সবুজপ্রেমীদের মিলনমেলা

  মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফেসবুকে ভালো কিছু হয় নাকি? শুধু শুধু সময় নষ্ট। ভ্রু কুঁচকে যখন কেউ এ কথা বলেন, তখন আপনি কী বলবেন। ভেবে পান না। ভেবে-চিন্তে দু’একটি দৃষ্টান্ত বের করতে বেগ পেতে হয়। গাছ অদল-বদল ও পরিচর্যা। একটি ফেসবুক গ্রুপ। সদস্য সংখ্যা ৬৫ হাজারেরও বেশি। গাছপালা নিয়ে গ্রুপটির কাজ। বিভিন্ন বয়সী মানুষ। বিভিন্ন পেশা তাদের। সবাই এ গ্রুপের সদস্য। সবার সবচেয়ে বড় পরিচয় এরা সবুজপ্রেমী। ছাদবাগান, বেলকনিতে সবজি, ফুলের চাষ করেন তারা। উদ্দেশ্য সবুজের বিস্তার ঘটানো। এ গ্রুপটি ভালো কাজের এক দৃষ্টান্ত। ইতিমধ্যে সাড়া ফেলেছে। কিছুকাল আগের ঘটনা। মাত্র কয়েক হাজার সদস্য। উদ্যোগী তরুণ নাহিদ আহমেদ গ্রুপটি চালু করেন। তিনি তখন কল্পনাই করেননি, এত বড় গ্রুপ হবে এটি। কারও গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কারও গাছের ফল পাকার আগেই ঝরে পড়ে। একটু লিখে গ্রুপে পোস্ট দিলেই হয়। সঙ্গে সঙ্গে কেউ না কেউ এগিয়ে আসে। সমস্যার একাধিক সমাধান চলে আসে। শুধু কি তাই। সদস্যরা একে অপরের মধ্যে গাছ, চারা, বীজ আদান-প্রদান করে। কারও সঙ্গে কারও আত্মীয়তা নেই। তবে বন্ধনটা গাঢ়, স্বার্থহীন। কেউ থাকেন বরিশাল, কেউ রাজশাহী কেউবা চট্টগ্রাম। সেখান থেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। গত ৫ জানুয়ারি। গাছ অদল-বদল ও পরিচর্যা গ্রুপের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তী পালিত হয়। রাজধানীর মহাখালী রাওয়া হলে। শ’দুয়েক সদস্য উপস্থিত ছিল।

শুধু গাছপালা নয়। এ গ্রুপটির কার্যক্রমে কিছুটা ভিন্নতা আছে। সেটাই ব্যাখ্যা করলেন গ্রুপের প্রধান এডমিন নাহিদ আহমেদ। তিনি বলেন, শুধু সবুজের বিস্তারই নয়। এ গ্রুপ সমাজকল্যাণে কাজ করছে। এতিমখানা, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমরা ফলজ বৃক্ষরোপণ করেছি। গরিব ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপ চালু করা হবে। পৃষ্ঠপোষকতা করবে ব্যক্তি তবে সমন্বয়, দেখভাল করবে পিইএনসি। কোন গাছের কী সমস্যা হয়। সমাধান-ই বা কী? জানতে চান অনেকেই। সে কারণে গাছের সেবা নামে বই বের করা হবে। এমনটাই জানালেন নাহিদ আহমেদ। গ্রুপে সর্বোচ্চ পোস্ট, লাইক যারা দেন তাদের পুরস্কৃত করা হয়। ফলে এ গ্রুপে অ্যাকটিভ মেম্বার অনেক বেশি।

বয়স ষাটের কোঠায়। এ রকমই এক নারী সদস্যের হাতে গাছ দেখা গেল। যেনতেন গাছ নয়। তেঁতুল গাছের চারা। পরম মমতা দিয়ে নিয়ে এসেছেন তিনি। জানতে চাইলাম কী করবেন? তিনি জানান, নিগার আপা চেয়েছিল। তার জন্য এনেছি। মজার বিষয় তার হ্যান্ডব্যাগেও ছোট ছোট গাছের চারা। সেগুলোও অন্যদের জন্য নিয়ে এসেছেন। এমন ভালোবাসা বুঝি সবুজপ্রেমীদেরই মানায়। কারণ ফ্রি গাছ দিচ্ছেন। তাও দূরদূরান্ত থেকে বয়ে নিয়ে এসেছেন।

বিভিন্ন সদস্য প্রচুর চারা, বীজ নিয়ে আসেন অন্যদের দেয়ার জন্য। গাছ, চারা আদান-প্রদান হয়। সবার উদ্দেশ্য একটাই, দেশে সবুজের সংখ্যা বাড়ানো। দেশটাকে সবুজে ছেয়ে দিতে চান তারা। এমন সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য কমই চোখে পড়ে। সে কথাই বলছিলেন এনটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম। আমার স্ত্রী এ গ্রুপের সদস্য। বাগান করে। আমার খুব ভালো লাগে। গাছকেন্দ্রিক বেশ কিছু গল্প বলে তিনি সবাইকে মুগ্ধ করেন। একদিনে সব হয় না। লেগে থাকতে হয়। ভারতে দশ রাত মাঝি নামে একজন পাহাড় কেটে রাস্তা করেন। সত্তর কিলোমিটারের রাস্তা হয় ত্রিশ কিলোমিটার। এ জন্য ২০-৩০ বছর তাকে পরিশ্রম করতে হয়। অথচ এ রাস্তা না থাকায় তার স্ত্রী চিকিৎসাসেবা না নিতে পেরে মারা যান। আজকে যেভাবে এ পরিবারের সবাই কাজ করছে, সেভাবেই একত্রিত হয়ে কাজ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান জহিরুল। তার স্ত্রী পলি জহির একজন বিখ্যাত বাগানি।

বৃক্ষবিশারদ ছিলেন- জামসেদ আরিফ। তিনি বলেন, পরিকল্পনা করে গাছ লাগাতে হবে। সব গাছ নয়। যে কোনো একটি গাছকে বেশি নজর দেয়া ভালো। এতে ওই গাছের ওপর দ্রুত দক্ষতা অর্জন সম্ভব। গাছের ছবি, ফুলের ছবি তুলে পোস্ট দিতে হবে। লাইক এবং বিচারককর্তৃক সেরা ছবি নির্বাচন হয়। হাজার হাজার ছবি। বিচারকরা হিমসিম খান। সেরাদের পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কার ও গাছপালা, প্রকৃতির পেইন্টিং। এঁকেছেন আসমা আফরোজা শান্তা। তিনিও এ গ্রুপের সদস্য। টাকা-পয়সার কোনো ব্যাপার নেই। যে যাই করেন সবই বিনা পয়সায়, শুধু ভালোবেসে। সবুজের জন্য। গাছের গ্রুপের অনুষ্ঠান। শেষটাও হয় গাছ দিয়ে। দু’ব্যাগ ভরা গাছ পেলেন সদস্যরা। আছে বীজও।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×