বিলুপ্ত প্রায় উদ্ভিদ গান্ধি গজারী

  মো. মিজানুর রহমান ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গান্ধি গজারী পাতাঝরা মাঝারি আকারের ধীরবৃদ্ধিসম্পন্ন বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ। কাণ্ড সোজা ও গোলাকার। কচি কাণ্ড কোমল প্রকৃতির। বাকল রুক্ষ, পুরু, খাঁজযুক্ত, লম্বালম্বিভাবে ফাটা। এর পুরুত্ব ১.৫ থেকে ২.৫ সেন্টিমিটার, রং গাঢ় ধূসর বাদামি। উচ্চতায় ১১ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পাতা একান্তর, ডিম্বাকৃতি, আগা চোখা, রং গাঢ় সবুজ, শিরাগুলো স্পষ্ট, তবে কচি পাতার রং হালকা সবুজ এবং উভয় পিঠ রেশমি চুল সদৃশ লোমে আবৃত। কাণ্ড বা পাতার কক্ষ থেকে পুষ্পদণ্ড বের হয়। পুষ্পদণ্ডের মাথায় গোল কলি থাকে। একটি গুচ্ছে অনেক ফুল থাকে। গান্ধি গজারীর পুষ্পদণ্ড, কলি, ফুল সবই রোমশ। দুই স্তরবিশিষ্ট পাপড়ি। প্রত্যেক স্তরে পাপড়ির সংখ্যা তিনটি। অনেকে বাইরের পাপড়িকেও বৃতি বলে। মূল পাপড়ি বড়। এগুলো খাটো, প্রায় ১.৫ মিলি লম্বা। গর্ভকেশরও অনেক, ২ মিলি লম্বা। ফুল আসে মার্চ-মে মাসে। পুষ্পদণ্ড ও ফুলের রং হালকা সবুজাভ হলুদ। গান্ধি গজারীর স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা আলাদা গাছে হয়, আবার অনেক সময় একইসঙ্গে স্ত্রী ও পুরুষ ফুল হয়ে থাকে। ফুল গুচ্ছাকারে থাকে ফলও তেমনি। কাঁচা ফলের রং সবুজ হলেও পাকা ফল নীলাভ লাল। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফল পাকে। ফল খাওয়া যায়। একটি ফলে ১ থেকে ২টি বীজ থাকে। বীজ থেকেই বংশবিস্তার।

গান্ধি গজারী দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় পাওয়া যায়। এমনকি হিমালয়ের ৪০০ থেকে ৭০০ মিটার উচ্চতায়ও জন্মে। আমাদের দেশে গান্ধি গজারী বিলুপ্তপ্রায় গাছের তালিকায় স্থান পেয়েছে। গাজীপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, শেরপুর ও উত্তরবঙ্গে পাতাঝরা শালবন এলাকায় অল্প সংখ্যক গান্ধি গজারী গাছ দেখা যায়। ঢাকার মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেনে কয়েকটি গাছ আছে।

গান্ধি গজারীর কাঠের রং অনেকটা হলুদ। কাঠ শক্ত, মজবুত ও টেকসই। এ কাঠ দিয়ে ঘরের খুঁটি, কৃষি সরঞ্জাম, নৌকার বৈঠা, আসবাবপত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়। এক সময় এই কাঠ দিয়ে গাড়ির চাকা তৈরি হতো।

বাংলা নাম গান্ধি গজারী। ইংরেজি নাম Velvety Miliusa, বৈজ্ঞানিক নাম Miliusa velutina. আরও কিছু আঞ্চলিক নাম আছে, যেমন- গোব্রা শাল, পোরো শাল (দিনাজপুর), চাপাতি (রংপুর), অমেয় (সাঁওতাল), বর সামফল (গারো) ইত্যাদি।

লেখক : প্রকৃতিবিষয়ক লেখক

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.