মৌসুমী হালকা সাজে

  লাইফস্টাইল ডেস্ক ২৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মৌসুমী হালকা সাজে
মৌসুমী হালকা সাজে। ছবি সংগৃহীত

শুরু হয়েছে হেমন্ত। চারদিকে ঠাণ্ডা হাওয়া বইছে। সঙ্গে উৎসবের গন্ধও যেন ভেসে আসছে। এখন থেকেই শুরু হয়ে যাবে বিয়ে, জন্মদিন, গেট-টুগেদার, বন্ধুদের আড্ডা, বার-বি-কিউ পার্টিসহ আরও কত আয়োজন! মজার বিষয় হচ্ছে এসব উৎসব অনুষ্ঠানে এখন আর গ্রীষ্মের মতো বাছবিচার করে সাজতে হবে না। ইচ্ছামতো সাজপোশাক বেছে নিতে পারেন এখনকার আয়োজনে। কেমন হবে এ সময়ের সাজপোশাক। বিস্তারিত দেখুন

হেমন্ত থেকেই শুরু হতে থাকে বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। আর এসব উৎসব অনুষ্ঠানের ধরনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমাদের পোশাক, সাজসজ্জা, অলঙ্কার নির্বাচন করতে হয়। এ সময়ে আবহাওয়ায় গরম, বৃষ্টি খুব একটা থাকে না।

ফলে জমকালো পোশাক পরাসহ ভারী মেকআপ সবই করা যায়। তাই গরমে স্বস্তির কথা ভেবে সাজপোশাকে এতদিন যেসব এগিয়ে চলেছিলেন এখন তা নিশ্চিন্তে হাতে তুলে নিতে পারেন। হালকা শীতে সিল্ক, সুতি, মসলিন, অ্যান্ডি কাপড়ের পোশাক আকর্ষণীয় এবং আরামদায়ক। শাড়ির সঙ্গে লম্বা হাতার ব্লাউজ পরুন, ফ্যাশনের সঙ্গে হালকা শীত তাড়াতেও কাজে দিবে। শীতের সাজপোশাকে রাখতে পারেন রঙের খেলা। লিপস্টিক তো কমবেশি সবাই উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার করছেন। এ সময়টাতে শুধু লিপস্টিক নয়, ব্লাশন, আইশ্যাডো, মাশকারা সবকিছুতেই নিয়ন রং, চকচকে রঙের একটা প্রভাব থাকবে। গরমে লিপগ্লস ব্যবহারে অস্বস্তি হয় কিন্তু শীতে এ ঝামেলা নেই, বরং এ সময় ঠোঁট ফাটা এবং শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয় বলে ম্যাট লিপস্টিকের চেয়ে গ্লসি লিপস্টিক কিংবা ক্রিমি বা ভেলভেট ধরনের লিপস্টিক ভালো। সাজের ক্ষেত্রে শিমারি বেইজ মেকআপ বেছে নিতে পারেন।

রোদেলা দুপুরে

এ সময় দিনের বেলা দাওয়াতে পরতে পারেন সুতি, রেশমি কটন, কোটা, জুট কটন, হাফসিল্ক শাড়ি। সুতি শাড়িতে হাতের কাজ, গুজরাটি, স্ক্রিন প্রিন্ট, মেশিন অ্যাম্ব্রয়ডারি নকশা এখন বেশি চলছে। কাজ ভারী হলেও এসব নকশায় গরম কম লাগে। পরতে পারেন লং সালোয়ার-কামিজ, ডাবল লেয়ার কামিজ, কুর্তিও। হালকা নকশার ফিউশনধর্মী প্যাটার্নের সালোয়ার-কামিজ এখন জনপ্রিয়। গাঢ় রঙের ঘের দেয়া কুর্তির সঙ্গে হালকা রঙের লং কোটিতে নতুনত্ব আসবে। গোলাপি, আকাশি, নীল, সবুজ রঙের পোশাকে এখন রাঙাতে পারেন নিজেকে। পোশাক তো হল, এবার কীভাবে সাজবেন ভাবছেন? তাহলে জেনে রাখুন, জমকালো সাজ- রাতের জন্য এটা আমরা জানি। তবে হেমন্তে বা শীতে কিন্তু চাইলে দিনের বেলাতেও জমকালো সাজে সাজতে পারেন। সাজের ক্ষেত্রে চুলটাকে একটু অগোছালো করে সাইডে ছেড়ে রাখলে স্টাইলিশ লাগবে। করতে পারেন লম্বা বেণী। শাড়ির সঙ্গে ফন্ট সাইড টুইস্ট করে মাথার মাঝ বরাবর একটু ফুলিয়ে পেছনে বেণী খোঁপা করে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিতে হবে। সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে হালকা রোল, কার্ল করে চুল ছেড়ে রাখতে পারেন। চোখে কাজল, মাশকারা ঘন করে লাগালে সুন্দর লাগবে। আইশ্যাডো ব্যবহার করুন কপার, ব্রোঞ্জ রঙের। দুপুরের অনুষ্ঠানে হালকা পোশাকের সঙ্গে রুপা, সিলভার রঙা দুই-তিন লহরের ঝুমকা কিংবা মেটালের ছিমছাম গহনা ভালো দেখাবে। একহাতে সরু বালা ব্রেসলেট পরে অন্য হাতে পরতে পারেন ঘড়ি।

ঝলমলে সন্ধ্যায়

সন্ধ্যার দাওয়াত। এ সময় ভালো লাগবে একটু ঝলমলে শাড়ি। এক্ষেত্রে প্রাধান্য দিতে পারেন ঢাকাই জামদানি, রাজশাহী সিল্ক, মসলিন, কাতান শাড়িতে জারদৌসি, জরি সুতার কাজ। জমিনে হালকা, পাড়ে ভারী নকশার শাড়ি এখন জনপ্রিয়। ম্যাজেন্টা, নীল, লাল, মেরুন, সবুজ, কালো ধাঁচের রংগুলো ঝলমলে সন্ধ্যায় পরফেক্ট। পরতে পারেন উজ্জ্বল রঙের সালোয়ার-কামিজও। হেয়ার স্টাইলের ক্ষেত্রে চুলের সামনের দিকটা হালকা ফুলিয়ে সোজাসাপটা ব্লু ড্রাই করে চুল খোলা রাখতে পারেন। লম্বা চুলে বেণী করে তাতে লাগান যেতে পারে বাহারি ফুল। এ বেলায় চোখের সাজে গুরুত্ব দিন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে দুই রঙের আইশ্যাডোর মিশেলে চোখের ওপরের পাতা সাজিয়ে নিন। ভারী সাজের সঙ্গে থাকা চাই আইল্যাশ, মাশকারা এবং আইলাইনার। জুয়েলারি হিসেবে স্টোন, সোনা কিংবা সোনার প্রলেপ দেয়া গহনা বেছে নিতে পারেন।

জমকালো রাতের সাজ

একেবারেই সাদামাটা পোশাক রাতের সাজে মানানসই নয়। রাতের পার্টির জন্য হাফসিল্ক, অ্যান্ডি, জামদানি, মসলিনের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ভালো লাগবে। পার্টিতে পরার জন্য আমাদের দেশীয় ঐতিহ্যবাহী শাড়িই সেরা। জরি-চুমকির কাজ বাদ দিয়ে এখন ট্রেডিশনাল শাড়িতে ছিমছাম বুটি নকশা, সুতার কাজ, কারচুপি, মেশিন অ্যাম্ব্রয়ডারির কাজে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে কেউ যদি স্টোনের ভারী কাজের শাড়ি পরতে চান সেক্ষেত্রে জর্জেট, সিল্কের ওপর জারকান স্টোন, জারদৌসি, গোটাপাত্তি, অ্যাম্ব্রয়ডারির কারচুপি কাজ জমকালো লুক আনবে।

রাতের অনুষ্ঠানে পোশাকটা জমকালো হলে তার সঙ্গে একেবারে লাইট সাজ মানাবে না। রাতে একটু ব্রাইট টোনের সাজ ভালো লাগবে। ঠোঁটে হালকা গোলাপি ও বেইস রঙের মিশেলে লিপস্টিক দিন।

চোখ স্মোকি করে কাজল দিয়ে টেনে এঁকে নিলে কিংবা গ্লিটার দিলে মানাবে। চোখের নিচে হাইলাইটার হিসেবে ব্যবহার করুন রুপালি-সোনালি রঙের আইশ্যাডো। আজকাল নানা কায়দায় চুল সাজানো-ফ্যাশনের বড় এক অংশ। সামনের চুলগুলোকে চিকন বেণী, টুইস্ট করে পেছনে গোল করে পেঁচিয়ে রাখা যেতে পারে। আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে রোলার স্টাইলার দিয়ে হালকা কোঁকড়া করেও নিতে পারেন। এখন সেমি রুপার ভারী কাটাইয়ের কাজের গহনা, মুক্তা, ডায়ামন্ড কাট গহনাসহ বিভিন্ন ধরনের গহনা ব্যবহার হচ্ছে। তবে জমকালো সাজপোশাকের সঙ্গে গহনা হতে হবে ছিমছাম, নয়তো জবরজং লাগবে। মুক্তার লেয়ার সীতাহার, চোকার, লেয়ার নেকলেস, লহরি ঝুমকা পার্টি শাড়ির সঙ্গে মানানসই। শাড়ির সঙ্গে হাতে নকশাদার লম্বা ঝোলানো ব্যাগ আর সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে একরঙা ছোট পার্স রাখতে পারেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×