হৃদয়ে বাংলা ভাষা

মাতৃভাষার জন্য ভালোবাসা বিশ্বজুড়ে

  হাবীবাহ্ নাসরীন ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভালোবেসে জীবন দেয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল নয়। সেসব অমর প্রেমের কীর্তি লিপিবদ্ধ আছে ইতিহাসের পাতায়। কিন্তু মাতৃভাষাকে ভালোবেসে জীবন দেয়ার ঘটনা ইতিহাসে বিরল। সেই বিরল ইতিহাসের একমাত্র দৃষ্টান্ত আমাদের। আমরাই একমাত্র জাতি, যারা মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। ঠিক কতখানি ভালোবাসলে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে অকাতরে বিলিয়ে দেয়া যায়? হৃদয়ের দাবি ঠিক কতখানি জোরাল হলে নিজের রক্তে রাজপথ রঙিন করা যায়? তাই তো আমাদের ইতিহাসের পাতায় জ্বলজ্বল করছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বীর সৈনিকদের নাম। তাদের অবদান ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে রক্ষা পেয়েছে আমাদের মাতৃভাষার মর্যাদা। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের ধারা বেয়েই রচিত হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। বাঙালি জাতি ও বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী চিরদিন কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করবে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদ বরকত-রফিক-সালাম-জব্বারকে। তাদের সাহসী ভূমিকা ও গৌরবোজ্জ্বল আত্মত্যাগের ফলেই পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শক্তির ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়, রক্ষা পায় আমাদের বাংলা ভাষার অনন্য গৌরব।

১৯৫২ সালে সংঘটিত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর নতুন মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়েছে। এ দিনে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আমাদের ভাষা আন্দোলনকে পৃথিবীর মানুষের গৌরবিত উত্তরাধিকারে রূপান্তরিত করেছে। ২০০০ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে পৃথিবীজুড়ে, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। ২১ ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ্বের নানা প্রান্তে নানা ভাষার মানুষ মর্যাদার সঙ্গে পালন করে আসছে।

পোশাকে একুশ

প্রিয় মাতৃভাষাকে আমরা ধারণ করেছি আমাদের চলনে, বলনে, কবিতায়, স্তুতিতে, নৃত্যের ছন্দে, সুরের ধারায়। জীবনযাপনের প্রতিটি প্রবাহে মিশে রয়েছে প্রিয় বাংলা ভাষা। মাতৃভাষাকে ভালোবেসে তা পোশাকে ধারণ করার রীতিও আমাদের নতুন নয়। প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আমাদের মেধাবী ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা নতুন নতুন নকশার পোশাক নিয়ে আসেন।

একুশে পোশাকের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা হয় গর্বিত বর্ণমালার সাজ। এদিনে বর্ণমালার পোশাক ব্যাপারটাই যেন গর্বের ব্যাপার। পোশাকের অবয়ব অলংকরণে নানাভাবে বর্ণমালাকে মোটিফ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বর্ণ ও শব্দমালার বিন্যাসে আমাদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং অন্য গর্বের বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়। নানা উক্তি, কবিতার পঙ্ক্তি তো রয়েছেই। ফ্লোরাল মোটিফ, জ্যামিতিক নকশার সৃজনশীল অলংকরণে তৈরি হয় সালোয়ার-কামিজ, কটি-কামিজ, কুর্তি, লং কুর্তি, সিঙ্গেল কামিজ, কটি-কুর্তি, শাড়ি, পাঞ্জাবি, শার্ট ইত্যাদি। এ ছাড়াও শিশুদের জন্যও থাকে সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি/টপস্, পাঞ্জাবি, শার্ট ইত্যাদি। একুশের পোশাকের নকশায় বর্ণমালা, ভাষা ও ভাষা শহীদদের পাশাপাশি দেশজ চেতনা ও ঐতিহ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তাই তো নকশিকাঁথা ফোঁড়, বক, স্প্রে-ব্লক, অ্যাপলিক, স্ক্রিন, হ্যান্ডপেইন্ট এবং অ্যামব্রয়ডারির কাজ চোখে পড়ার মতো।

একুশের রঙ

একুশে ফেব্রুয়ারি শুরু হয় প্রভাতের প্রভাতফেরি দিয়ে। গলায় গান আর হাতে ফুলের মালা নিয়ে ধীর পায়ে স্মৃতির মিনারের দিকে পৌঁছায় মানুষ গুটি গুটি পায়। একুশে ফেব্রুয়ারির এ দিনটিকে সাজান হয় কালো আর সাদা রঙের আঙ্গিকে। যদিও এখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে লাল রঙের দেখা পাওয়া যায়। সাদা রঙের শাড়ি তাতে কালো পাড় কিংবা সাদা রঙের সালোয়ার, ওড়না আর কালো রঙের কামিজে মেয়েরা সাজায় নিজেদের। শাড়িতে থাকে নানা জলছাপ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাতে আঁকিবুঁকি থাকে স্মৃতিসৌধ, শহীদমিনার, বিভিন্ন অক্ষর যেমন অ, আ, ই, ঈসহ সব বর্ণমালা। মেয়েদের ওয়েস্টার্ন পোশাকেও এসেছে একুশে ফেব্রুয়ারির ছোঁয়া। তাতেও দেখা যায় সাদা কালোর মেলা। এ সাদাকে শান্তির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয় এক্ষেত্রে। ছেলেদের টি-শার্ট থেকে শুরু করে শার্ট, পাঞ্জাবি আর পাজামাতেও দেখা যায় এ সাদা আর কালো রঙের খেলা। পাঞ্জাবিতে কখনও সম্পূর্ণ কালো আবার কখনও সম্পূর্ণ সাদা রঙের কাজ চোখে পড়ে। টি-শার্টের ক্ষেত্রে বড় বড় বর্ণ কিংবা খোলা জানালার স্বাধীনতার প্রতীক দেখা যায়।

কোথায় পাবেন

আড়ং, নিত্য উপহার, কে ক্রাফট, অঞ্জনস, ওয়েস্ট রঙ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসের শোরুমে বিভিন্ন ডিজাইন করা একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে নকশা করা পোশাক পাওয়া যাবে। তবে শুধু পোশাকেই নয়, প্রিয় মাতৃভাষাকে লালন করতে হবে হৃদয়েও। মাতৃভাষাকে রক্ষার যে পথ আমাদের পূর্বপুরুষরা দেখিয়ে গিয়েছেন, চলতে হবে সে পথ ধরেই। নিতে হবে মা, মাটি ও মাতৃভাষাকে ভালোবাসার শপথ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×