মানুষ, পাখি, কীটপতঙ্গের অকৃত্রিম বন্ধু। বটগাছ ঘিরে জমে ওঠে মানুষের আড্ডা, বিনোদন, সভা-সমাবেশ, মেলা ও হাটবাজার। সময়ের বিবর্তনে বটগাছের ঐতিহ্য অনেকটা হারিয়ে গেলেও গ্রামীণ জনপদে এখনও টিকে আছে অনেক শতবর্ষী বটগাছ ও গাছ নিয়ে কত শত কল্পকাহিনী।

বটগাছ ঘিরে আছে আমাদের শত-সহস্র বছরের ঐতিহ্য। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে গাছটি নমস্য। বিশাল আকৃতির বটগাছের জন্মস্থান আমাদের বঙ্গভূমি। বৈজ্ঞানিক নামের শেষাংশে তাই benghalensis শব্দটা দেখা যায়। বটগাছ বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম। ভূমিক্ষয় রোধ করতে বটগাছের জুড়ি নেই। সালোক-সংশ্লেষণের সময় অন্য গাছের চেয়ে বাতাস থেকে বেশি কার্বনডাই অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ফিরিয়ে দেয়। মূল গাছ এবং গাছের ঝুরির শিকড় অনেকটা ছড়িয়ে পড়ে চারপাশের মাটি আঁকড়ে রাখে। তুলনামূলকভাবে এ গাছে পাতা বেশি। বসন্ত ও শরৎকালে নতুন পাতা গজায়। কচি পাতার রং তামাটে। বটগাছের মঞ্জুরির গর্ভে খুবই ছোট এবং ফলের মতোই গোলাকার ফুল লুকানো থাকে। একলিঙ্গিক ফুল পরাগায়ণের জন্য বিশেষ জাতের পতঙ্গের ওপর নির্ভরশীল। গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীতে বটের ফল পাকে। পাখি ফল খেয়ে বীজ ছড়িয়ে দেয় দালানের কার্নিস, পুরনো দালানের ফাটল ও অন্য কোনো গাছের কোটরে। এরপর সহজেই অঙ্কুরিত হয়। সম্ভবত এ কারণে পরগাছা হিসেবেও বটগাছের পরিচিতি আছে। উপযুক্ত পরিবেশে একটি বটগাছ ৫শ’ থেকে ৬শ’ বছর বাঁচতে পারে।

আয়ুবের্দ মতে, বটগাছের ছাল মধুমেহ রোগ সারাতে কাজে লাগে। গাছের কষ দাঁতের যন্ত্রণায় খুব কাজ দেয়। বাকলের গুঁড়া, গোলমরিচ, ক্ষাদিরা দিয়ে দাঁতের পেস্ট তৈরি করলে দাঁতের পাইরিয়াসহ অনেক রোগ সেরে যায়। বহুমূত্র রোগে বটের বিচির গুঁড়া কাজে লাগে। বটের ঝুড়ির গুঁড়া তাল মিছরি ও দুধ দিয়ে খেলে ডাইরিয়া ভালো হয়ে যায়।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের মতে, একটি বটগাছ কাটার সঙ্গে সঙ্গে তিন শতাধিক প্রজাতির আবাস নষ্ট হয়। তাই আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে পরিবেশবান্ধব বটগাছ সংরক্ষণ ও রোপণ করতে হবে।

লেখক : কলাম লেখক ও উন্নয়ন গবেষক