শিশুকে শেখাই আদব-কায়দা

  ফারিন সুমাইয়া ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুরা কাদামাটির মতো হয়ে থাকে। কথাটি প্রচলিত হলেও এটি শিশুর ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাদামাটিকে যেমন যে কোনো আকার দেয়া সম্ভব তেমনি শিশুকে কাদামাটির মতো যে কোনো আদলে বড় করা সম্ভব। অন্যদিকে শিশুরা অনুকরণপ্রিয় হয়ে থাকে। তার আশপাশে যা ঘটে কিংবা বাড়ির অন্য সদস্যরা যা করে তা সে তার মতো করে করার চেষ্টা করে। এতে করে শিশুর মাঝে যেমন সেই কাজটি বারবার করার অভ্যাস গড়ে ওঠে তেমনি তা তার আচরণের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। শিশুদের কিছু বিষয়ে তাই খুব ছোট বয়স থেকেই শিখিয়ে নেয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে প্রথম দিকে শুরু করা যেতে পারে ছোট ছোট কিছু বিষয়ের মাধ্যমে। বড়দের মুখে মুখে কথা না বলা কিংবা কোন হাতে খাবার কিংবা কোনো কিছু আদান-প্রদান করতে হয় এসব কিছু শেখানোর মাধ্যমে এ ধাপটি শুরু করা যেতে পারে। বাড়িতে যখন কোনো কাজ সবাই মিলে করে তখন সেই কাজে তাকে অংশগ্রহণ করতে উৎসাহ দেয়া উচিত। এতে করে সবার সঙ্গে থেকে সে যেমন কোন কাজটি কীভাবে করতে হয় শিখতে পারছে তেমনি কাজ করার নিজস্ব আঙ্গিক তার মতো করে সে তৈরি করে নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিশু তার অবচেতন মনে বারবার সেই কাজ করছে এবং সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকার ক্ষমতা তার মাঝে তৈরি হচ্ছে। শিশুর এ সময়ে অক্ষরজ্ঞান আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। খেলার মাধ্যমে শুরু হতে পারে এ ধাপটি। এ ক্ষেত্রে বাড়ির বড়দের থেকে সে যেমন শিখতে পারছে, বাড়ির ছোটদের পরবর্তী সময়ে সে তা শিখাতে পারছে। এসব কিছুর মাঝে শিশুকে মিথ্যা কথা না বলা, বড়দের দেখলে সালাম কিংবা শুভেচ্ছা জানানো হতে পারে অন্যতম একটি অংশ। বাসার সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা, কেউ কিছু দিলে তার পরিবর্তে ধন্যবাদ জানানো কিংবা কেউ ধন্যবাদ দিলে তার পরিবর্তে কী বলতে হবে এসব বিষয়ে শিশুকে শেখানো যেতে পারে। এছাড়া শিশুরা যেহেতু পরিবারের সঙ্গে সময়ের বড় একটি অংশ কাটায় সেহেতু তার ভাষাগত দিকেও খেয়াল রাখা সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব কিছুর পাশাপাশি তাকে সরি বলানোর অভ্যাসটিও সমান গুরুত্বের। যেহেতু তারা প্রতিনিয়ত শিখছে তাই যে কোনো কাজে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। তাই সেসব ক্ষেত্রে তা অন্যের ওপর না চাপিয়ে সত্য কথা বলা আর তার জন্য সরি বলা তাকে অভ্যাস করানো উচিত। এতে করে শিশু তার ভুলের পরও তা নতুন করে করার যেমন উদ্যম পাবে আর তার মাঝে সেই কাজের ভার অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়ার মনোভাবেরও সৃষ্টি হবে না। এছাড়া কারও সঙ্গে ঝগড়া না করা, ছোটদের স্নেহ করা, যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার মনোভাব শিশুর মাঝে সৃষ্টি করতে হবে। অনেক সময় শিশুরা অনুমতি নেয়ার বিষয়টি সম্পর্কে তেমন একটা গুরুত্ব দিয়ে থাকে না। এ ক্ষেত্রে শিশুকে কারও ঘরে প্রবেশ করার সময় অনুমতি নেয়া কিংবা দরজায় নক করার বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা না বুঝে অনেক বিষয় নিয়ে মজা করে থাকে। এতে যাকে নিয়ে মজা করা হচ্ছে তার খারাপ লাগতে পারে এটি শিশুকে বুঝাতে হবে যাতে এ বিষয়ে শিশু অবগত থাকে। এসব কিছু ছাড়াও যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলা, রাস্তার কোন পাশে দিয়ে হাঁটতে হবে, রাস্তা কীভাবে পারাপার করতে হবে, হাঁচি-কাশি এলে রুমাল মুখে চেপে ধরা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে তাকে শিখাতে হবে। শিশুরা প্রায়ই কেউ কিছু দিলে তা সহজেই নিয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের বড়দের অনুমতি নেয়া, ডান হাত বাড়িয়ে দেয়া, অপরিচিত মানুষের দেয়া কোনো কিছু না খাওয়ার শিক্ষাও শিশুকে ছোট বয়স থেকেই দিতে হবে। এসব ছোট ছোট বিষয়গুলোই শিশুর আয়ত্তে না এলে শিশু পরবর্তী সময়ে তা আর শিখতে পারে না। ফলে শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে যেমন কমতি রয়ে যায় তেমনি শিশুর মানসিকতার ওপরেও তার প্রভাব পড়ে। তাই শিশুকে তার মতো করে খেলার ছলে এসব বিষয় শিখিয়ে দিতে হয় যাতে পরবর্তী সময়ে শিশু এসব কিছু খুব সহজে তার আয়ত্তে নিয়ে আসতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×