রোদের দহন থেকে বাঁচতে...

যদিও বর্ষাকাল, তবু রোদের তীব্রতা কম নয়। সূর্যের উত্তপ্ত দৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলতে হবে, নয়তো ক্ষতিটা হবে আপনারই। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ত্বকে মেলানিনের মাত্রা বাড়িয়ে ত্বকের রং কালো করে দেয়। ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণও হতে পারে এ সময়।

  মানসুরা সিদ্দিক ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ত্বকে লালচে ভাব দেখা দেয়। মুখের ব্রণ বেড়ে যায়। হাতে পায়ে কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়তে শুরু করে। বাহ্যিক এসব সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অভ্যন্তরে রোদের খারাপ প্রভাব পড়ে। কড়া রোদে ডিহাইড্রেশন হয়ে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। রোদে বাইরে বের হওয়ার সময় আপনাকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

সানস্ক্রিন আপনার ত্বকের রঙের সুরক্ষা তো করেই, সেই সঙ্গে স্ক্রিন ক্যান্সার-এর মতো মারাত্মক রোগের সুরক্ষা কবজ হিসেবেও আপনাকে রক্ষা করে।

ঘর থেকে বের হওয়ার পূর্বে সানস্ক্রিন বা সান ব্লক লোশন লাগিয়ে বের হলে এসব সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। রোদের বেগুনি রশ্মির ফলে পাঁচ ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকে। আর সেগুলো থেকে সানস্ক্রিন আমাদের সুরক্ষা দেয়। বাইরে বের হওয়ার অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লাগান। রোদ থাকুক আর নাই থাকুক প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিবার বাইরে যাওয়ার আগে অবশ্যই ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে সানস্ক্রিন বা লোশন ব্যবহার করবেন। সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন কেনার আগে অবশ্যই এসপিএফের মাত্রা দেখে কিনবেন। আমাদের দেশের আবহাওয়ার জন্য এসপিএফ ৩০-৫০ এর সানস্ক্রিন ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা উচিত। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সানস্ক্রিনের সান প্রোটেকশন আপনার ত্বকের সুরক্ষা দিতে শুরু করে। আর অবশ্যই, আপনার ত্বকের ধরন অর্থাৎ আপনার ত্বক তৈলাক্ত নাকি শুষ্ক, তেমন বুঝে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

রোদ থেকে বাঁচতে সব সময় ত্বক পরিষ্কার রাখুন। প্রতিদিন কয়েকবার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। ওয়েট টিস্যু দিয়েও মুখ পরিষ্কার করা যায়। গরমে বেশি করে পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন আট থেকে দশ গ্লাস পানি একটু পরপর পান করা উচিত। এতে ডিহাইড্রেশন রোধ হবে এবং ত্বক ভালো থাকবে। গরমে শরীর সুস্থ রাখতে প্রচুর রসালো ফল আর সবজি খাওয়া উচিত। হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

আপনার রোদ চশমা যেন অবশ্যই শতভাগ সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি রোধ করতে পারে, কেনার সময় সেদিকে নজর রাখুন। বাইরে বের হলে ব্যাগে রাখা ছাতাটি ব্যবহার করতে আলসেমি করবেন না। ছেলেরা হ্যাটজাতীয় টুপি আর মেয়েরা স্কার্ফ পরতে পারেন। যাদের ত্বক পাতলা, বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে তাদের দুই ঘণ্টা পর পর নতুন করে ত্বকে সানব্লক লাগাতে হবে। কিছু ফেস পাউডার সানব্লকের কাজ করে। তবে দিনের রোদে তরল ফাউন্ডেশন ব্যবহার না করাই ভালো। এই রোদে ব্যবহৃত প্রসাধনী মানসম্মত কিনা সেদিকে সচেতন থাকতে হবে।

বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করা, যাতে সরাসরি রোদের মধ্যে থাকতে না হয়। এ সময় টুপি, ক্যাপও ব্যবহার করা যেতে পারে। রোদ থেকে বাঁচতে সাদা রঙের ছাতা ব্যবহার করা উচিত। কারণ সাদা রঙের বস্তু সূর্যের সব রঙের আলোকে প্রতিফলিত করে। তাই তুলনামূলক কম তাপ অনুভূত হয়। প্রচণ্ড গরমে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। ফলে মাংসপেশি ব্যথা, দুর্বল লাগা ও প্রচণ্ড পিপাসা হওয়া, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, বমিভাব ইত্যাদি লক্ষণ দেখা গেলে প্রেশার পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। গরমের সময় প্রতিদিন অবশ্যই গোসল করতে হবে, যা শরীর ঠাণ্ডা রাখবে। দিনে একাধিকবার হাত, মুখ, পায়ে পানি দিয়ে ধুতে পারলে ভালো। বাইরে বের হলে একটি রুমাল ভিজিয়ে সঙ্গে রাখতে হবে, যা দিয়ে কিছুক্ষণ পরপর মুখ মুছে নেয়া যাবে। রোদ থেকে ঘরে ফিরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে হবে। চাইলে টাটকা অথবা ফ্রিজে রাখা ঠাণ্ডা টমেটো দশ মিনিট ত্বকে লাগাতে পারেন। ত্বক ভালো থাকবে। তবে রেশ রয়েছে যাদের ত্বকে, তারা শুধু ঠাণ্ডা পানি বা ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করুন। ত্বক লালচে হয়ে জ্বালা করলে বরফ ঘষতে হবে। ত্বক ভালো রাখার জন্য সপ্তাহে এক থেকে দুই বার প্রাকৃতিক ফেসিয়াল প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×