চিনির ভয় জয়

প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এম রিনাত রিজভী

চিনি। ছবি সংগৃহীত

চা, কফি, শরবত বা ডেজার্ট জাতীয় খাবার চিনি ছাড়া ভাবাই যায় না। খাবার মিষ্টি করে তুলতে একেক রকমের উপাদান ব্যবহার করে থাকেন একেক জন। কেউ চিনিতেই খুশি, কেউ আবার ক্যালোরি এড়ানোর জন্য বেছে নেন বিকল্প মিস্টকারক পদার্থ বা আর্টিফিশিয়াল সুইটনার।

এই সুইটনারেরও রয়েছে রকমের। স্বাস্থ্যকর সুইটনার যারা খুঁজছেন, তাদের জন্য সমাধান হতে পারে স্টিভিয়া। বিশ্বের খ্যাতনামা খাদ্য প্রস্তুতকারী বিভিন্ন কোম্পানি ও কোমলপানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এখন পরিশোধিত চিনির পরির্বতে বেছে নিচ্ছে স্টিভিয়া।

স্টিভিয়া মূলত দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের একটি ভেষজ উদ্ভিদ। ওই অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরেই খাবার ও পানীয়তে চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে স্টিভিয়া। মার্কিন গবেষকদের প্রতিবেদনে জানা যায়, স্টিভিয়া সাধারণ পরিশোধিত চিনির চেয়ে প্রায় ৪০ গুণ বেশি মিষ্টি, যদিও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় এর কোনোই প্রভাব নেই। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর। এর সব চেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল- এটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক উপাদান, কোনোভাবেই কৃত্রিম নয়।

চিনির বিকল্প বিভিন্ন মিস্টকারক রাসায়নিক পদার্থ বাজারে প্রচলিত আছে। সাধারণভাবে এই পদার্থগুলোকে আর্টিফিশিয়াল সুইটনার বা বিকল্প চিনি নামে ডাকা হয়। ওজন কমানো এবং সেই সঙ্গে সুস্থ থাকার আপ্রাণ চেষ্টায় স্বাস্থ্যসচেতনরা চা-কফি তো বটেই, খাদ্যতালিকা থেকেই চিনিকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে আর্টিফিশিয়াল সুইটনারের দ্বারস্থ হচ্ছেন। নব্বইয়ের দশক থেকে বাজারে চালু এসব চিনির বিকল্প নিয়ে অনেকেরই ধারণা- এতে তেমন ক্ষতি নেই, যেমন ক্ষতি চিনিতে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো জানাচ্ছে ভিন্ন কথা।

বলছে, এসব বিকল্প চিনি কিছু ক্ষেত্রে বরং বেশি ক্ষতিকর। রক্তচাপ বাড়ানো, টাইপ টু ডায়াবেটিসসহ চিনির ক্ষতিকর দিকগুলোর সঙ্গে সঙ্গে বোঝার ওপর শাকের আঁটির মতোন এই বিকল্প চিনি বাড়িয়ে দেয় মানবদেহের ওজনও।

স্টিভিয়ায় কোনো কার্বোহাইড্রেট কিংবা ক্যালরি নেই, তাই এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিনির সবচেয়ে ভালো প্রাকৃতিক বিকল্প। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস বিনষ্টকারী প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান। এই অগ্নাশয়ের বিটা কোষের সক্রিয়তার মাধ্যমে ইনসুলিন নিঃসরণ বৃদ্ধি করে এবং ব্লাড সুগার লেভেল কমিয়ে রাখে। স্টিভিয়ার সবুজ ও শুকনো পাতা সরাসরি চিবিয়ে কিংবা চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। পাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে বোতলে সংরক্ষণ করা যায়।

পাতার গুঁড়া দিয়ে মিষ্টান্ন তৈরি করে ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এ ঔষধি গাছের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে বিকল্প প্রাকৃতিক চিনি স্টিভিয়া।

খ্যাতনামা ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রেনাটা লিমিটেডের নন-মেডিকেটেড পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পূর্ণাভা লিমিটেড দেশের বাজারে স্টিভিয়া নামেই এই বিকল্প চিনির বাজারজাত করছে।