জেনে নিন

রাগবেন না বরং হাসুন

  রিয়াজ রিপন ১২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সময়ে রাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অফিস থেকে বাহির কিংবা বাসা, কোনো না কোনো স্থানে ব্যক্তির কর্মের কারণে-অকারণে বা নানা প্রতিকূলতার জন্য রাগের সৃষ্টি যা ব্যক্তিত্ব ধ্বংসের ও কলহের মূল চাবিকাঠি। এছাড়া এই রাগ অধিক মাত্রায় উঠলে ব্যক্তিকে মৃত্যুর দিকেও পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। তাই, রাগকে বিদায় দেয়া অতীব জরুরি। বেশ কিছু স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট এ সম্পর্কে নানা তথ্য দিয়েছেন। তাই, এগুলোর আলোকে সামাজিক ও পারিবারিক শত প্রতিকূলতার কথা চিন্তা করে আমাদের আজকের বিষয়, ওষুধ ছাড়া রাগের প্রতিরোধ এবং প্রতিকার।

পেশি শিথিল করুন, বিশ্রাম নিন

কথায় আছে, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। তাই রাগ নয়। আর যদি রাগ উঠে যায়, নিশ্চুপ থাকুন। আপনার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিশ্রাম দিন। মনে রাখবেন, শরীর ও মন দুই ভালো তো দুনিয়া ভালো। রাতে তাড়াতাড়ি বিছানায় চলে যান। ভালো একটি ঘুমের অপেক্ষায় থাকুন। একটানা কাজের মাঝে কিছুক্ষণের জন্য হলেও বিরতি নিন এবং নিশ্চুপ থাকুন।

উল্টো গুনুন

রাগ একজন ব্যক্তিকে বিপদের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই, রাগকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনুন। যখন রাগ ওঠে, ১০০ থেকে উল্টো গুনতে থাকুন। দেখবেন আপনার রাগের বহিঃপ্রকাশ থেকে বেরিয়ে অন্যমনস্ক হয়ে অন্য দিকে চলে যাচ্ছেন।

প্রয়োজনে আস্তে গভীর নিঃশ্বাস নিন

রাগ যদি বেশি উঠেই যায় তবে আস্তে আস্তে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস চালান। এতে আপনি কিছুটা হলেও তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাবেন।

কিছু শব্দের পুনরাবৃত্তি করুন

বাংলায় কিছু কিছু শব্দ বা শব্দগুচ্ছ আছে যা নিয়মিত অনুশীলন করা উচিত। যেমন- শান্ত হও, আচ্ছা, ঠিক আছে, ভালো, ধন্যবাদ ইত্যাদি পুনরাবৃত্তি করুন, তাহলে সব সহজ লাগবে।

যোগ ব্যায়াম অপরিহার্য

যোগ ব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। খুব ভোরে অথবা রাতের আহারের ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পূর্বে যোগাসন চালাতে পারেন। এটি দেহ, øায়ুকে শান্ত রাখে ও রাগকে কমিয়ে দেয়। ঘরে বসেই প্রযুক্তির যুগে ইউটিউব থেকে বিভিন্ন ধরনের ইয়োগা দেখে দেখে অনুশীলন চালাতে পারেন।

মাঝে মাঝে একা থাকুন

মাত্রাতিরিক্ত সঙ্গবদ্ধতা নিজস্ব সংসার ধর্মের বা কর্মযজ্ঞের পরিকল্পনা থেকে দূরে রাখে। তাই ঠিক করুন একটু সময়ের জন্য একা থাকতে। আপনার নিকটতম কাজের একটা খসড়া কিছুক্ষণের জন্য বাদ দিয়ে চোখ বন্ধ করে ভাবুন পানির রঙহীন রূপ, পাহাড়চূড়া, পাখির কিচিরমিচির শব্দ। এসব ভাবনা আপনাকে রাগ ও পরনিন্দা থেকে দূরে রাখবে।

নিয়মিত হাঁটতে বের হন

নিয়মিত হাঁটাহাঁটি শরীরকে সুস্থ ও মনকে প্রফুল্ল রাখে। অফিসের পরে বা ছুটির দিনে প্রকৃতির কোলে ঘুরে বেড়ান। রাগ কমিয়ে পরবর্তী কাজের উদ্যম বাড়ান।

হালকা কিছু কাজ করতে পারেন

অফিসের কাজ অফিসে আর বাড়ি ফিরে বাড়ির কাজে মন দিন। এমনও হতে পারে অফিসের কাজ ঘরে বসে করার ফলে আপনার সহধর্মীর বা সহধর্মিণীর রাগ তুঙ্গে উঠে বসে আছে। এমন হলে জরুরি কাজ বলে বুঝান। সমঝোতায়ই সমাধান। তবে বাড়িতে অফিসের কাজ না আনাই ভালো।

বেশি কথা নয়, নিশ্চুপ থাকুন

অতিরিক্ত ও অপ্রাসঙ্গিক কথা বা তর্ক থেকে সৃষ্টি হয় শারীরিক অস্থিরতা এবং এ অস্বস্তি থেকে জন্ম রাগ। তারপর কলহ। এক পর্যায়ে কোনো দুর্ঘটনা। তাই, কথা কম। মনে রাখবেন, কলহের সময়কালে একপক্ষের চুপ থাকা উত্তম, কেননা এ সময়ে বাজে শব্দগুলো আপনার চারপাশে ঘুরতে থাকে। এগুলো বলে ফেললে কলহ বেড়ে যায়। প্রবাদে আছে, খালি কলসি বাজে বেশি। তাই প্রয়োজন ছাড়া কথা বলা ঠিক নয়।

বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য পরিবারের অনুমতি নিন

মাঝে মাঝে ছুটির দিনে বন্ধু-বান্ধবসহ আশপাশের সামাজিক স্থানগুলোতে বেরিয়ে আসতে পারেন। তবে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে ঘরে ফেরা নয়, পরিবারের অনুমতিসাপেক্ষে চলুন। দেখবেন, পরিবারের অন্য সদস্যরাও আপনার কাছ থেকে অনুমতি নিচ্ছে। এভাবে সামাজিকতা বজায় থাকবে এবং আর রাগের সৃষ্টিও হবে না।

তাৎক্ষণিক সমাধান খুঁজুন

নিজেদের মাঝে কোনো সমস্যা থাকলে তাৎক্ষণিক তার সমাধান খুঁজুন। কেননা এ সমস্যা যতক্ষণ সমাধান না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে দুশ্চিন্তায় উপনীত করবে। তাই, সমাধানে দেরি নয়।

রুটিনে পরিবর্তন আনুন

যদি দেখেন আপনি যেভাবে চলছেন তার দ্বারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তাহলে আপনার জীবনযাত্রার কিছু কিছু সমালোচনামূলক দিকগুলোকে বাদ দিন। রুটিনে একটু পরিবর্তন আনুন, এতে আপনার সঙ্গীর রাগের আর ভূমিকা-ই থাকবে না।

প্রাণ খুলে হাসুন

মন-প্রাণ খুলে হাসুন। ছোট ছোট বিষয়ে মনোজটিলতা না রেখে সহজ করে দেখুন। অন্যকেও হাসতে শেখান। মজার মজার গল্পের মধ্য দিয়ে সবাইকে সঠিক পথ দেখান। এতে রাগ যেমন আপনার থাকবে না, অন্যেরও রাগ জন্ম হবে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×