ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার
jugantor
ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার

  ডা. তানজিনা আল্-মিজান  

২১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার
ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার। ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ছয়টি ঋতু ছয়ভাবেই ধরা দেয় আমাদের কাছে। শীত ঋতু তার মধ্যে অন্যতম। অন্যতম কারণ- শীতকাল আসার আগে থেকেই প্রকৃতিতে চলে আগাম প্রস্তুতি।

শুধু প্রকৃতি বললে ভুল হবে আমাদের শরীরেও চলে নানা পরিবর্তন। আর এ প্রস্তুতি ও পরিবর্তনের হাত ধরে শীত যখন আমাদের মাঝে এসেই পড়ে তখন শুরু হয় হরেক রকম আয়োজন।

খেজুরের রসের পিঠা-পায়েস, আর মুড়ি খাওয়ার আনন্দ খুব সকালে। উফ কল্পনায় যেন দেখতে পাচ্ছি সেই কুয়াশামাখা ভোরে ঝাপসা চোখে রসের হাঁড়ি ঝোলানো খেজুর গাছ। বিভিন্ন ধরনের শীতের সবজিও কিন্তু শীত ঋতুর আরেকটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শুধু মনের মতো করে রান্না করে নিলেই হল।

এসব কিছুর মাঝে নিজের শরীরের পরিবর্তন কিন্তু ঠিকই আপনাকে মনে করিয়ে দিবে শীতের রুক্ষতা। যা আপনার ত্বককে শুষ্ক করার সঙ্গে সঙ্গে আমন্ত্রণ জানাতেও কার্পণ্য করবে না নানা রোগব্যাধিকে।

শীতের রুক্ষ-শুষ্ক আবহাওয়ার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকের ওপর। শীতের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় আমাদের ত্বক স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারাতে শুরু করে। ফলে ত্বকে ময়েশ্চারের মাত্রা হ্রাস পায়।

আর ময়েশ্চার ব্যালান্স নষ্ট হলেই ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে, নিষ্প্রাণ ফলে ত্বক তার জেলা হারাতে থাকে ক্রমেই। তাই শীতের একদম শুরু থেকে যদি ত্বকের ময়েশ্চার ব্যালান্স করা যায়, তবে এ শীতেও কোমল মোলায়েম উজ্জ্বল ত্বক পেয়ে যাবেন হাতের মুঠোয়।

ময়েশ্চার ব্যালান্স করতে হলে-

* সারা বছরই বিশেষ করে শীতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার একান্ত প্রয়োজন। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের ভেতরে গিয়ে পুষ্টি জোগায়, ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখে, ফলে শুষ্ক রুক্ষ ত্বক হয়ে ওঠে কোমল ও মোলায়েম। এমনকি নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে ত্বকের জেলাও আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যাবে।

* সবার ত্বকের ধরন কিন্তু একই প্রকৃতির হয় না। তৈলাক্ত, শুষ্ক বা স্বাভাবিক সব ধরনের ত্বকের জন্যই এখন পৃথক পৃথক ময়েশ্চারাইজার কিনতে পাওয়া যায়। যাদের ত্বক স্বাভাবিক প্রকৃতির, তারা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বকে প্রয়োজন ক্রিম-বেসড আর তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ওয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার আদর্শ।

* যারা ত্রিশ পার করে ফেলেছেন তারা কিন্তু অবশ্যই অ্যান্টিরিংকেল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। এতে বলিরেখাও দূর হবে। এসপিএফযুক্ত ময়েশ্চারাইজার সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে ত্বকের সুরক্ষা দিবে। যারা দিনের অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন তারা এটিকে বেছে নিতে পারেন।

* ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ব্যালান্সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের পুষ্টির দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। শীতকালে বিভিন্ন রকম সবুজ-সতেজ শাকসবজিও পাওয়া যায়। এগুলোয় বিদ্যমান ভিটামিনস ও মিনারেলস একদিকে যেমন পুষ্টি জোগাবে অন্য দিকে দূর করবে কোষ্ঠকাঠিন্য। ফলে ত্বক হবে উজ্জ্বল কোমল।

শীতকালে আরেকটি বিষয় খেয়াল করতে হবে। আর তা হল পানি পান করতে হবে প্রচুর। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে একটু লেবু আর এক চা চামচ মধু আপনাকে দিবে মসৃণ ত্বক আর আপনাকে করবে প্রাণচঞ্চল।

ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার

 ডা. তানজিনা আল্-মিজান 
২১ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার
ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার। ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ছয়টি ঋতু ছয়ভাবেই ধরা দেয় আমাদের কাছে। শীত ঋতু তার মধ্যে অন্যতম। অন্যতম কারণ- শীতকাল আসার আগে থেকেই প্রকৃতিতে চলে আগাম প্রস্তুতি।

শুধু প্রকৃতি বললে ভুল হবে আমাদের শরীরেও চলে নানা পরিবর্তন। আর এ প্রস্তুতি ও পরিবর্তনের হাত ধরে শীত যখন আমাদের মাঝে এসেই পড়ে তখন শুরু হয় হরেক রকম আয়োজন।

খেজুরের রসের পিঠা-পায়েস, আর মুড়ি খাওয়ার আনন্দ খুব সকালে। উফ কল্পনায় যেন দেখতে পাচ্ছি সেই কুয়াশামাখা ভোরে ঝাপসা চোখে রসের হাঁড়ি ঝোলানো খেজুর গাছ। বিভিন্ন ধরনের শীতের সবজিও কিন্তু শীত ঋতুর আরেকটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শুধু মনের মতো করে রান্না করে নিলেই হল।

এসব কিছুর মাঝে নিজের শরীরের পরিবর্তন কিন্তু ঠিকই আপনাকে মনে করিয়ে দিবে শীতের রুক্ষতা। যা আপনার ত্বককে শুষ্ক করার সঙ্গে সঙ্গে আমন্ত্রণ জানাতেও কার্পণ্য করবে না নানা রোগব্যাধিকে।

শীতের রুক্ষ-শুষ্ক আবহাওয়ার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকের ওপর। শীতের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় আমাদের ত্বক স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারাতে শুরু করে। ফলে ত্বকে ময়েশ্চারের মাত্রা হ্রাস পায়।

আর ময়েশ্চার ব্যালান্স নষ্ট হলেই ত্বক হয়ে ওঠে খসখসে, নিষ্প্রাণ ফলে ত্বক তার জেলা হারাতে থাকে ক্রমেই। তাই শীতের একদম শুরু থেকে যদি ত্বকের ময়েশ্চার ব্যালান্স করা যায়, তবে এ শীতেও কোমল মোলায়েম উজ্জ্বল ত্বক পেয়ে যাবেন হাতের মুঠোয়।

ময়েশ্চার ব্যালান্স করতে হলে-

* সারা বছরই বিশেষ করে শীতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার একান্ত প্রয়োজন। ময়েশ্চারাইজার ত্বকের ভেতরে গিয়ে পুষ্টি জোগায়, ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখে, ফলে শুষ্ক রুক্ষ ত্বক হয়ে ওঠে কোমল ও মোলায়েম। এমনকি নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারে ত্বকের জেলাও আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে যাবে।

* সবার ত্বকের ধরন কিন্তু একই প্রকৃতির হয় না। তৈলাক্ত, শুষ্ক বা স্বাভাবিক সব ধরনের ত্বকের জন্যই এখন পৃথক পৃথক ময়েশ্চারাইজার কিনতে পাওয়া যায়। যাদের ত্বক স্বাভাবিক প্রকৃতির, তারা ওয়াটার-বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। শুষ্ক ত্বকে প্রয়োজন ক্রিম-বেসড আর তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ওয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার আদর্শ।

* যারা ত্রিশ পার করে ফেলেছেন তারা কিন্তু অবশ্যই অ্যান্টিরিংকেল ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। এতে বলিরেখাও দূর হবে। এসপিএফযুক্ত ময়েশ্চারাইজার সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে ত্বকের সুরক্ষা দিবে। যারা দিনের অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন তারা এটিকে বেছে নিতে পারেন।

* ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ব্যালান্সের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের পুষ্টির দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। শীতকালে বিভিন্ন রকম সবুজ-সতেজ শাকসবজিও পাওয়া যায়। এগুলোয় বিদ্যমান ভিটামিনস ও মিনারেলস একদিকে যেমন পুষ্টি জোগাবে অন্য দিকে দূর করবে কোষ্ঠকাঠিন্য। ফলে ত্বক হবে উজ্জ্বল কোমল।

শীতকালে আরেকটি বিষয় খেয়াল করতে হবে। আর তা হল পানি পান করতে হবে প্রচুর। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে একটু লেবু আর এক চা চামচ মধু আপনাকে দিবে মসৃণ ত্বক আর আপনাকে করবে প্রাণচঞ্চল।