ভ্রমণসঙ্গী ব্যাগ

  একে রাসেল ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাচ্চাদের পরীক্ষাও প্রায় শেষ। সামনেই ইংরেজি নববর্ষ আর বড়দিনের ছুটি। সেই সঙ্গে শীতকাল মানে ভ্রমণপিপাসুদের বিশেষ সময় ঘোরাঘুরির। শীতে ঘোরাঘুরি বা বেড়ানোর সঠিক সময়- কেননা নেই কোনো গরম বা ধুলাবালি।

অনেকে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যায় আবার কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। শীতে ঘোরাঘুরি করার মজাই আলাদা। তবে মনে রাখতে হবে, এ সময় সতর্ক আর সাবধান থাকা খুবই জরুরি।

যেহেতু শীত পড়ছে তাই সঙ্গে গরম কাপড় নিয়ে যাবেন। ঘুরতে যাওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর কী হতে পারে। তাই অনেকেই এখন দীর্ঘ কিংবা সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের দিনক্ষণ গুনছেন। তবে যেভাবেই ভ্রমণে বের হোন না কেন সে জন্য থাকা চাই পুরোপুরি প্রস্তুতি। তা না হলে ভ্রমণ আনন্দ পরিণতি হতে পারে নিরানন্দে।

ভ্রমণে যাওয়ার আগে

যেহেতু শীতে যাচ্ছেন, তাই ভ্রমণে যাওয়ার আগে জেনে নিন শীতকালে ভ্রমণের জন্য কোন জায়গাগুলো উপযোগী। কারণ শীতকালে সব জায়গা ভ্রমণের জন্য উপযোগী নয়। যেমন শীতকালে ঝর্ণা দেখতে গেলে ঝর্ণার বদলে শুধু পাহাড় দেখার সম্ভাবনাই বেশি। তাই এ সিজনে ভ্রমণে যাওয়ার জন্য কোন জায়গাগুলো উপযোগী এবং এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক বিষয় জানতে পত্রিকা, বই, ভ্রমণ গাইড পড়তে পারেন। দেশের বাইরে ভ্রমণে যেতে গাইডের সাহায্য নিন। চেষ্টা করুন নিজস্ব ভাষার গাইড খুঁজে পেতে।

প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর এবং যেখানে যাচ্ছেন সেখানে পরিচিত কেউ থাকলে তার ঠিকানা, ফোন নম্বর সঙ্গে রাখুন।

জুতসই ভ্রমণ ব্যাগ

ভ্রমণের জন্য নানা ধরনের ব্যাগ রয়েছে। বেশি দিনের জন্য বেড়াতে গেলে ট্রাভেল ব্যাগের চেয়ে বড় ট্রলি ব্যাগ আরামদায়ক। অল্প দিনের জন্য গেলে নিতে পারেন কাঁধে ঝোলানো ট্রাভেল ব্যাগ কিংবা ব্যাগপ্যাক। শুধু কাঁধে নয়, এগুলো হাতেও ধরে নেয়া যায়। ছোট কেউ সঙ্গে থাকলে তার কাপড়-চোপড় আলাদা ছোট ট্রলি ব্যাগে দিতে পারেন। এখন বাজারে নানা ডিজাইনের ছোটদের ট্রলি ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো শিশুরা নিজেরাই টেনে নিতে পারে। আর আপনার ভ্রমণ ব্যাগ বা ট্রলিকেস যদি আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস অনুযায়ী জুতসই হয়, তাহলে আপনার চলার পথ নিশ্চিন্ত ও আরামদায়ক হবে- এটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে ভ্রমণ ও প্রয়োজন ভেবে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ। আর এ ভ্রমণে প্রয়োজন ও মাপ অনুসারে একটি ব্যাগই হতে পারে স্বস্তি অনুভবের একমাত্র সহায়।

পছন্দমতো কম ওজনের সঠিক আকারের ব্যাগ কেনার জন্য যাওয়া যেতে পারে রাজধানীর নিউমার্কেটে। এখানকার তৃতীয় গেইট সংলগ্ন প্রায় ৩৫টি দোকানে বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ বিক্রি হয়।

ট্রাভেল ট্রলি

এ ব্যাগগুলো ১৮, ২০, ২২, ২৪ ও ২৬ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। দাম ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। ১৮ থেকে ২০ ইঞ্চি আকারের বিভিন্ন চায়না ব্র্যান্ডের ব্যাগের দাম ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা। ২ ও ৪ চাকার এসব ব্যাগে বেশি জিনিস নিয়ে দূরে ভ্রমণ করতে সুবিধা।

রোলিং ব্যাগ

ঝোলার মতো দেখতে এসব ব্যাগের আকার ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। দেশি এবং চায়নার তৈরি ব্যাগগুলোর দাম ৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা। কাঁধ বা হাতে ঝুলিয়ে নেয়ার জন্য উপযুক্ত। ম্যাক্স’র এমডি’র আকরাম খান জানান, তারা প্রতিটি প্রোডাক্টসের ৩ বছর গ্যারান্টি আর ৩ দিনের রিপ্লেসমেন্ট দিয়ে থাকে শর্তসাপেক্ষে।

প্রতিদিন কিংবা কয়েকদিন- হাত বা কাঁধের ব্যাগটি আমাদের ব্যবহারিক জীবনের একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। প্রয়োজন ও সফরের হেরফেরে বদলে যায় ব্যাগের ধরন। সারা দিনের জন্য কোথাও ঘুরতে বের হলে তো আর ট্রলি ব্যাগ বা বড় লাগেজ বয়ে বেড়াতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু একদিন কিংবা সারা দিনের ভ্রমণে বা রাতযাপনে অন্তত একসেট পোশাক সঙ্গে কিছু টুকিটাকি তো নেয়া লাগেই, সে ক্ষেত্রে সহজ সমাধান ছোট আকারের ভ্রমণ ব্যাগ। বাজারে এখন নানা ধরনের ফ্যাশনদুরস্ত ছোট ভ্রমণ ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। জানাচ্ছেন-

আঞ্জুমান আরা

সারা বছরের ব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করার জন্য বেড়ানোর সময়টুকু বেশ কার্যকর। বেড়াতে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ ব্যাগ। কোথায় যাচ্ছেন এবং কতদিনের জন্য যাচ্ছেন, সেটা বুঝে ব্যাগ বাছাই করা জরুরি। একা একদিনের জন্য গেলে এক ধরনের ব্যাগ, কয়েকদিনের জন্য গেলে আরেকরকম ব্যাগ। দু-একদিন বা সারা দিনের ঘোরাঘুরির জন্য আজকাল নানা আকার ও নকশার ফ্যাশনেবল ব্যাগ বাজারে পাওয়া যায়।

ফ্যাশনদুরস্ত ব্যাকপ্যাক

বাজার ঘুরে দেখা যায়, তরুণেরা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে কাঁধে ঝোলানো ট্রাভেল ব্যাগ কিংবা ব্যাকপ্যাক। শুধু কাঁধে নয়, এগুলোতে লাগানো চাকায় টেনে কিংবা হাতল ধরেও নেয়া যায়। আবার ফ্যাশনেবল বলে তরুণ প্রজন্মের কাছেও বেশ জনপ্রিয়। একা বা কাছে- পিঠে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে, রাতযাপনে এ ব্যাগে কাপড়চোপড়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে যেমন ঘুরতে বেরিয়ে পড়া যায়, তেমিন বই-খাতা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার নিয়ে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কাজে যাওয়া যায়। ট্রাভেল ব্যাগ বা ব্যাকপ্যাক এখন মিলছে ছোট বড় নানা আকার ও রঙে। কাপড়, রেক্সিন, চামড়া, প্যারাসুটের পাশাপাশি পাটের তৈরি ব্যাকপ্যাকও এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

ভ্রমণসঙ্গী নানারকম ছোট ব্যাগ

সংক্ষিপ্ত ভ্রমণে নিশ্চিন্তে বেছে নিতে পারেন কাপড়, চামড়া ও সিনথেটিক বিভিন্ন উপকরণে তৈরি টোটো ব্যাগ। ছাপা নকশার লেদারের টোটো ব্যাগ এখন জনপ্রিয় স্টাইল। একটু বড় এ ব্যাগ সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। বেড়াতে যাওয়ার জন্য আরেকটি সুবিধাজনক ব্যাগ হচ্ছে ডাফল ও রোলিং ব্যাগ। ঝোলার মতো দেখতে এ ব্যাগের আকার ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। অপালেন্ট শপিং ব্যাগও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে খুব। মাল্টিকালারের প্রিন্টের এ ব্যাগগুলো আকৃতিতে বেশ বড়। ওয়াটার প্রুফ এ ব্যাগ ক্যাজুয়াল জামাকাপড়ের সঙ্গে বেশি মানানসই। এ ছাড়া সাইকেল প্যানিয়ার (বাইসাইকেলের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা), কোরিয়ান প্রিন্টের কাপড়ের স্টাইলিশ ট্রাভেল ব্যাগ, অর্গানাইজার ব্যাগ, মাল্টিপারপাস ট্রাভেল ব্যাগসহ বাজারে ঘোরাঘুরির জন্য আসছে নতুন আঙ্গিকের নানা ধরনের ছোট আকারের ট্রাভেল ব্যাগ। এ ব্যাগগুলোর কিছু কিছু কাঁধে, পিঠে, হাতে- সবভাবেই নেয়া যায়।

ট্রাভেল ব্যাগের কাপড়

এখন বৃষ্টিবাদল না থাকলেও ব্যাগটি তো আর শুধু এ ঋতুর জন্যই কিনছেন না, তাই বৃষ্টিবাদলেও ট্রাভেল ব্যাগটি যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারেন সে জন্য কেনার সময়ই দেখে নিন ব্যাগটি ওয়াটার প্রুফ কিনা। এ ক্ষেত্রে প্যারাসুট, কব্লিয়ার রুটি পিভিসি, প্লাস্টিক কিংবা ক্যানভাসের মোটা কাপড়ের ব্যাগ আপনাকে বৃষ্টিবাদলের হাত থেকে বাঁচাবে। কিনতে পারেন রেক্সিন, সুতি কাপড়, পাট, জিন্স, কিংবা লেদারের ব্যাগও।

কেনার আগে দেখে নিন-

ব্যাগটির হাতল, সেলাই, চেইন, লকার, ভেতরের মেটাল ফ্রেম মজবুত কিনা দেখে নিন।

ব্যাগের ভেতরে জায়গা বেশি আছে কিনা এবং ব্যাগটি ওজনে হালকা কিনা দেখে কিনুন। পাশাপাশি লক্ষ রাখুন ব্যাগে অনেক বেশি পকেট আছে কিনা। এতে জিনিসপত্র, কাপড়চোপড় আলাদা আলাদা গুছিয়ে রাখতে পারবেন।

ভালো মানের প্যারাসুট কাপড়ের নিচের অংশে রাবারের একটা অংশ দেয়া থাকে। কেনার সময় সেটি আছে কিনা দেখে নিন।

নানা ব্র্যান্ডের ব্যাগ

দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ব্যাগ প্যাকার্স ও ফোর ডাইমেনশনসের ব্যাগ রয়েছে বাজারে। বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে প্রেসিডেন্ট, উইলসন, পাওয়ার, অরনেট, মিনিস্টার, ম্যাক্স, পিয়ারি গার্ডেন, ফ্যান্টাসিয়া, ন্যাক্স, টার্গেট ব্র্যান্ডের ব্যাগ পাওয়া যাবে ঢাকাসহ সারা দেশে।

কেমন দাম

মডেলভেদে ব্যাগ প্যাকার্সের ব্যাকপ্যাকের দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা, ফোর ডাইমেনশন, মাউন্ট, উইলসন ও পাওয়ারের ব্যাকপ্যাক ১ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। ট্রাভেল ট্রলি ও ব্যাকপ্যাক একসঙ্গে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। অপালেন্ট শপিং ব্যাগ ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা। দেশি ও চায়নার তৈরি ডাফল ও রোলিং ব্যাগ ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, লেডিস ট্রাভেল ব্যাকপ্যাক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, অরগানাইজার ব্যাগ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, টোটো ব্যাগ ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।

কোথায় পাবেন

ঘোরাঘুরির জন্য ব্যাগ কিনতে যেতে পারেন নিউমার্কেট, গুলিস্তান, আজিজ সুপার মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, এখানে ব্যাগের অনেক বড় বাজার রয়েছে। ছোট আকারের উন্নতমানের ফ্যাশনেবল ভ্রমণ ব্যাগ পাওয়া যাবে পলওয়েল সুপার মার্কেট, মাস্কট প্লাজা, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন মার্কেট এবং শপিংমলে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×