শীতের শেষে

  হাবীবাহ্ নাসরীন ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শীতের ধূসর-মলিন রূপকে পেছনে ফেলে এসেছে বসন্ত। প্রকৃতি সেজে উঠেছে অপরূপ সাজে। চারদিকে নানা ফুলের সমাহার, কোকিলের কুহু ডাক আর হঠাৎ হঠাৎ মন কেমন করা হাওয়া- বসন্তের এমন রূপে নয়ন জুড়িয়ে যায়! প্রকৃতির এ হঠাৎ পরিবর্তনের চিহ্ন পড়ে আমাদের ত্বকেও। তাই এ সময়ে ত্বকের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। ত্বক ভালো রাখতে আমরা যত কিছুই করি না কেন, ত্বক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে প্রথম শর্ত। তা হলে ত্বক থাকবে সুন্দর ও সজীব। সেজন্য বেছে নিতে হবে সঠিক খাদ্য তালিকা আর ত্বকের যত্ন।

খাবার

এই সময়ে খাদ্যতালিকায় হালকা ও কম চর্বিযুক্ত খাবার রাখতে হবে, যা আমাদের শরীরের জন্য পুষ্টিবর্ধক। গরমে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে, তা হল এ সময় আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পানি চলে যায়। এটি পূরণ অত্যন্ত জরুরি। তাই অনেক বেশি পানি পান করতে হবে। খাদ্য তালিকার খাবারে আরও থাকবে সবজি ও প্রচুর ফল। গরমকালে ফলের প্রয়োজনীয়তা বেশি বলেই হয়তো এ সময় হরেক পদের রসালো ফলে ছেয়ে যায় বাজার। তরল পানিয়ের পরিবর্তে বিভিন্ন ফলের ঠাণ্ডা রস ও লেবুর শরবতের বিকল্প নেই। কিন্তু বাইরে খোলা আকাশের নিচে বানানো বিভিন্ন শরবতের প্রতি দৃষ্টি না দেয়াই ভালো। সেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত কি না তা দেখতে হবে। সকালের নাশতার তেলে ভাজা পরোটা ও সবজি এড়িয়ে চলাই ভালো। নাশতা হতে হবে অবশ্যই পুষ্টিকর ও ফলযুক্ত। সারা দিনের খাদ্য তালিকা যাই হোক না কেন, সকালের খাবার হতে হবে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খাদ্য তালিকায় যেন ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বড়দের ক্ষেত্রে খাবারে কমপক্ষে ৪০০ ক্যালোরির জোগান থাকা উচিত। সকালে বা রাতে যখনই হোক না কেন, দুধ থাকতে হবে। দুপুরের খাবারে সবজি একটা জরুরি খাবার। সেটি তেলে না ভেজে গ্রিল বা বাষ্পে ভাপ দিয়ে নিয়ে খাওয়া যেতে পারে। সবজি রান্নায় অল্প আঁচ হলে তার পুষ্টিগুণ অটুট থাকে। অন্যান্য খাদ্য তালিকার পাশাপাশি দই গরমকালে আমাদের শরীরের এক মহা আপনজন-সেটি টক দই বা মিষ্টি দই যাই হোক না কেন। বেশি কোলেস্টেরল খাবার পরিহার করার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সয়াবিন তেলের পাশাপাশি অলিভ তেলও ব্যবহার করা যেতে পারে। খাবার মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। খাবার পর ভিটামিন ‘সি’ যুক্ত বা যেকোনো ফল খাওয়ার অভ্যাস ভালো। রাতে খাদ্য তালিকায় ভারি খাবার না রাখাই ভালো। অনেক রাত করে রাতের খাবার খাওয়া শরীরে চাপ সৃষ্টি করে। এতে পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে ডায়রিয়া, বদহজম, বমি বমি ভাব হয়। তাই আগেই রাতের খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। রাতে ঘুমানোর আগে দুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে গরম দুধ না খাওয়াই ভালো। খাবার দীর্ঘ সময় পর বেশি করে না খেয়ে, কম সময় পরপর (চার ঘণ্টা কমপক্ষে) বারবার খাওয়ার অভ্যাস ভালো। তবে পরিমাণ অবশ্যই কম হবে। খাওয়ার সময়টা ঠিকভাবে মেনে চলা উচিত।

যত্ন

প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রাকৃতিক উপাদানই ত্বকের যত্নে সবচেয়ে বেশ কার্যকরী। ত্বক সতেজ রাখতে ব্যবহার করতে পারেন লেবু এবং টমেটো। পানি ব্যবহার না করে শুধু টমেটো দিয়ে জুস তেরি করুন। এবার জুসটি ফ্রিজে রেখে বরফ তৈরি করুন। এই বরফ টুকরোগুলো আলতো করে ত্বকে ঘষে নিন। শুধু শীতেই নয়, শীতের শেষের আবহাওয়াও ঠোঁটের ক্ষতি করে থাকে। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের অত্যন্ত ক্ষতি করে। তাই এই সময়টায় বাইরে না যাওয়ার চেষ্টা করুন। যদি বাইরে যেতে হয়, তা হলে চোখে সানগ্লাস পরুন, সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং ঠোঁটে লিপবাম ব্যবহার করুন। এসময় বাতাসে প্রচুর ধুলাবালি আর ঘামের কারণে মুখের ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। তাই ধুলাবালি থেকে ত্বক রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। তা না হলে পিম্পলের সমস্যা দেখা দেয়। তাই দিনে কয়েকবার পানির ঝাপটা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। যেসব ক্রিম একটু ঘন বা পরু, সেগুলো শীতকালের জন্য উপযুক্ত হলেও শীতের শেষে তা একেবারেই ব্যবহার করা চলবে না। আবহাওয়া বুঝে প্রসাধনী ব্যবহার করুন, গরমে এমন প্রসাধনী ব্যবহার করুন যেগুলো আপনার ত্বকের লোমকূপ আটকে না ফেলে। হালকা ধরনের ক্রিম এবং লোশন ব্যবহার করুন। এই সময়ে ত্বকের বাড়তি যত্ন তো নেবেনই, কিন্তু তা বলে স্বাভাবিক যত্ন নিতে ভুলে যাবেন না। অনেকেই মনে করেন শীত চলে গেলে আর ত্বক শুষ্ক হয় না। তবে এই ধারণাটি সঠিক নয়। শীতের শেষেও আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে ভুলবেন না যেন।

কিছু টিপস

মুলতানি মাটি, কাঁচা হলুদ ও জলপাইয়ের তেল একসঙ্গে মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে মুখে, হাতে ও পায়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললেও ত্বক সতেজ হবে।

যাদের হাতের চামড়া অত্যাধিক পরিমাণে রুক্ষ, তারা ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার না করে ময়েশ্চারাইজারযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে উপকার পাবেন।

তিলের তেল, গ্লিসারিন ও গোলাপজল সমপরিমাণে মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক সুন্দর ও মসৃণ হয়।

সপ্তাহে একদিন মধু, গ্লিসারিন, লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে লাগাতে পারেন। এই মাস্ক পরিষ্কারের পাশাপাশি ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে।

পানি ত্বকের ময়েশ্চারাইজ হিসেবে কাজ করে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করলে ত্বকের ময়েশ্চারাইজ বজায় থাকবে।

মাসে অন্তত একবার ভালো কোনো বিউটিপার্লার থেকে মেনিকিউর ও পেডিকিউর করলে হাত-পায়ের ত্বক সুন্দর থাকে।

ত্বকে কালো দাগ হলে দাগযুক্ত স্থানে লেবুর রস ও মধু লাগান। লেবুর রস ও মধু ত্বকের কালো দাগ দূর করে। হাত-পায়ে গ্লিসারিন বা লোশন ম্যাসাজ করলে ত্বকের ভেতরে রক্ত-সঞ্চালনে হয়, ফলে ত্বক সজীব হয়ে ওঠে।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.