রোদ-গরমে ছেলেদের আরামদায়ক সাজপোশাক

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এখন বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ়। তবে আষাঢ়ে গরমটা বড্ড অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। ভ্যাপসা গরমে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে নগরজীবন। এ গরমে স্বস্তি পেতে খাবারদাবার থেকে পোশাক পরিচ্ছদ সবকিছুই হতে হবে আরামদায়ক। জানাচ্ছেন- আঞ্জুমান আরা।

আষাঢ়ের জলে প্রায়ই ভিজছে আকাশ। তবে হঠাৎ বৃষ্টি জলে কিছুক্ষণ স্বস্তি মিললেও গরম কিন্তু খুব একটা কমছে না। তাই বলে গরমে ফ্যাশন করা যে মানা তা নয়; এ ক্ষেত্রে সবার আগে মাথায় রাখতে হবে আরাম আর স্বস্তির কথা। গরমের এ সময়ে পোশাকটা হওয়া চাই পাতলা এবং ছিমছাম। গরমে কটকটে বা গাঢ় রং অসহ্য মনে হয়। তাই অধিকাংশ ছেলেরা এ সময় সাদা রঙের পোশাক পরেন। তাই বলে হালকা রং শুধু সাদাই তা তো আর নয় বরং হালকা সবুজ, ঘিয়া, বাদামি, হালকা বেগুনি, আকাশি রংগুলোও কিন্তু গরমে আরামদায়ক। আবার গরমে গাঢ় রং যে পরাই যাবে না, এমনটাও নয়। কালো এবং কালচে শেডের রংগুলো বাদে যে কোনো রঙেই রাঙাতে পারেন গরমকাল! তবে গরমে রঙের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিন পোশাকের কাপড়ের ওপর। ছেলেরা যেহেতু দিনের বেশিরভাগ সময় বাইরে কাটান তাই আরামদায়ক ফেব্রিকের কথা মাথায় রাখুন। সে ক্ষেত্রে সুতির চেয়ে আরামদায়ক আর কিছুই হতে পারে না।

টাইট প্যান্ট, ফিটিং শার্ট আর যাই হোক গরমের পোশাক হতে পারে না। তাই গরমের ট্রেন্ড হিসেবে বেছে নিতে পারেন ঢিলেঢালা কার্গো বা সুতি থ্রি-কোয়ার্টার কিংবা গ্যাবার্ডিনের কাপড়ের মাল্টিপারপাস পকেটওয়ালা মোবাইল প্যান্ট। এ ধরনের প্যান্ট বেশ আরামদায়ক। স্টেইট কাটের জিন্সের সঙ্গে হাফ হাতা শার্ট বা টি-শার্টেও স্বচ্ছন্দে থাকতে পারবেন। ব্লক, বাটিক বা টাইডাই করা সুতির হাফ হাতা শার্টও ফ্যাশনেবল। শার্টের ক্ষেত্রে গতবছর গরমে ডিপডাই শার্ট বেশ জনপ্রিয় ছিল। এক শার্ট দুই ভাগে রং করা। এবার তার বদলে চলে এসেছে হালকা রঙের চেক শার্ট। যা একসময় গাঢ়ে রঙেই বেশি দেখা যেত। লিনেন কটনের ফ্লোরাল প্রিন্টের ক্যাজুয়াল শার্ট ছোট-বড় সবাইকে মানিয়ে যায়। একটু ঢিলেঢালা শার্ট পরলে ঘামে কাপড় নষ্ট হবে না। পরতে পারেন ফতুয়াও। ঢিলেঢালা হওয়ার কারণে শরীরে খুব সহজেই বাতাস প্রবেশ করতে পারবে। এর সঙ্গে জিন্সের প্যান্ট কিংবা ট্রাউজার ভালো লাগবে।

কিন্তু অফিস যদি আপনার এই ক্যাজুয়াল লুক মানতে না চায়, তাহলে আর কী করা! পরতে হবে সেই ফরমাল পোশাকই! এ ক্ষেত্রে হালকা রঙের ওপর চেকের শার্ট মানিয়ে যাবে। এমন ধরনের ডিজাইন হলে শার্ট ইন করে পরলে ফরমাল লুক চলে আসবে। তবে খেয়াল রাখুন শার্টের কাটিং যেন আপনার জন্য আরামদায়ক হয়। আবার ইন না করে পরলে খুব সহজেই ক্যাজুয়াল লুক পাওয়া যাবে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দু’ভাবেই ব্যবহার করা যেতে পারে এ ধরনের পোশাক। আর বিভিন্ন ব্যবহার একই পোশাকের মাধ্যমে সম্ভব হলে পোশাকটি ব্যবহারেও একঘেয়েমি অনুভূত হয় না। প্যান্টের বেলায় বেছে নিতে পারেন গাঢ় ধূসর, অফহোয়াইট, বাদামি বা বিস্কিট রং। এই রঙের প্যান্টগুলো যে কোনো শার্টের সঙ্গেই মানিয়ে যায়। গরমের সময় উৎসবের পোশাক বলতে ফতুয়া বা পাঞ্জাবিই প্রাধান্য পায় বেশি। হাতের কাজ করা ফতুয়া বা পাঞ্জাবি যে কোনো উৎসবে মানিয়ে যাবে। সঙ্গে পরতে পারেন জিন্স বা একরঙা ট্রাউজার। এতে গরমে যেমন আরাম পাবেন, তেমনি আপনাকে দেখে চোখ জুড়াবে সবার!

গরমে শরীরে ঘামের দুর্ঘন্ধ নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন থাকেন। বাতাসে শরীরের ঘাম শুকিয়ে কাপড়সহ শরীরে ভ্যাপসা দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। যা বেশ বিরক্তিকর এবং আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের ঘাম বেশি হয়। কারণ ছেলেদের প্রায় সারা দিনই নানাকাজে বাইরে ছোটাছুটি করতে হয়। গরমে ঘামের দুর্গন্ধমুক্ত থাকতে সুতি পোশাক এবং সুতি মোজা ব্যবহার করুন। সারা দিন মোজা পরে থাকলে ঘরে ফিরে পায়ের মোজা ধুয়ে দিন। সেই সঙ্গে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল ও সবজির পরিমাণ বেশি রাখুন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

ফ্যাশনে এখন মোকাসিন বেশ জনপ্রিয়। তাই গরমে ফ্যাশনে পায়ে পরে নিতে পারেন মোকাসিন বা স্লিপার। কেউ আরাম পেলে দুই ফিতার স্যান্ডেল চলতে পারে এ সময়। একটা ছোট তোয়ালে বা রুমাল এবং এক বোতল পানি রাখুন সঙ্গে। গরমে ঘামের দুর্গন্ধমুক্ত, সতেজ ও চনমনে থাকতে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে ডিওডরেন্ট লাগিয়ে নিন। কারণে ডিওডরেন্টে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় হতে বাধা দেয়। পারফিউম ব্যবহার করতে চাইলে কড়া সুগন্ধির বদলে হালকা সুগন্ধের পারফিউম ব্যবহার করুন। নয়তো ঘামের গন্ধের সঙ্গে পারফিউমের কড়া গন্ধ মিলে উৎকট গন্ধ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×