স্বামী-স্ত্রীর ঘরসংসারে দু’জনের বোঝাপড়া

  হাসান সাইদুল ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রেম করে হোক আর পারিবারিকভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই হোক, বিয়ের পর বর-কনের মধ্যে সখ্যতা তৈরি হয়। সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেয়ার পরিপূরক হয়ে যায় স্বামী-স্ত্রী। যার সঙ্গে একত্রে এক ছাদের নিচে সারা জীবন থাকা ও বাঁচার ইচ্ছা তবে সে কখন কেনবা ক্ষুদ্র কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হবে? কেনবা বাধা মনে হবে? বর্তমানে পুরুষের মনে এই ধারণা বিরাজ করে, সব ক্ষেত্রে সব কাজে পুরুষ তার কর্তৃত্ব চায়। স্বামী হয়তো ভুলে যায় তার স্ত্রীর স্বাধীনতা ও স্বাধীন সত্তার কথা। তার অনুমতি ছাড়া কিছু করা যাবে না। আমি যা বলব তাই, এমন কিছু বুঝানো ঠিক না। আবার অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রীও কম করেন না। অনেক কিছুকে ব্যক্তিগত মনে করেন। ব্যক্তিগত মানে স্বামীও তার কিছু কিছু বিষয় জানতে পারবে না, নাক গলাতে পারবে না এমন। যার ফলে স্বামী বা স্ত্রী অথবা উভয়ের একগুঁয়েমিতে সংসারে অশান্তি আসে অনেক সময় ভেঙেও যায় সাজানো সংসার।

স্বামী-স্ত্রী দুজনের মাঝে ব্যক্তি কি থাকবে? যার সঙ্গে নিয়মিত একসঙ্গে থাকা হয়। যেখানে তৃতীয় কেউ থাকে না, আসে না। স্বামী নিজের শ্রমের বিনিময়ে সংসারের খরচ জোগান বাবা-মায়ের পাশাপাশি স্ত্রীর জন্যও। স্ত্রীও তার বাবা-মাকে ছেড়ে একলা সারা জীবন যার পাশে থেকে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করেন। স্বামীর একটু কিছু হলেই অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন তার বা উভয়ের মাঝে তবে কিসের ব্যক্তিগত?

স্বামী বলেন, আমার সম্মতি ছাড়া কিছু করতে পারবে না। স্ত্রী বলেন, তোমার কাছে সব কিছুতে কেন অনুমতি নিতে হবে? একটা সময় একজন আরেকজনের ওপর হিংস্র হয়ে ওঠেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে। অনেক সময় বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটে থাকে এ থেকে।

মারিয়া-পরশ দম্পতি নিজেদের খুব সুখী সংসারি মনে করেন। মারিয়া বলেন, আমাদের মাঝে গোপনীয় কিছু নেই। ওর ফেসবুক আমি চালাই। ওর ফোন এলে মাঝে মাঝে আমি ধরি। কোনো সমস্যা হয়নি আজও। ওকে ফেসবুকে কিছু লিখলে আমি মাঝে মাঝে প্রতিউত্তর দেই। পরশও তেমন করে আমার ফেসবুক বা ফোনের ক্ষেত্রে। আর আমরা যা কিছু করি উভয়ের মাঝে বোঝাপড়া করে। আমি একটা কাজ শুরু করব বা কোথাও যেতে চাইব এটাতে সে মন খারাপ করলে আমি আর সামনে এগোই না। তার মন খারাপের কারণটাও জানতে চাই সে বলেও। এতে আমি আমার ভুল বুঝতে পারি। আবার তার ক্ষেত্রেও তেমন হয়। সব মিলিয়ে আমরা খুব সুখী।

সাংবাদিক তাহমিনা বলেন, সাংবাদিকতা পেশাটা আমার পরিবারের অনেকেই পছন্দ করতে চায় না। আমার সখ লেখালেখি করা। রাহাত আমাকে উৎসাহিত করে। আমার প্রতিটা কাজে তার সম্মতি আছে। আমার আর তার ভেতর গোপনীয় বলতে কিছু নেই। ও আমার সুখ-দুঃখের সাথী তার কাছে কেন কোনো কিছু গোপন রাখব? সেও কোনো কিছু গোপন রাখে না। সব কিছু বলে এবং কখনও কোনো কাজের পরামর্শও চায়। আবার কোনো কাজের ভুল হলে আমাকে বলে একটু হালকা হয়।

বিয়ের আগে ফেসবুক চালাত কেয়া। বিয়ের পর স্বামী শামীম তার কাছে ফেসবুকের পাসওয়ার্ড চাইতেই কেয়া রেগে আগুন! আমি কেন তোমাকে পাসওয়ার্ড দিব? আমার অনেক কিছু আছে যা তোমাকে বলা যাবে না। শামীম এক সময় বলে ওঠে, ও তাহলে আমি তোমার স্বামী না? যে আমার থেকেও অনেক কিছু গোপন রাখছ? তাহলে তোমার সঙ্গে থাকা আমার ঠিক হবে না।

একমাত্র ফেসবুক চালানোকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশে বহু সুখের সংসার ভেঙে যাওয়ার প্রমাণ আছে। যদিও কেয়া পরে তার সব কথা শামীমকে বলে দিয়েছে। কিন্তু ফেসবুককে প্রাধান্য দিয়ে এখনও এক ছাদের নিচে থাকলেও এক সঙ্গে থাকে না টুকু ও তুহা দম্পতি। টুকু তার স্বামী তুহাকে ফেসবুকে ডুকতে দিবে না। তুহা বারণ করা সত্ত্বেও ফেসবুক চালায়।

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে কোনো কিছু গোপন থাকবে কেন? স্বামী-স্ত্রীর যে কোনো কাজে উভয়ের সম্মতি থাকলে বা সমস্যা কোথায়? মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আহমেদ হেলাল বললেন, অনুমতি নেয়ার ব্যাপারটা যে ভালো লাগেনি, স্বামীকে স্পষ্টভাবে এটা বুঝিয়ে বলতে হবে স্ত্রীর। এটা বলার জন্য তিনি সুসম্পর্কের সময়টা বেছে নিতে পারেন। দৃঢ় অথচ শান্তভাবে তিনি এই ভালো না লাগার কারণ ও মতামত স্বামীকে জানাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনোভাবেই উত্তেজিত হওয়া যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। স্বামী আত্মরক্ষার নামে নিজের ভুলটাই আঁকড়ে ধরে সেটার পক্ষে সাফাই গাইতে পারেন। ব্যক্তি হিসেবে নিজের চাওয়ার কথা নিঃসংকোচে স্বামীকে বলতে হবে। এতে বোধোদয় হয়ে স্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিখবেন স্বামী।

স্বামী ও স্ত্রী উভয় কাউকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। তার কাছে কেন সম্মতি চাইব? তাকে কেন সব বলব? এসব ভাবনা পরিহার করাই ভালো ও উত্তম। কারণ স্বামী-স্ত্রী উভয় উভয়ের ঢালস্বরূপ। উভয়ের মাঝে সব কাজের সম্মতি চাওয়া বা আদায় করে নেয়া দোষের কিছু না। সুখী হতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। সংসার জীবনে সুখের মূল হবে সম্মতি। দু’জনের মধ্যে বোঝাপড়া। কাউকে বড় করে বা কাউকে ছোট করে ভাবার বা দেখার কোনো অবকাশ নাই। বিয়ের পর যাবতীয় সন্দেহ দূর করুন। একজন আরেকজনকে বোঝার চেষ্টা করুন। স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে গোপন কিছু থাকার কথা না। সব কিছুতে সম্মতি দোষের কিছু না। ভালোবাসা বিশ্বাস আরও গভীর হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×