মন মাতানো সুগন্ধি

ঘামের বাজে গন্ধটা নাকে আসতেই চোখমুখ কুঁচকে গেল। ভদ্রতা করে মনে মনে বলছেন, একটু পারফিউম দিয়ে এলে কী এমন ক্ষতি হতো! গরম মানেই ঘামের দুর্গন্ধ। গরমে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করে অনুভবে সতেজ ও তরতাজা থাকুন সুগন্ধিময়। সুগন্ধির সাতসতেরো আজকের আয়োজন।

  আঞ্জুমান আরা ১৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হঠাৎ ভেসে আসা কোনো ঘ্রাণ কি কখনও আমাদের থমকে দেয় না? বা মনের কোণে লুকিয়ে থাকা কোনো স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলে না? হতে পারে তা গোলাপের কী বকুলের ঘ্রাণ, প্রিয় বই কিংবা মায়ের শাড়ির পরিচিত গন্ধ, অথবা মাটির সোঁদা ঘ্রাণ। ঘ্রাণের ঠিক অতটাই শক্তি যা আমাদের হৃদয়ের কোনো চিরস্থায়ী আসন গেড়ে বসে থাকে; আর সময়ে সময়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। ঠিক সেভাবেই একজন ব্যক্তির গায়ের মিষ্টি ঘ্রাণেও আমরা মুগ্ধ হই, দীর্ঘদিন ধরে মনে রাখি তার উপস্থিতি।

ঘ্রাণকে নিজের অস্তিত্বে ধারণের চেষ্টা সেই সুদূর অতীত থেকেই চলে আসছে। পুরনোকালে উপমহাদেশের নারীরা সুগন্ধি হিসেবে ধূপের ধোঁয়া মাখত চুলে, গায়ে আর পোশাকের ভাঁজে ভাঁজে। ফুলের গয়নাও দারুণ সুগন্ধি হিসেবে কাজ করত। চমৎকার একটা সুগন্ধির ছোঁয়া আমাদের মনকে করে তোলে চনমনে।

কোথায় ব্যবহার করবেন

কাপড়ের ওপরে নয়, বরং শরীরের পালস পয়েন্টগুলো পারফিউম দেয়ার জন্য আদর্শ জায়গা। কব্জি, কনুইয়ের ভেতরের অংশ, কলার বোন, হাঁটুর পেছনে, পায়ের গোড়ালি, কানের পেছনে পারফিউম লাগালে গন্ধটা দীর্ঘস্থায়ী হয়। মজার কথা হল- চুলে পারফিউম লাগালে সেটা বেশ ভালো কাজ করে। সরাসরি স্প্রে না করে চিরুনিতে পরফিউম স্প্রে করে তারপর চুল আঁচড়ে নিন।

রাত ও দিনের সুগন্ধি

কিছু কিছু পারফিউম নির্দিষ্টভাবে ব্যবহার করা হয় রাত ও দিনের জন্য। দিনের বেলায় তুলনামূলক ভারি সুগন্ধিগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। রাতের বেলায় হালকা। কারণ দিনের বেলায় অনেকটা সময় ধরে সুগন্ধির প্রয়োজন। নারীদের জন্য দিনের বেলায় ক্যান্ডি, ফল ও ফুলের সুগন্ধি আদর্শ। রাতের জন্য ফুলভিত্তিক কড়া সুগন্ধি মানানসই হবে। ছেলেরা রাতের জন্য বেছে নিতে পারেন কাঠ, ফুল ও ফলের সুগন্ধি। বরফ-শীতল অ্যাকোয়াটিক সুগন্ধিও পুরুষদের জন্য আকর্ষণীয়।

কখন ব্যবহার করবেন

অনেকেই বাইরে বের হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে সুগন্ধি ব্যবহার করেন। এটা না করে বাইরে বের হওয়ার ২০ মিনিট আগে সুগন্ধি ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া গোসলের সময় শরীরের রোমকূপগুলো খুলে যায় বলে গোসলের পরপরই পারফিউম ব্যবহার করলে রোমকূপের গোড়া সুগন্ধি অনেকাংশেই টেনে নেয়। এতে সুগন্ধি দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়। পারফিউম দেয়ার সময় শরীরে থেকে ৫-৭ ইঞ্চি দূরত্ব বজায় রাখুন।

গরমের সুগন্ধি

গরমের সময় বেশি গাঢ় সুগন্ধি ব্যবহার না করাই ভালো। বেছে নিন হালকা মিষ্টি কোনোও সুগন্ধি।

গরমে এমন সুগন্ধি বেছে নিন, যাতে রয়েছে লেবু বা কাঠের মতো সুন্দর গন্ধ। স্ট্রবেরি, লেবুর সুন্দর গন্ধ আপনাকে মাতিয়ে দেবে। পারফিউমে যদি থাকে চন্দনকাঠের সুগন্ধ, তা হলে তা দীর্ঘ সময় আপনাকে সতেজ থাকতে সাহায্য করবে।

গরমের জন্য সেরা ফুলেল সুগন্ধি। সে ক্ষেত্রে রয়েছে গোলাপ, জুঁই, বেলি, ল্যাভেন্ডার আরও কত কী! জুঁই ও ল্যাভেন্ডারের সুগন্ধ প্রবল। গরমের জন্য বেছে নিতে পারেন তা।

সুগন্ধি সংরক্ষণ

অনেক দাম দিয়ে সুগন্ধি কিনলেন কিন্তু খুব বেশি দিন টিকল না, এটা নিশ্চয়ই কষ্টের। তাই সুগন্ধি কেনার পর একে শীতল স্থানে রাখুন। সূর্যের আলো যাওয়া-আসা করে, এমন জায়গায় পারফিউম রাখা যাবে না।

ব্র্যান্ডের সুগন্ধি

বাজারে ছেলে এবং মেয়েদের জন্য আলাদা আলাদা পারফিউম রয়েছে। মেয়েদের পারফিউমের ব্র্যান্ডের মধ্যে গুচি, ভার্সাচি, এসকাডা, সি, বারবেরির চাহিদা বেশি। ফুলেল সৌরভে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে হুগো বস ফ্লোরার কালেকশন থেকে বেছে নিতে পারেন। ফ্লোরাল সুগন্ধির মধ্যে আরও কিছু ব্র্যান্ড হচ্ছে চিরএনভি মি, গিল্টি, ভেলভেট ফরেস্ট উড, আইল্যান্ডকিস, ইনটেন্স প্রভৃতি। মেয়েদের জন্য মৌসুম ফল ও চকলেট ফ্লেভারের সুগন্ধিও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসকাডা, মোশিনো, থেরি মাগলারের মতো ব্র্যান্ড।

ছেলেদের পারফিউমের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড হচ্ছে আকুয়াডিজিও ও অবসেশন। তবে এগুলোর দাম বেশ চড়া। কিছুটা সাশ্রয়ী ব্র্যান্ডের মধ্যে ছেলেদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বস, ডানহিল, হুগো বস, অ্যাডিডাস, ফগ, বেকহ্যাম, জোভান, ফেরাবির মতো ব্র্যান্ডগুলো। শুরুতে একটু ঝাঁঝালো গন্ধ, অথচ কয়েক মুহূর্ত পরই অন্য এক সুবাসের মাদকতা- এমন সৌরভকে বলে স্পাইসি ফ্লেভার। ছেলেদের মধ্যে এমন সৌরভের জনপ্রিয়তা বেশি। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে অ্যাজারো, ব্ল্যাঙ্ক পিওর, ভার্ট-রিল্যাক্সডের মতো ব্র্যান্ড। ব্যবহার করতে পারেন বডিস্প্রে, ডিওডরেন্ট কিংবা বডিমিস্টও।

কোথায় পাবেন

যমুনা ফিউচার পার্ক শপিংমলের রয়েছে পারফিউম ওয়ার্ল্ডের বিশাল সংগ্রহ। পিংক সিটি মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, নাভানা টাওয়ারসহ বিভিন্ন শপিংমলেও পেয়ে যাবে নামিদামি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পারফিউম।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×