উড়ছে ঘুড়ি ভোকাট্টা ভোঁ...

  হাসান মাহমুদ রিপন ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উড়ছে ঘুড়ি ভোকাট্টা ভোঁ...
উড়ছে ঘুড়ি ভোকাট্টা ভোঁ...। ছবি সংগৃহীত

নীলাকাশে উড়ছে ঘুড়ি। হচ্ছে কাটাকাটির খেলা আর ডানপিটে ছেলেরা ‘ভোকাট্টা’ বলে উল্লাস করছে। কেউ ছুটে চলছে কেটে যাওয়া ঘুড়ির পেছনে। যদিও এমন দৃশ্য এখন আর শহর কিংবা গ্রামে খুব একটা দেখা যায় না।

ঘুড়ি আবহমানকাল থেকে আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। এক সময় ছেলে-বুড়ো সবার কাছে ঘুড়ি উড়ানোর জনপ্রিয়তা ছিল তুমুল। পৃথিবীর অনেক দেশেই ঘুড়ি উড়ান হয়। এশিয়ার মধ্যে চীন, জাপানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার এবং ইউরোপ ও আমেরিকার বেশ কিছু দেশেও ঘুড়ি উড়ান হয়, যা শৈল্পিক বর্ণাঢ্য নকশার নিদর্শন।

আজকাল যত ধরনের ঘুড়ি দেখা যাচ্ছে সেগুলো কখন, কোথায় এবং কে প্রথম বানিয়েছিল তার সঠিক ইতিহাস জানা যায়নি। জানা গেছে, চারশ’ খ্রিস্টপূর্ব গ্রিস দেশে বিশ্বের প্রথম ঘুড়ি তৈরি হয়েছিল। ঘুড়িটি উড়িয়েছিলেন বিজ্ঞানী আর কিয়াটাস। আবার অনেকের ধারণা, ছয়শ’ খ্রিস্টপূর্ব চীন দেশে প্রথম ঘুড়ি তৈরি হয়েছিল। সেই ঘুড়িটি তৈরি করেছিলেন সেনাপতি হানসিন।

ঘুড়ির বর্ণ-বৈচিত্র্য দেখতে হলে আমাদের যেতে হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং কোরিয়া হল বর্ণময় ঘুড়ির পীঠস্থান। শুধু চীনেই আছে তিনশ’ ধরনের ঘুড়ি। প্রজাপতি, মাছ, পাখি, মৌচাক, ড্রাগন, চিল, মানুষসহ আরও কত ধরনের ঘুড়ি যে আছে তার ইয়ত্তা নেই। খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের দিকে চীন দেশের মানুষ প্রথম কাগজ আবিষ্কার করে। এ থেকে অনেকেই মনে করেন, ঘুড়িও সম্ভবত চীন দেশেই প্রথম তৈরি হয়েছে। যাদের ধারণা, ঘুড়ি চীনেই প্রথম তৈরি হয়েছে তাদের মতে, চীন থেকে জাপান এবং পরে অন্য অনেক দেশ ঘুরে তা বাংলাদেশে এসেছে। এটা একটা অনুমান মাত্র। কারও দাবির স্বপক্ষে লিখিত কোনো প্রমাণ নেই। এ অনুমানকেই মেনে নিতে হলে ঘুড়ির জন্মতারিখ পিছিয়ে কাগজের জন্মের পরে আনতে হয়।

ঘুড়ি নিয়ে বিশ্বে রেকর্ড হয়েছে অনেক। ১৯৬৭ সালের ২৯ নভেম্বর প্রফেসর ফিলিপ আর কুনজ এবং জেপি কুনজ উয়োমিং-এর লারামি থেকে ২৮,০০০ ফুট উঁচুতে ঘুড়ি উড়িয়ে বিশ্ব রেকর্ড করেছিলেন এবং ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত একটানা সাতদিন অর্থাৎ ১৬৯ ঘণ্টা ঘুড়ি উড়িয়ে রেকর্ড করেছিল ফ্লোরিডা শহরের ল্যান্ডার ভিলে ‘দ্য সানরাইজ ক্লাব’। ১৯৩৬ সালে জাপানের নারুতা শহরে তৈরি হয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘুড়ি। ওই ঘুড়ির ওজন ছিল প্রায় সাড়ে ৯ টন। তিন হাজার একশ’ টুকরো কাগজ দিয়ে ঘুড়িটা তৈরি হয়েছিল।

আমাদের দেশে বিভিন্ন এলাকায় ঘুড়ি খেলার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আগে গ্রামাঞ্চলে ঢাকঢোল পিটিয়ে আনন্দঘন উৎসবে ঘুড়ি খেলার প্রতিযোগিতা হতো। কেউ ছিল লাল দলে, কেউবা কালো কিংবা নীল দলে।

এখন পুরান ঢাকায় ঘুড়ি-উৎসব পালন হয় সবচেয়ে বেশি। ঘুড়ি-উৎসবের দিনে সুতোর মাঞ্জা দিয়ে রংবেরঙের নানা বৈচিত্র্যের ঘুড়ি নিয়ে আকাশে ঘুড়ির লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের দেশে কবে ঘুড়ি এসেছিল সে বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সুতোয় মাঞ্জা দিয়ে ঘুড়ির প্যাঁচ খেলা শুরু হয়েছিল প্রথম শাহ আমলে। মোগল আমলে ঘুড়ি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল একটু বেশি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×