দুর্লভ ফুল কানাঙ্গা

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোকারম হোসেন

স্থানীয়ভাবে অন্য কোনো নাম নেই।

বৈজ্ঞানিক নাম : Cananga odorata

ফুল ফোটার মৌসুম : প্রায় সারা বছর

পরিবার : Annonaceae

জন্মস্থান : আফ্রিকা

বিস্তৃতি : ঢাকায় বলধা গার্ডেন ও বোটানিক্যাল গার্ডেন

ফুলটি আফ্রিকায় সহজলভ্য হলেও আমাদের দেশে বেশ দুর্লভ। গড়নের দিক থেকে কাঁঠালিচাঁপার সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। এ গাছের পৌষ্পিক ঐশ্বর্য উপভোগ করতে হলে যেতে হবে বলধা গার্ডেনে। ফুল দেখে একেবারে আনকোরা কোনো ফুল মনে হতে পারে! এমন মনে হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ বলধা গার্ডেন ও বোটানিক্যাল গার্ডেন ব্যতীত অন্য কোথাও এ গাছ দেখা যায় না। বলধা বাগানের সাইকি কিংবা সিবিলি যে কোনো অংশেই পাওয়া যাবে কানাঙ্গা ফুল। তবে সিবিলি বাগানে পশ্চিম পাশের দেয়াল লাগোয়া একসারি গাছ আছে। এ্যানোনেসি পরিবারের এ গাছটি কখন কীভাবে বলধা গার্ডেনে এসে থিতু হয়েছে সেসব ঐতিহাসিক সূত্র এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে নিশ্চিত অন্যান্য ভিনদেশি গাছপালার সঙ্গে আফ্রিকার এ উদ্ভিদ প্রজাতিটিও জমিদারের আমলে এখানে নিয়ে আসা হয়।

কানাঙ্গা ফুলের গাছটি গুল্ম শ্রেণীর মধ্যে আদর্শ। উচ্চতায় ৮ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। অজস্র ডালপালায় ঝোপাল। শীর্ষভাগ সবচেয়ে বেশি নিবিড়। নতুন পাতা ক্ষুদ্র, রোমশ, একক, লম্বায় ৭ থেকে ১২ সেন্টিমিটার, ডিম্বাকার ও মসৃণ। ফুল একক ও সুগন্ধি। প্রথমে রং সবুজাভ থাকলেও পরে অনুজ্জ্বল গোলাপি রং ধারণ করে। তখন অনেকটা পরিণত কাঁঠালিচাঁপার মতো দেখায়। লম্বাটে পাপড়ির সংখ্যা দুই সারিতে ৬ থেকে ৭টি, বৃত্যাংশ ৩টি, শীর্ষ বাঁকানো, পুংকেশর অনেক। প্রস্ফুটনকাল মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। যে কোনো বাগানেই মানানসই। বংশবৃদ্ধি গুটি কলমে। জন্মস্থানে গাছের পাতা ও মূল থেকে বিভিন্ন রোগের ওষুধ বানানো হয়।

লেখক : প্রকৃতিবিষয়ক লেখক, সম্পাদক-তরুপল্লব