বাজরিগারপ্রেমীদের মিলনমেলা

  মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাজরিগার ছোট্ট একটি পাখি। আদি নিবাস অস্ট্রেলিয়া। এটি খাঁচার পোষা পাখি। বিভিন্ন কালারের অদ্ভুত উপস্থিতি তার শরীরজুড়ে। মিষ্টি কণ্ঠ আর বৈচিত্র্যময় জীবন। মানুষকে মুগ্ধ করে। বিনোদনের চাহিদা মেটায়। তাই পোষা পাখির মধ্যে সারা বিশ্বে বাজরিগার সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। লালন-পালন যেমন সহজ, তেমনি ডিম, বাচ্চাও করে অল্প দিনে। সহজেই মানুষের বন্ধু হয়ে যায়। টেম (পোষ মানানো) হয়। মানুষের সঙ্গে নির্ভয়ে খুনসুটি করে। হাতে বসে খাবার খায়। কাঁধে চড়ে ঘুরেও বেড়ায়।

তরুণ-তরুণী, যুবক, বয়স্ক, বৃদ্ধ নারী এবং পুরুষ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আমাদের দেশে বাজরিগার পালন করে। বারান্দা, বেলকোনিতে খাঁচায় নজরকাড়া বাহারি রঙের বাজরিগার দেখা যায়। এ পাখি ঘরের শোভা, মনের আনন্দ দুটোই মেটায়।

গত কয়েক বছরে বাজরিগার পালনকারীদের সংখ্যা বেড়েছে। অধিকাংশ মানুষ শখের বসেই পালে। তবে কেউ কেউ শখের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। পেশা হিসেবে বেছে নেয় বাজরিগার পালনকে। আয়ের উৎস, হাত খরচের জোগান বাজরিগার পালন থেকেই আসে অনেকের। স্টুডেন্টদের সুন্দর অবসর কাটানোর সঙ্গী বাজরিগার। নেশামুক্ত যুব সমাজ গড়তে এ পাখি ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বাজরিগার জীবন বদলে দিয়েছে এমন ঘটনার সংখ্যা ভূরিভূরি।

বাজরিগারপ্রেমীদের বিভিন্ন রকম সহায়তা প্রদান করে বাজরিগার সোসাইটি অব বাংলাদেশ। ফেসবুকে বাজরিগারকেন্দ্রিক সবচেয়ে বড় জনপ্রিয় গ্রুপ। সদস্য ৬৯,৯০০ পেরিয়ে গেছে। এ সংস্থাটি বাজরিগারপ্রেমীদের সহায়তা করে। প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী, সেমিনার ইত্যাদিও আয়োজন করে। সংস্থাটির সভাপতি হলেন সুজন বিএসবি আর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন সুলতান বাবু। সুলতান বাবু ফেসবুকে এ গ্রুপটির প্রধান এডমিন। তিনি দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। গ্রুপটির কার্যক্রমে তার সঙ্গে আছেন তানভীর আহমেদ, মহসিন সুজা, ফিরোজ রেজা, জুবায়ের বিদ্যুৎ, ইফতেখার শাওন।

সম্প্রতি ঢাকার একটি কনভেকেশন হলে ৮ম কালার বাজরিগার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজক বাজরিগার সোসাইটি অব বাংলাদেশ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থান থেকে পাখিপ্রেমীরা প্রদশর্নীতে অংশ নেন। তরুণদের সংখ্যাই ছিল বেশি। ২৯০ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছে। যার মধ্যে ১৫০ জন ছিলেন ব্রিডার। প্রতিযোগিতায় নারী প্রতিযোগীর উপস্থিতি ছিল দেখার মতো। জ্যোতি হাসান তেমনই একজন। তার পাখি দুটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে নেয়। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারলে ভালো হয়। পাখির মান যাচাই করা যায়, অভিজ্ঞতাও বাড়ে। বলছিলেন জ্যোতি হাসান। বাজরিগার সোসাইটি বাংলাদেশ-এর আগে একাধিকবার পাখি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বলে জানা যায়।

যে কেউ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ ছিল। ২৫টি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন জাতের বাজরিগার পাখি প্রতিযোগিতায় তালিকাভুক্তি নেয়। বেস্ট গ্রিন নরমাল, বেস্ট ব্লু নরমাল, বেস্ট অপলাইন, গোল্ডেন ফেস, ডমিনেট, পাইড, সিঙ্গেল ফ্যাক্টর স্প্যাঙ্গেল, ডাবল ফ্যাক্টর স্প্যাঙ্গেলসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির পাখিগুলো স্থান পায়। পাখির প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাঁচার সাইজ ইত্যাদি কার্যক্রম যেগুলো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেখান হয়। এ প্রদর্শনীতে তা প্রায় সবই করার চেষ্টা করা হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। দিনব্যাপী প্রদর্শনী অসংখ্য মানুষ দেখতে আসে। যান্ত্রিক, একঘেয়ে জীবনে বাজরিগার নির্মল বিনোদনের সুযোগ এনে দেয়।

প্রতিযোগীর বিচারক ছিলেন ইউএসএ থেকে আগত বব উইলসন। পৃথিবীর বিখ্যাত বাজরিগার বিশেষজ্ঞ। তিনি ওয়ার্ল্ড বাজরিগার অরগানাইজেশন, বাজরিগার অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা-এর বিচারক। বাজরিগার সোসাইটি ইংল্যান্ডের একজন সদস্য তিনি। প্রদর্শনীতে তার উপস্থিতি, বিচারকের আসনে আসীন হওয়া প্রদর্শনীকে অন্য মাত্রা এনে দেয়, বিশ্বমানের বলে বিবেচিত হয়। প্রদর্শনীর জন্য পৃথিবীর জাদরেল সব পাখি বিশেষজ্ঞরা শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশে কোনো পাখির প্রদর্শনীতে এত বড় মাপের কোনো বিচারক আসেননি। তার আসা বাংলাদেশের জন্য এক বড় অর্জন। বব উইলসন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসেন। প্রত্যাশার চেয়ে ভালো কোয়ালিটির পাখি, নারী পাখি পালকদের উপস্থিতি, শখের পাখির প্রতি বাংলাদেশিদের আন্তরিকতা, ভালোবাসা, আতিথেয়তা তাকে মুগ্ধ করে বলে তিনি জানান। কিভাবে, কি করলে ভালো ব্রিড করানো যায়। ব্রিডিংয়ের কিছু গোপন কৌশল নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার খানিকটা। বব উইলসন পাখির সেমিনারে বাংলাদেশি পাখিপ্রেমীদের সঙ্গে শেয়ার করেন।

প্রতিযোগিতায় মূল আকর্ষণ ছিল ক্যাটাগরি চ্যাম্পিয়ন মেইল এবং চ্যাম্পিয়ন ফিমেইল। সেরা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে নেন দেওয়ান মুহাম্মদ সেলিম। সেরা ফিমেইল পুরস্কার জিতে নেয় শিহাব আহমেদের পাখি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×