কটি’র জনপ্রিয়তা

  গাজী মুনছুর আজিজ ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কটি’র ফ্যাশন
কটি’র ফ্যাশন

নিজেকে আলাদা দেখানোর প্রতিযোগিতা এখন চলছে সারাবিশ্বে। আর তাই নিজেকে আলাদা দেখানোর অন্যতম উপাদান হিসেবে সবাই বেছে নেন ফ্যাশনকে। মূলত নিজের ফ্যাশনের মাধ্যমেই নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে চান সবাই। সে জন্য শীতের সময়ে একেকজন নিজেকে সাজান একেক রকম পোশাকে। সে পোশাকের তালিকায় কটি একটু বেশি এগিয়ে। বিশেষ করে শহুরে ফ্যাশন সচেতন পুরুষদের কাছে কটি এ সময়ের জনপ্রিয় পোশাকের তালিকায় রয়েছে। নারীরাও যে কম পড়ছেন তা কিন্তু নয়। তবে তুলনামূলকভাবে কটি ফ্যাশনে নারীদের চেয়ে পুরুষরা এগিয়ে।

শীতের ফ্যাশনে ব্লেজার আগেও ছিল, এখনও আছে। বিশেষ করে অফিস কর্মকর্তাদের কাছে ব্লেজারের চাহিদা বরাবরই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্লেজারের হাতাটা ফেলে দিয়ে বাকিটা ব্যবহারে মানুষ বেশি আগ্রহী হয়েছেন। আর ব্লেজারের হাতা ফেলা মানেই সেটার নাম হয়ে যাচ্ছে কটি। তবে কটি কিন্তু আগেও ছিল এবং তা বেশি ব্যবহার করতেন একটু বয়স্করা। তারা পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে কটি পড়তেন। অবশ্য তাদের কটির বেশিরভাগ রঙই ছিল কালো। আর কাপড়ও ছিল মোটা। কিন্তু সেই মুরব্বিদের কটিই এখন ব্যবহার করছেন তরুণরা। তবে আগে মুরব্বিদের কটি যেমন কালো ও মোটা কাপড়ের হতো, এখন কিন্তু তা নয়, এখন তরুণদের কটি তৈরি হচ্ছে নানা রঙে ও নানা কাপড়ে। আর তরুণরা কটি পড়ছেন পাঞ্জাবির পাশাপাশি শার্টের সঙ্গেও।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের তরুণ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ব্লেজার গায়ে দিলে ভারিভারি মনে হয়। তাই কটি পড়ছি। এটা হালকা আবার ফ্যাশনেবলও। অফিসে যেমন শার্টের সঙ্গে পড়া যায়, তেমনি অফিসের বাইরে অন্য পোশাকের সঙ্গেও পড়া যায়। আর নরমাল বা জিন্স দুটোর সঙ্গেই মানিয়ে পড়া যায়।

আড়ংয়ের ফ্যাশন ডিজাইনার ফয়েজ হাসান বলেন, ব্যাকরণ মানা ফ্যাশনের দিন এখন নেই। তাই অফিস কর্মকর্তা কেবল ব্লেজার পড়েই অফিসে যাবেন, আর মুরব্বিরাই কেবল পাঞ্জাবির সঙ্গে কটি পড়বেন তাও নয়। হালের ফ্যাশনে এর সবই পাল্টেছে। শুধু পাল্টায়নি, রীতিমতো এ সব ফ্যাশনের আঙ্গিক, পরিবর্তন নিয়ে চলছে নানা কর্মকাণ্ড। তবে কটি পড়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কটি ও অন্য পোশাকের মধ্যে রঙের মিল। এ ছাড়া খেয়াল রাখতে হবে কটি পড়ে কোথায় যাবেন? অফিস, দাওয়াত নাকি অন্য কাজে। এ সব খেয়াল রেখে কটি পড়লেই নিজেকে আলাদাভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন। আর সব সময় খেয়াল লাখবেন খুব বেশি ভারি কাজের কটির চেয়ে হালকা কাজের কটি বেশি মানানসই হয়। অন্যদিকে রঙের ক্ষেত্রেও তাই। খুব বেশি উজ্জ্বল রঙের চেয়ে একটু সহনশীল রঙ নিজের বেশি ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

বাজারে এখন নানা ধরনের কটি পাওয়া যায়। বিদেশি কাপড়ের পাশাপাশি খাদিসহ দেশীয় তাঁতের কাপড়ের কটিও পাওয়া যাচ্ছে। এ সব কটিতে সুঁইসুতা, অ্যাম্ব্রয়ডারি, অ্যাপ্লিকসহ নানা মাধ্যমে নকশা করা। এ সব কটির দামও যে খুব বেশি তা কিন্তু নয়। ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে এ সব কটি কেনা যাবে। অবশ্য চাইলে কাপড় কিনে নিজের পছন্দ মতো কটি বানিয়ে নিতে পারেন। এতে কটি পড়ে আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। আড়ং, প্রবর্তনাসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে খাদিসহ দেশীয় তাঁতের কাপড় কিনতে পাওয়া যাবে। আর অন্য কাপড় কেনা যাবে বিভিন্ন কাপড়ের দোকান থেকে।

তৈরি কটি কেনার জন্য দেশীদশের ফ্যাশন হাউসগুলোতে আসতে পারেন। যেতে পারেন আড়ংয়েও। আজিজ সুপার মার্কেটের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলোতেও আছে নানা নকশার ও নানা রঙের কটি। এ সবের পাশাপাশি নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, বায়তুল মোকাররম মার্কেটের অনেক দোকানেই পাবেন বিভিন্ন নকশার কটি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×