থাকুন সব সময় প্রাণবন্ত

  নাজমুল হক ইমন ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্যর্থতার পর মন খারাপের জের বেশ কিছুদিন ধরে চলতে পারে। নিজেকে বার বার দোষারোপ করবেন না। যা হয়েছে ভুলে গিয়ে নতুনভাবে সব কিছু শুরু করুন। এ দিনগুলোয় নিজেকে একটু বেশি সময় দিন। দরকার হলে ভিড়ভাট্টা থেকে সরে গিয়ে একা সময় কাটান বা ছেলেবেলার বন্ধুর সঙ্গে ফোনে গল্প করুন। বই পড়া, গান শোনা বা নিজের ব্যক্তিগত কোনো শখ নিয়ে সময় কাটালেও মন ভালো রাখবে। তবে মন ভালো না থাকলেও নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, এক্সারসাইজ, কোনটাই বাদ দেবেন না। মনোসংযোগের জন্য মেডিটেশনও করতে পারেন।

প্রথমেই ব্যর্থতার চুলচেরা হিসেবে বসে না গিয়ে নিজেকে কিছুটা সময় দিন। রাগ, ফ্রাস্ট্রেশন, দুঃখ, হতাশা- যে ধরনের অনুভূতিই মনে আনাগোনা করুক, তা চেপে রাখবেন না। কিছুটা সময় এ অনুভূতির সঙ্গে মোকাবিলা করলে, আস্তে আস্তে মনে জোর ফিরে পাবেন। ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন আপনি ঠিক কোথায় ভুল করেছেন। সেই সঙ্গে কী করলে উন্নতি হবে সেই প্ল্যানিংও করে ফেলুন। পুরো ঘটনাটা ডায়রিতে লিখে ফেলুন। কোনো কথাই গোপন রাখবেন না। পুরো ব্যাপারটা লিখে ফেলার পর মন একটু হালকা হবে। তার চেয়েও বড় ব্যাপার হল, যে বেশ কিছুদিন কেটে যাওয়ার পর ডায়রি পড়লে পুরো ব্যাপারটা একটু নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পাবেন। কোথায় ভুল হয়েছে, কে দায়ী, কোন কর্মপদ্ধতি মেনে চলায় সমস্যা হয়েছে ইত্যাদি খুঁটিনাটি অনেক স্বচ্ছভাবে বুঝতে পারবেন। কাজের পরিবেশে ফিরে আসার কিছুদিন পর নিজের ভুলগুলো পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করুন। আপনার টিমের অন্যান্য সদস্য এবং অভিজ্ঞ কর্মচারীদের সঙ্গে মিটিং করেও ব্যাপারটা নিয়ে পর্যালোচনা করতে পারেন। নিজের দোষত্রুটিগুলো স্বীকার করে নিন। আর কোথায় কী ভুল হয়েছে সেটাও ভালো করে বুঝে নিন। খেয়াল রাখবেন মিটিংয়ে যেন একে অপরকে দোষারোপ করা না হয়। পারস্পরিক দোষারোপ করলে টিমের একতা আরও খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পুরনো ব্যর্থতা থেকে যে শিক্ষাটা পেয়েছিলেন, তা ভুলে না গিয়ে ভবিষ্যতে কাজে লাগান। নিজের ব্যক্তিগত ডায়রিতে জরুরি তথ্যগুলো টুকে রাখুন। নতুন কাজে হাত দেয়ার আগে সেই পয়েন্টগুলো ঝালিয়ে নিন। কাজের প্রত্যেক ধাপেই এ ক্রসচেকিং করলে আপনার আরও সুবিধা হবে।

প্রাণবন্ত থাকতে আরও থাকছে সহজ কিছু টিপস-

১. মেঝের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নিচের দিকে তাকান। ঘাড় সোজা। এ অবস্থায় জুতোর মাথা দেখতে পাওয়া উচিত। তাহলে বোঝা যাবে শরীর একেবারে ঠিক আছে। কখনও মাথা ঝুঁকে পড়লে আপনাকে ক্লান্ত দেখায়। আসলে ক্লান্তির জন্যই ওই রকম হয়। কারণ, মাথা সোজা রাখার সময় কাঁধ, মেরুদণ্ড ও নিতম্বে বাড়তি চাপ পড়ে। আপনার অস্থিসন্ধিগুলো ঠিকভাবে সন্নিবেশিত না থাকলে কাজ করতে বেশি শ্রম দিতে হয়। অন্যদিকে টান টান সোজা হয়ে থাকলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। ফলে শরীর হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। অনন্যচিত্তে কাজ করা যায়।

২. সব সময় ঘরের ভেতর ঘুপচি অন্ধকারে থাকবেন না। জানালার পর্দা সরিয়ে দিন। ঘরে আলো-বাতাস খেলুক। বাইরে একটু হেঁটে আসুন। কিছুক্ষণ হালকা রোদে থাকুন।

৩. গায়ে ভালো সুগন্ধি মাখতে পারেন। এটা অ্যারোমা থেরাপির কাজ করে। অবসাদ কাটাতে একটু পেপারমেন্ট (মেন্থল), রোজমেরি (চিরহরিৎ গুল্মবিশেষ), জেসমিন প্রভৃতি শুঁকতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব সুগন্ধি মন প্রফুল্ল রাখে।

৪. মাঝে মাঝে উজ্জ্বল লাল, কমলা ও হলুদ রঙের দিকে চোখ রাখুন। এতে শরীর উদ্দীপিত হয়। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে এ যে লাল, হলুদ প্রভৃতি রং শক্তির প্রতীক, যেমন সূর্য।

৫. মাঝে মাঝে গান শোনা ভালো। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিষ্টিমধুর গান রাতে ভালো ঘুমে সাহায্য করে। মিনিটে ১২০ বিটের গানে মন-প্রাণ উজ্জীবিত হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×