লুঙ্গির ঐতিহ্য

  শওকত আলী রতন ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তাতের লুঙ্গি।
তাতের লুঙ্গি।

সব বয়সের মানুষই লুঙ্গি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তবে লুঙ্গি যদি হয় আরামদায়ক ও মসৃণ তাহলে তো কোনো কথাই নেই। ঢাকার দোহার উপজেলায় হাতের সাহায্যে বুনানো লুঙ্গি ঐতিহ্য বহন করে চলেছে যুগ যুগ ধরে। এখানকার তাঁতিদের উৎপাদিত লুঙ্গি কেবল আরামদায়কই নয়, টেকসইও বটে! যে কারণে নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে এক ধরনের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টিকে আছে এ শিল্পটি। নান্দনিক নকশার মাধ্যমে অন্যান্য পোশাকে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হলেও এখন পর্যন্ত দোহারের তৈরি লুঙ্গিতে কোনো নকশা কিংবা প্রিন্টের কাজ হয়নি।

তবে একথা সত্য, রংবেরঙের সুতার বুননে সহজেই হয়ে ওঠে পরিচ্ছন্ন একটি লুঙ্গি। আমাদের দেশে অনেক এলাকাতেই অতীত ঐতিহ্যকে ধারণ করে দেশীয় ও তাঁতের সাহায্যে বুনানো লুঙ্গি তৈরি হলেও বুনন ও বৈচিত্র্যের জন্য দোহার উপজেলার তাঁতিদের হাতের সাহায্যে বুনানো লুঙ্গির কদর সারা দেশে। সূক্ষ্ম সুতার সাহায্যে বুননই দোহারের লুঙ্গির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

জানা যায়, আজ থেকে প্রায় দু’শত বছর আগে জীবন-জীবিকার তাগিদে খুব ভালোভাবেই গোড়াপত্তন হয়েছিল এ শিল্পের। উপজেলার মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ লোক সরাসরি এ পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। দেশ স্বাধীনের আগে এ শিল্পের স্বর্ণযুগ ছিল।

বিদেশি পোশাকের আগ্রাসন ও মেশিনের সাহায্যে দেশে লুঙ্গি উৎপাদন শুরু হলে ’৮০-এর দশক থেকে স্থানীয় লুঙ্গির চাহিদা কমতে থাকে। মেশিনের সাহায্যে তৈরি লুঙ্গি কম দাম হওয়ায় মানুষজন ওদিকেই ঝুঁকতে থাকে। কিন্তু গুণাগুণের দিক বিবেচনা করলে হাতের সাহায্যে বুনানো লুঙ্গি সবদিক থেকেই উন্নত। যে কারণে রুচিশীল মানুষের কাছে প্রথম পছন্দ দোহারের তাঁতের সাহায্যে বুনানো লুঙ্গি।

নিকট অতীতেও দোহার উপজেলার সব ক’টি ইউনিয়নে লুঙ্গি তৈরির কাজ হতো, এখন জয়পাড়া ও রাইপাড়া এ দুটি ইউনিয়নে তাঁতের কাজ চলছে। এ সম্প্রদায়ের লোকজন এ কাজ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর কারণে শ্রমিকের অভাবে মারাত্মকভাবে হুমকির মধ্যে পড়ে এ শিল্পটি।

সেই থেকে শ্রমিকের সমস্যা রয়েই গেছে, পুরোপুরি শ্রমিকনির্ভর হওয়ায় আগের মতো লাভ হয় না তাঁতিদের। এছাড়া উৎপাদিত লুঙ্গির নিয়মিত হাট বসত শিবরাপুর ও জয়পাড়ায়। এখন সেই হাটেও আগের মতো জমজমাট নেই। যার দরুন লুঙ্গি ব্যবসায়ীদের কাজ থেকে অর্ডার পাওয়ার পর লুঙ্গি তৈরি হয়ে থাকে।

নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে অতীত ঐহিত্যকে ধরে রেখেছেন এখানকার তাঁতিরা। এক সময়ে বিখ্যাত মসলিন কাপড় তৈরি হতো এ দোহারের জয়পাড়া ও মালিকান্দা এলাকায়। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে হারিয়ে গেছে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ মসলিন কাপড়।

জয়পাড়ার প্রতিষ্ঠিত লুঙ্গি ব্যবসায়ী মো. মজিবর বেপারী। তিনি নিজ বাড়িতে মাসিক চুক্তিতে বেশ কয়েকজন কারিগর দিয়ে তাঁত চালু রেখে লুঙ্গি উৎপাদন করছেন। আবার স্থানীয় তাঁতিদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে লুঙ্গি কিনে বিক্রি করছেন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের কাছে। মজিবর বেপারী জানান, দোহারে এক সময় কেবল পরিবারের সব সদস্যদের সহযোগিতায় উৎপাদিত হতো লুঙ্গি। এখন তাঁতি পরিবারের লোকজন এ কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় নিযুক্ত হওয়ায় হুমকির মধ্যে পড়েছে এ শিল্পটি। পুরোপুরি বাইরের শ্রমিকের উপর নির্ভর এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা দুরূহ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×