গা ভরা গয়না

সুন্দর ছন্দময় ছোট্ট একটি শব্দ গয়না। তবে তার ইতিকথা বিশাল। কারণ গহনা ছাড়া নারীর সাজ পূর্ণতা পায় না। সেই আদিকাল থেকেই নারীর সাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গয়না বা অলঙ্কার। সাধারণ সাজ হোক অথবা উৎসব, গয়না থাকতেই হবে। সেটা ছোট্ট একজোড়া কানের দুল হোক অথবা ভারী জড়োয়া সেট। জানাচ্ছেন-

  আফরোজা আক্তার ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এ সময়ের গয়না

একসময় সাজে গহনাই ছিল মুখ্য। গহনা পরেছেন, এটিই ছিল মূল বিষয়। বৈচিত্র্য ততটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল না; কিন্তু এখন বৈচিত্র্য বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে। একই গহনা সব অনুষ্ঠানে পরা যায় না। ভিন্ন সাজের সঙ্গে চাই ভিন্ন ডিজাইনের গহনা। অফিসে বা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে হালকা কিছু গহনা পরতে পারেন। তবে উৎসব বা অনুষ্ঠানের জন্য চাই ভারী গয়না। এখন পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নেয়া হয় গয়না। তাই এর ডিজাইন, নকশা ও ম্যাটেরিয়ালে নিত্যনতুন যোগ হচ্ছে বৈচিত্র্য। এ সময়ে হালকা, তবে বড় গয়নার প্রচলন বেশি।

গয়নায় বৈচিত্র্য

গয়নাতে ভেরিয়েশন আনতে স্বর্ণের পাশাপাশি বর্তমানে গোল্ড প্লেটেড, মেটাল, স্টোন, পুঁতিসহ বিভিন্ন ধরনের গয়না জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের স্টোন, রুবি, জারকান, পান্না বসানো অথবা আনকাট ডায়মন্ডের গয়না আজকাল শৌখিক নারী বেশি পছন্দ করছেন। পার্টির মতো ফরমাল অনুষ্ঠানের জন্য এ ধরনের গয়নার চাহিদা বেশি। ঘুরে বেড়ানো, গেট টুগেদার, রিসিপশন ইত্যাদি অনুষ্ঠানে ভারী ট্রেডিশনাল, উপজাতি ডিজাইনের গয়না অনেকের পছন্দ। নানা ধরনের গয়নার পাশাপাশি হাল ফ্যাশনে জনপ্রিয়তা পেয়েছে জাঙ্ক জুয়েলারি। মেটাল, বিডস, পিতল, বাঁশ, কাঠ, সুতা, শামুকের খোলাসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি গলার ও কানের গয়না, বালা, ব্যাঙ্গলস ইত্যাদির এখন আধুনিক গয়না। কানপাশা আজকাল বেশ জনপ্রিয়। পাশার নকশা মানেই গোলাকার হলেও আজকাল স্কয়ার দুলকেও পাশা বলা হয়। পাশা পাবেন সোনা থেকে শুরু করে নানা ধাতুর। এছাড়াও জয়পুরী দুল, মণিপুরী দুল, ইন্ডিয়ান দুল, হংকং দুল, চায়না অর্নামেন্টসও রয়েছে অনেকের পছন্দের তালিকায়। নকশাতে এখন আদিবাসী থিমও চলছে বেশ। কানপাশা, ঝুমকা, মাকড়িসহ নানা ডিজাইন রয়েছে এসব গয়নাতে। প্রতিদিনের ব্যবহার থেকে শুরু করে জমকালো পার্টি সব জায়গাতেই ব্যবহার করতে পারবেন পুঁতি দিয়ে তৈরি গয়না। পুঁতির গয়নার মধ্যে কয়েক লহরী মালা, লহরী মালার সঙ্গে ক্রিস্টালের ফুল এখন শাড়ি, সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে অনেকেই পরতে পছন্দ করছেন। কাঠের ওপর পিতলের কাজ করা দুলও মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে।

গয়না

অনেক অনেক গয়নাগাটির ঝক্কি পছন্দ না মোটেও, আবার একটু গুছিয়ে তৈরি হতেও ভালো লাগে, তেমন মেয়ের সংখ্যা একেবারে কম নয়। তারা প্রায়ই দোটানায় ভোগে, সাজের অনুষঙ্গ বাছতে কপালে ভাঁজ ফেলে, কীভাবে সাজলে স্বস্তিও হবে আর সুন্দরও লাগবে! হালকা গয়নাগুলোই তাদের ভরসা। পছন্দের হালকা গয়নার দল নিয়েই সাজানো হল আজকের লেখা।

চোকার পরে সহজেই আনতে পারেন দৃষ্টিনন্দন রূপ। ভারী মালা বা বড় লকেটের চেয়ে চোকার অনেক সময় বেশি আকর্ষণীয় দেখায়। চোকারে লকেট হিসেবে পছন্দের কোনো চার্ম নিজেই জুড়ে দিতে পারেন। সরু সুতার মধ্যে মাঝারি বা ছোট্ট একটা পাথর, গলায় মন্দ লাগে না। কালো সুতার চোকারের সঙ্গে হালকা বা গাঢ় যে কোনো রঙের পাথর মানিয়ে যায়, তেমন কোনো পাথরই বসিয়ে নিতে পারেন চোকারে।

আজকাল রেজিনের গয়নার ট্রেন্ডি ভীষণ। রেজিনের লকেট মানাবে কর্ড বা পুঁতির মালার সঙ্গেও। আর রেজিনের কাজগুলো এত নজরকাড়া হয়, একটা নেকপিসেই সাজ পরিপূর্ণ লাগবে। পমপমের হালকা নেকপিসে রং ঝলমলে ভাব ফুটে উঠবে। দিনের বেলা ঘুরতে যাওয়া বা আড্ডাবাজির উপলক্ষে হতে পারে সাজের যথার্থ অনুষঙ্গ।

রেজিনের আংটি, কিংবা কাঠের ওপর রঙের ছোঁয়ায় আঁকা আংটি, আঙুলের কোলে দারুণ দেখাবে যে কোনো সাজের সঙ্গে। ঝকমক করা পাথর বা চিরায়ত সোনালি আর রুপালির নিয়ম বাদে এ আংটিগুলো নিত্যদিনের সাজে সঙ্গী হতে পারে। গলা-হাতে আর কিছু না পরে আঙুলে বড়সড় একটা আংটি গলিয়ে নিন, আর কানে একজোড়া দুল, সাজ দারুণ হতেই হবে!

জমকালো সাজে এখন এক হাতে ব্রেসলেট, বালা বা বাউতির চল বেশি। অন্য হাতে থাকছে ঘড়ি বা আংটি। এক্ষেত্রে পাথর বসানো বালা বেছে নিতে পারেন। ব্রেসলেটের সঙ্গে চেইন লাগানো আংটির চল ফিরে এসেছে। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে এখন বেছে নিচ্ছেন স্বর্ণ, স্বর্ণের প্রলেপ দেয়া গয়নাসহ রুপা ও হীরার গয়না। খুব সাধারণ নকশার বাহারি রঙের কুন্দনের ট্রেডিশনাল গয়না এখন পরছেন। মাথায় তাজ পরার প্রচলন নেই। বরং ঝাঁপটা, সিতাপাটি এবং টিকলি পরার চল চলছে।

কাপড়ের গয়না

পোশাকের নকশার সঙ্গে মিলিয়ে ইয়োক, নেকলেস, ঝালর নকশার কাপড়ের হার এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে হার, নেকলেস ছাড়াও কাপড়ের তৈরি আরও বিভিন্ন ধরনের গয়না রয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে লহরী মালা, বালা, বাজু, বিছা, চুলের গয়না, কানের দুলসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের গয়নার দেখা মিলবে।

পোশাক মিলিয়ে

সুতি শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজ, টপসের সঙ্গে কাঠ, পিতল, কাঁসা, পুঁতি জাঙ্ক জুয়েলারি ভালো লাগে। ঝুলমলে বুননের সিনথেটিক শাড়ি, সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে মানায় ধাতু আর স্টোনের দুল। পুঁতি, জাঙ্ক জুয়েলারি ধাঁচের গয়না পরতে পারেন ওয়েস্টার্ন ধরনের পোশাকের সঙ্গে।

গড়ন বুঝে গয়না

লম্বাটে মুখের অধিকারীদের টপ, ছোট ঝুমকা কিংবা রিং পরলে মুখটা কিছুটা গোলাকৃতি দেখায়; ফলে দেখতে ভালো লাগে। লম্বা আদলে মুখে পাশাও ভালো মানায়। গোলাকৃতির মুখে ঝুলন্ত, চৌকোনা দুল মানানসই। যাদের মুখের আকৃতি পানপাতার মতো তাদের যে কোনো দুলেই ভালো লাগবে। লম্বাটে গলার অধিকারীদের লহরী বা কয়েক ছড়ার চিক মানাবে। খাটো গলায় ভারী আঁটসাঁট গয়না পরলে গলা আরও ছোট দেখায়, তাই লম্বা নেকলেস কিংবা হার পরতে পারেন।

দরদাম

স্টোনের গয়না ১০০-৪,০০০ টাকা, মেটালের ট্রেডিশনার ভারী সেট ৪০০-৪,০০০, জয়পুরী ঝুমকা ৩০০-১,০০০, মণিপুরী দুল ২০০-৩০০, হংকং, চায়না ও ইন্ডিয়াল দুল ৩০০-১,২০০, গোল্ড প্লেট পাশা ২০০-৩,০০০, পুঁতির মালা ১০০-২,৫০০, রুবি, পান্না, প্রবাল পাথরের সেট ৩,০০০-১৫,০০০, বড় ইমিটেশন আংটি ৫০-১,২০০, পয়সার গয়না ২০০-১,০০০, মেটালের লম্বা নেকলেস ৪৫০-২,০০০, গোল্ড প্লেটেড ১,২০০-২০,০০০, এথনিক ৪০০-১,৫০০ টাকা।

কোথায় পাবেন

আজকাল অনলাইনে বিক্রি হয় গয়না। বিভিন্ন অনলাইন শপের ফেসবুকে ঢুকলেই পেয়ে যাবেন গয়নার পসরা। এছাড়া বিভিন্ন শপিংমল এবং ফ্যাশন হাউসে গয়নার বিশাল আয়োজন তো রয়েছেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×