সতেজ থাকুন শীতে

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ফারিন সুমাইয়া

ঋতুচক্রের আবর্তনে বছর ঘুরে আসে শীত। হাড় হিম করা বাতাস সঙ্গে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো প্রকৃতি। সূর্যের নরম রোদ আর পিঠাপুলির আমেজে জমে ওঠে চারপাশ। কখনও আগুনকে কেন্দ্র করে গোল হয়ে চলে নিজেকে উষ্ণ রাখার প্রচেষ্টা। প্রকৃতির মাঝেও আসে পরিবর্তন। রুক্ষতা আর শুষ্কতা যেন পাল্লা দিয়ে চলে একে অন্যর সঙ্গে। ধীরে ধীরে কুয়াশার চাদর থেকে মুখ তুলে তাকায় সূর্য আর সঙ্গে ঘাসের ডগায় থাকা শিশির কণা যেন জানান দেয় সময় হয়ে এসেছে এবার অন্য ঋতুকে প্রকৃতির মাঝে স্বাগত জানানোর। তবে এসব চলমান পরিক্রমার মাঝে শীতের আমেজ কাটিয়ে নতুন পরিবেশে আর প্রকৃতির মাঝে নিজেকে মানিয়ে নেয়া হয়ে পড়ে কিছুটা কষ্টসাধ্য। তাই নিজেকে প্রাণবন্ত আর সজীব রাখতে চাই কিছু পরিকল্পনা। শীতের শুরুতে যেমন তেমনি শীতের শেষও এ সময়ের আমেজে থাকে ভিন্নতা। তাই শীতের এ সময়ে নিজেকে প্রাণবন্ত রাখতে খাবার তালিকায় রাখতে হয় নজরদারি।

এছাড়া একঘেয়েমি জীবন থেকে ছুটি পেতে নিতে পারেন ছোটখাটো বিরতি। দূরে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা না করে কাছেই কোথাও থেকে প্রিয় মানুষকে সঙ্গী করে ঘুরে আসতে পারেন। এতে করে আপনি থাকবেন সজীব আর কাজ থেকে শুরু করে যে কোনো দিকে আপনার মনোনিবেশ বেড়ে যাবে অন্য সবার থেকে অনেক বেশি। এছাড়া শীতের এ শেষ সময়ে ছোটখাটো ছুটির পাশাপাশি পিকনিকের কোথাও মাথায় রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ফ্যামিলির সঙ্গে পিকনিক নিয়ে পরিকল্পনা করে ফেলতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গেও ঘুরতে যাওয়া কিংবা পিকনিকের মতো বিষয় নিয়ে পরিকল্পনার ছক এঁকে নিতে পারেন। অন্যদিকে শীতের এ শেষ সময়ে বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে আবহাওয়া থাকে সব চেয়ে ভালো। তাই যে কোনো পরিকল্পনা আপনি খুব সহজেই করে ফেলতে পারেন। যারা পিকনিক কিংবা ঘুরতে যেতে পারার মতো সময় করে উঠতে পারেন না তারা পরিকল্পনার তালিকাতে রাখতে পারেন ফ্যামিলি গেট টু গেদার। এতে করে খুব অল্প সময়ের মাঝে পরিবারের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো যেমন সম্ভব হয় তেমনি আবার শীতের এ সময় উপভোগ করা যায় সম্পূর্ণ নিজের মতো করে।

ঘুরতে যাওয়া ছাড়াও ছুটির দিনগুলোতে খাবার আইটেমে আনতে পারেন ভিন্নতার ছোঁয়া। শীতের এ শেষ সময়ে যেই সব সবজি পাওয়া যায় তাই দিয়ে নতুন কোনো খাবারের রেসিপি তৈরি করে নিতে পারেন প্রিয় মানুষটির জন্য। খাবারের তালিকাতে ভিন্নতা আনতে বিকালের নাস্তায় রাখতে পারেন সুপ কিংবা যে কোনো স্পেশাল আইটেম। পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে মিলে রান্না করে ফেলতে পারেন অনেক দিনের পরিকল্পনা করে রাখা খাবারের মেনুটি। এছাড়া শীতের এই বিদায় বেলার ঘরে সাজসজ্জায় আনতে পারেন কিছু পরিবর্তন। এ ক্ষেত্রে নতুন পর্দা কিংবা মৌসুমভেদে রঙের পরিবর্তনের কথা চিন্তা করতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে বিছানার চাদর থেকে শুরু করে ঘরের দেয়ালকে রাঙাতে পারেন নতুন রঙে। শীত শেষে হুট করেই উষ্ণতা কিছুটা বেড়ে যায়। তাই ঘরকে শীতল রাখতে রঙের ক্ষেত্রে সাদা, ধূসর, বাদামি কিংবা আকাশি রঙের কম্বিনেশন রাখতে পারেন। এতে করে বাইরের উষ্ণতা যেমন আপনাকে অস্বস্তিতে রাখবে না তেমনি আপনি থাকবেন সজীব আর প্রাণবন্ত।

শীতের এ সময়ে পোশাকের দিকেও আসে কিঞ্চিত পরিবর্তন। তাই এই দিকেও নজরদারি রাখতে হয় সমান ভাবে। খুব গরম কাপড় এই সময়ে পরিধান না করাই ভালো। সেই ক্ষেত্রে সুতি কিংবা হালকা মোটা কাপড় হতে পারে এ সময়ের সবচেয়ে ভালো নির্বাচন। এছাড়া যারা দিনের একটা লম্বা সময় বাইরে থাকেন তারা হালকা শীতে সঙ্গে রাখতে পারেন সিঙ্গেল শাল কিংবা চাদর।

শীতের এ সময়ে ত্বকের ক্ষেত্রেও চাই কিছুটা বাড়তি যত্ন এবং নিজেকে প্রাণবন্ত রাখার উপায়। তাই এ সময়ে খাবারের তালিকাতে মৌসুমি ফল আর সবজি রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান করছেন কিনা সেই দিকেও খেয়াল রাখা আবশ্যক। যারা অফিস কিংবা বাইরে থাকেন তারা সঙ্গে ওয়াটার পট রাখতে পারেন। অন্যদিকে ত্বকের যত্নে সানক্রিম, লোশন রাখুন আপনার সঙ্গী হিসেবে। আর শীতের শেষ সময়ে এসেও নিজেকে রাখুন সব সময় সজীব আর যে কোনো ঋতুতেই থাকুন প্রাণোচ্ছল।