সন্তানকে স্বাবলম্বী করে তুলুন

  এনামুল হক বসির ১৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রত্যেক বাবা-মা-ই চান তার সন্তান যেন ছোট থেকেই স্বাবলম্বী হয়। নিজের কাজ নিজে করে। কিন্তু কীভাবে ওকে স্বাবলম্বী করে তুলবেন? এ বিষয়ে পরামর্শ-

পাশের বাসার নুহা প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। বয়স কম হলে কী হবে ছোট থেকেই ও কী সুন্দর গোছানো। ঘুম থেকে উঠে স্কুলের জামাকাপড়, জুতা, মোজা পরে রেডি হওয়া, রুটিন মিলিয়ে বই-খাতা নিয়ে যাওয়া- এ বয়সেই সব কাজ নিজে করে। ওকে দেখলে সত্যিই অবাক হতে হয়। নুহাকে নিয়ে ওর মায়ের কোনো চিন্তাই নেই। আর সানজিদ সম্পূর্ণ উল্টো। স্কুল থেকে ফিরেই জুতা, মোজা একটানে খুলে ঘরের কোণে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে কোনো রকমে জামাকাপড় ছেড়েই টিভি চালিয়ে দেয়। সানজিদের এই স্বভাব নিয়ে ওর মায়ের কোনো অভিযোগের শেষ নেই। নুহা আর সানজিদ সমবয়সী হলেও দু’জনের মধ্যে বিরাট ফারাক। সানজিদের মা মনে মনে ভাবে সানজিদও কবে নুহার মতো নিজে নিজের কাজ করতে পারবে। আসলে সব বাবা-মা-ই চান ছোট থেকেই বাচ্চা যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। ছোট থেকেই সন্তানকে স্বাবলম্বী করে তোলার দায়িত্ব কিন্তু অভিভাবকদের। স্বাবলম্বী করে তোলার প্রথম ধাপই হল সন্তানকে নিজের কাজ নিজে করতে শেখানো। সন্তান একটু বড় হওয়ার পর থেকেই তাকে ধীরে ধীরে ট্রেনিং দিয়ে নিজের কাজ নিজে করতে শেখান। শুরু করুন ছোট ছোট কাজ দিয়ে। যেমন স্কুল থেকে ফিরে বাচ্চাকে স্কুলের ব্যাগ, জুতা, মোজা যেখানে সেখানে রেখে না দিয়ে, জায়গার জিনিস জায়গায় রাখতে বলুন। প্রথম দিন আপনি দেখিয়ে দিন। দেখবেন, পরের দিন থেকে ও নিজের কাজ নিজে করতে পারবে। একইভাবে স্কুলের হোমওয়ার্ক নিজেকে করতে বলুন। প্রয়োজনে আপনি সাহায্য করুন, খেলার পর ওর খেলনাগুলো গুছিয়ে রাখতে বলুন। প্রতিদিন রাতে ঘুমিয়ে যাওয়ার আগে স্কুলের জামা, ব্যাগ, জুতা, মোজা রেডি করে রাখতে শেখান। একটু বড় হলে আপনি সাহায্য করা বন্ধ করে দিন। বাচ্চার জামা-কাপড় ভাঁজ করার সময় ওকে সঙ্গে রাখুন। ওকেও দু-চারটি জোমাকাপড় ভাঁজ করে রাখতে দিন। দরকার হলে আপনি শিখিয়ে দিন। তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন, প্রথম প্রথম কাজ করার সময় বাচ্চা স্বাভাবিকভাবেই অনেক ভুল করবে। হয়তো কাজটা আপনাকে আরও একবার করতে হবে। ধৈর্য ধরুন। ওর ওপর রেগে যাবেন না। রেগে গিয়ে বকাঝকা করলে ও কিন্তু নিজে থেকে কাজ করতে ভয় পাবে। তাই বাচ্চা ভুল করলে ওকে বকাঝকা করবেন না, ওকে দেখিয়ে দিন কীভাবে করতে হয়। ওর পাশে থেকে ওকে সাহায্য করুন। প্রয়োজন হলে একাধিকবার দেখিয়ে দিন, যতদিন না ও নিজে কাজটা ঠিকমতো করতে পারে। ও যেভাবেই কাজটা করুক ওর চেষ্টার প্রশংসা করুন। এতে ও কাজে উৎসাহ পাবে। বাচ্চার সামনে নিজেদের রোলমডেল হিসেবে তুলে ধরুন। আপনাকে দেখেই কিন্তু আপনার সন্তান শিখবে। বাসার কিছু কিছু কাজ এক সঙ্গে করুন যেমন আলমারি গোছানো, ঘর পরিষ্কার করা, গাছে পানি দেয়া। কাজ করতে করতে গল্পের ছলে ওকে শেখান, ওর থেকে সাহায্য চান। এতে কাজটা ইন্টারেস্টিং হয়ে উঠবে। আবার কাজটাও শিখে যাবে। ওকে কিছু দায়িত্বও দিন। বাসার ছোট ভাই বা বোনের ওপর নজর রাখা, দাদা-দাদির খেয়াল রাখা, তাদের প্রয়োজনের জিনিসগুলো হাতের কাছে এগিয়ে দেয়ার মতো সহজ কাজ। কোনো দায়িত্ব ভালো করে পালন করতে পারলে উপহার (চকলেট, গল্পের বই, কলম) দিন। সান্তানকে দায়িত্ব দিন। কিন্তু নিজে সব সময় সাপোর্ট সিস্টেম হয়ে ওর কাছাকাছি থাকুন। তাহলে ও ভরসা পাবে। কোনো কাজ সুন্দর করে করলে মন খুলে প্রশংসা করতে ভুলবেন না কিন্তু।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×