তারুণ্য ধরে রাখতে কী করবেন?

  শওকত আরা সাঈদা (লোপা) ডায়েটিশিয়ান অ্যান্ড ইন-চার্জ, পারসোনা হেল্থ, ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তারুণ্য ধরে রাখতে।
তারুণ্য ধরে রাখতে। ছবি সংগৃহীত

আমরা সারা দিন কি ধরনের খাবার খাই তার ওপরই আমাদের দেহ ও ত্বকের ধরন নির্ভর করে। অ্যান্টিএজিং খাবারগুলোর মাধ্যমেই মূলত সুন্দর তারুণ্য উজ্জ্বল দেহ ও ত্বক পাওয়া সম্ভব। যখনই আমাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার, ভালো ফ্যাট, অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানগুলো এবং প্রয়োজনীয় পানি থাকবে তখন আমাদের শরীরের ত্বক, যার মাধ্যমে সেটার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ যে কোনো সমস্যা প্রথমে ত্বকের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। শুধু খাবারের মাধ্যমেই ত্বকের অনেক ধরনের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব সেটা বিভিন্ন লোশন, ক্রিম, মাস্ক বা সিরামের ব্যবহার করেও সম্ভব না।

গবেষকদের মতে নিস্তেজ ত্বক ও বলিরেখা দূর করে তারুণ্য ধরে রাখতে সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হচ্ছে ফল ও শাকসবজি খাওয়া। আমাদের প্রতিদিনের খাবারে রাখতে হবে এসব খাবারগুলো। তাই জেনে নিতে হবে কিছু অ্যান্টিএজিং ফল ও সবজির সম্পর্কে।

পাকা পেঁপে : বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর খাবারটি ত্বকের বলিরেখা ও কুঁচকে যাওয়া প্রতিরোধ করে। ভিটামিন এবিসিই এবং কে, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম সমৃদ্ধ পেঁপে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর ফ্রি র‌্যাডিকেলকে ধ্বংস করে ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। পেঁপেতে থাকা পাপাইন নামক উপাদান ত্বকে বয়সের ছাপ পড়াকে বিলম্বিত করে। নিয়মিত পেঁপে খেলে বা ত্বকে ব্যবহার করলে মরা কোষ দূর করে ত্বককে করে তুলবে ঝলমলে উজ্জ্বল। তাই প্রতিদিন সামান্য লেবুর রস দিয়ে একবাটি পেঁপে খেতে পারেন বা চটকে নিয়ে মুখে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

পালংশাক : আয়রন, লুটেইন, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ সি ই ও কে সমৃদ্ধ পালংশাকও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর যা পুরো শরীর আর্দ্র রাখে। এর উচ্চমাত্রার ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বককে মসৃণ ও মজবুত রাখে। এছাড়া ভিটামিন এ চুলের গোড়াকে শক্ত ও উজ্জ্বল করে। তাই প্রতিদিনের খাবারে পালংশাক রাখা উচিত। সেটা রান্না করেই হোক, সালাদ, স্মোদি বা জুস যে কোনোভাবেই খেতে হবে তারুণ্য ধরে রাখতে হলে।

ব্রকলি : এ সবজিটিকে অ্যান্টিএজিং ও অ্যান্টি ইনফ্লামেশনের আধার বলা যায়। কারণ এটিতে ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ফোলেট, বেশ কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি এবং কে থাকে। ভিটামিন সি ত্বকে কোলাজেন নামক প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে যা ইলাস্টিসিটি বাড়াতে সাহায্য করে। যার ফলে ত্বক হয়ে উঠে উজ্জ্বল।

বাদাম : অনেক ধরনের বাদাম বিশেষ করে কাঠবাদাম হচ্ছে ভিটামিন ই এর একটি বড় উৎস যা আমাদের ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে মেরামত করতে, আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এছাড়া আখরোট বা ওয়ালনাটে থাকে আমাদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় ওমেগা ৩ ও ফ্যাটি এসিড যা ত্বকের কোষকে মজবুত করে, রোদে পোড়া দাগ দূর করে ও ত্বকের ভেতরে প্রাকৃতিক তেল ধরে রেখে ত্বককে উজ্জ্বল করে। তাই প্রতিদিন বাদাম খাওয়া উচিত।

মিষ্টি আলু : বেশ সহজলভ্য এ খাবারটিতে ভিটামিন সি এবং ই থাকে যা আমাদের ত্বককে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেল থেকে রক্ষা করে এবং ত্বককে করে তুলে উজ্জ্বল ও দীপ্তিময়। এছাড়া লাল মিষ্টি আলুতে থাকে ভিটামিন এ যা ত্বকের ইলাস্টিসিটি ধরে রাখে, নরম ও তারুণ্যোজ্জ্বল করে।

আনার : আয়রন, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর এ ফলটি অনেক দেশেই ভেষজ ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি ফ্রি র‌্যাডিকেলকে ধ্বংস করে এবং আমাদের দেহের অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীলতা কমাতেও সাহায্য করে। এছাড়া এ ফলটিতে punicalagins নামক একটি যৌগ থাকে যা আমাদের ত্বকের কোলাজেনকে সংরক্ষণ করে আমাদের ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ পড়াকে বিলম্বিত করতে সাহায্য করে।

জলপাই : টক এই ফলটি অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না এতে অবিশ্বাস্য রকমের পলিফেনল ও অন্য ফাইটো নিউট্রিয়েন্ট আছে যা আমাদের ডিএনএ কে প্রতিরক্ষা দেয় এবং তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।

মাশরুম : ভিটামিন ডি খুব কম খাবারেই থাকে যার মাঝে মাশরুম একটি। আমাদের দেশে ভিটামিন ডি এর অভাব অনেকের মাঝেই দেখা দিচ্ছে। ভিটামিন ডি ছাড়া ক্যালসিয়াম আমাদের দেহে শোষণ হয় না। আবার ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্টিওপেরোসিস, ভঙ্গুর হাড়, হাড় বাঁকা হয়ে যাওয়া বা হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই তারুণ্য ধরে রাখতে সুস্থ হাড় থাকাও আমাদের জন্য জরুরি। তাই প্রতিদিনের খাবারে মাশরুম রাখতে পারেন।

গাজর : অ্যান্টিএজিং গুণাগুণ সমৃদ্ধ আর একটি সবজি হচ্ছে গাজর। সহজলভ্য এ সবজিটিতে থাকে অনেক বেশি পরিমাণ ভিটামিন এ, এটি আমাদের ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোলাজেনকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে সাহায্য করে যা আমাদের ত্বকের কোষের পুনর্গঠন ও ইলাস্টিসিটি ধরে রাখার কাজ করে। এর ক্যান্সার প্রতিরোধের গুণাগুণও আছে। এটি হতে পারে আমাদের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর একটি নাশতা।

হলুদ : আমাদের প্রত্যেকের রান্নাঘরেই এ মসলাটি পাওয়া যায়। এটি একটি জাদুকরি মসলা। ত্বকের কোষ নষ্ট হওয়া, বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগ, ত্বক কুচকে যাওয়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও হলুদ আমাদের বিভিন্ন অঙ্গগুলোকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

টমেটো : রান্না করা টমেটো লাইকোপিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর যা আমাদের ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। যদিও রান্না করার আগেও টমেটোতে লাইকোপিনের উপস্থিতি থাকে, তবে রান্না করাটা সহজে হজম হয়। তাই টমেটো স্যুপ রাখা যায় নাশতা হিসেবে। মুখেও লাগাতে পারেন যা ত্বককে টান টান রাখতে সাহায্য করে।

তিল : তারুণ্য ধরে রাখতে আমাদের হাড়ের দিকে নজর দেয়াও জরুরি। এক্ষেত্রে তিল রাখা যায় প্রতিদিনের খাবারে কারণ এটিতে ক্যালসিয়াম ছাড়াও অন্য মিনারেল যেমন আয়রন, ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফেট থাকে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×