সীমান্ত শহর দর্শনা

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আবু আফজাল সালেহ

দর্শনা একটি ছোট্ট জনপদের শহর। এটা জেলা শহর তো নয় উপজেলা শহরও নয়। উচ্চশ্রেণীর পৌরসভাও নয়। কিন্তু দর্শনা বললেই সচেতন মানুষই চিনে নেয়। হ্যাঁ, চিনিকলের জন্য বিখ্যাত এই সীমান্ত শহরটি। চুয়াডাঙ্গা জেলার একমাত্র শিল্পনগরী দর্শনা। এটির আড়ালে আছে আরও কিছু জিনিস। বাংলাদেশ-ভারতের মৈত্রী ট্রেন দর্শনা দিয়েই ভারতে প্রবেশ করে। ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দেশের প্রথম রেললাইনের কাজ দর্শনা থেকেই শুরু হয়। কুষ্টিয়ার জগতি পর্যন্ত। জগতিতেও একটি চিনিকল আছে। কিন্তু জগতি স্টেশনের করুণ অবস্থা। দর্শনা রেলস্টেশনকে আন্তর্জাতিক রেলস্টেশন বলা হয়। বাংলাদেশের প্রথম রেলস্টেশন দেখতে পারবেন। আছে ডিস্টিলারী কারখানা। দেশের সরকারি একমাত্র এ ধরনের প্রতিষ্ঠান। এখানে তৈরি উন্নতমানের কঠিন পানীয়, যা ইংল্যান্ডেও যায়। বিদেশে প্রচুর চাহিদা এখানে উৎপাদিত ফরেন লিকারের। সরকার প্রচুর রাজস্ব আয় হয় এখান থেকে।

চিনিকল

আছে স্থল বন্দর। এ বন্দর দিতে প্রতিদিন দু’দেশের শত শত নাগরিক এপার-ওপার করেন। আছে রেল বন্দর। রেলবন্দরের মাধ্যমেই ভারত বাংলাদেশের মালামাল পরিবহন বা আমদানি-রফতানি হয়। এ স্টেশন দিয়েই বাংলাদেশ-ভারতের মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচল করে।

প্রচুর রাজস্ব আয় হয় পাশাপাশি অবস্থিত তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে। চিনিকল, ডিস্টিলারি কারখানা ও রেলবন্দর থেকে। কেরু চিনিকলে আসলে ঐতিহ্যবাহী ও দেশের বড় চিনিকলের পাশাপাশি রেলবন্দর, আন্তর্জাতিক/প্রথম রেলস্টেশন ও দেশের একমাত্র সরকারি ডিস্টিলারি কারখানা। অনুমতিসাপেক্ষে খুব সহজেই এসব দেখতে পারবেন। দর্শনা জংশন দেখতে পারেন। এখান থেকে দর্শনা হল্ট স্টেশন হয়ে খুলনা ও আর এক দিকে দর্শনা আন্তর্জাতিক স্টেশন হয়ে রানাঘাট-কলকাতা। দারুণ লাগবে। দর্শনা কলেজের পুরাতন সব বৃক্ষের ছায়ায় প্রাণটা শীতল করতে পারেন। আর কী চায়?

থাকা ও খাওয়া: থাকা ও খাওয়ার জন্য মধ্যমানের আবাসিক ও হোটেল সুবিধা পাওয়া যাবে।

যাতায়াত: রংপুর ও রাজশাহী বাদে দেশের যে কোনো বিভাগীয় শহর থেকে সরাসরি বাস রয়েছে। অন্যান্য শহর থেকে আসলে কালীগঞ্জ/ঝিনাইদহ বা চুয়াডাঙ্গা নেমে আবার বাসে দর্শনা যেতে হবে। গাবতলী থেকে দর্শনাগামী অনেক বাস পাবেন। রাজশাহী বা উত্তরবঙ্গ বা কমলাপুর থেকে

খুলনাগামী ট্রেনে দর্শনার অন্য স্টেশন ‘দর্শনা হল্ট’ এ নামতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন এ শহরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত এ শহর। যৌবনা কেরু এন্ড সুগারমিলকে কেন্দ্র করেই উন্নয়ন ও আভিজাত্য শহর হিসেবে বিখ্যাত। ব্রিটিশের অনেক লোকও দর্শনাকে চিনত বা চেনে এক নামে। আগের আভিজাত্য ঠিকভাবে ধরে রাখতে না পারলেও মাথাভাঙা নদীর তীরের ছোট্ট এ শহর মন কেড়ে নেবে।

আর একটি কথা না বললেই নয়। সেটি হচ্ছে দর্শনা থেকে বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী ঐতিহাসিক আম্রকুঞ্জ (মুজিবনগর) মাত্র ২৭ কিমি দূরে। একই পথে। এটাও দেখতে পারেন এ প্যাকেজে!

আন্তর্জাতিক স্টেশন-ভারতীয় ট্রেন

রেলবন্দর

ডিস্টিলারি গেট। ডিস্টিলারি প্রক্রিয়াকরণ। ডিস্টিলারি স্টোর। দর্শনা জংশন। স্থলবন্দরে বিজিবি মিলনায়তন। এপারে দর্শনা (বাংলাদেশ) ওপারে গেদে (ভারত); রোমাঞ্চকর স্থান।