‘ইস্পাতশিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তনে জেডএসআরএম’

  যুগান্তর ডেস্ক    ২১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জহির স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের সংক্ষিপ্ত রূপ জেডএসআরএম (ZSRM)। এর যাত্রা শুরু ২০০০ সালে। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ স্টিল মিলস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের অর্গানাইজেশনাল ডিরেক্টর মো. হুমায়ুন কবির। ১৯৬৭ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগরের কোলাপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৮ সালে লেখাপড়া শেষ করে মিটফোর্ডে পৈতৃক ব্যবসা শুরু করেন। পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে রহিম স্টিল, নিউস্ট্যান্ড, সুমন স্টিল, যমুনা স্টিল, গোল্ডেন স্টিল, নাইন স্টার স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলসসহ আরও অনেক স্টিল মিলে কাঁচামাল সরবরাহ শুরু করেন।

সেই থেকে হুমায়ুন কবির মিল মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ‘নাইন স্টারস্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস’ নামে একটি স্টিল মিল ভাড়া নিয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং বাজারজাত পরিচালনা করেছেন। ২০০০ সালে বর্তমান মিলের সামনের অংশে ৪ বিঘা জমি ভাড়া করে মো. জহিরুল ইসলাম, মো. হুমায়ুন কবির এবং হাসান উদ্দিন আহম্মেদ-এর যৌথ উদ্যোগে পার্টনারশিপে ব্যবসা আরম্ভ করেন এবং ২০০২ সালের শেষের দিকে ফ্যাক্টরিটির উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ভাড়া করা জায়গাটি ক্রয় করে নিজস্ব সম্পদে রূপান্তর করেন এবং সেখানে জহির স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস স্থাপন করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর হয়ে ‘জহির স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস লিমিটেড’ নামে আত্মপ্রকাশ করেন, যার সংক্ষিপ্ত রূপ নেয় ZSRM। শেষ এক দশকের মধ্যে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত প্রযুক্তির সংস্পর্শে অভাবনীয় পরিবর্তন আসে ZSRM। এরা স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু করে।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা হয় ZSRM-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে। বর্তমানে ZSRM উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে খুবই মানসম্মত রড উৎপাদন করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন চার শতাধিক কারখানায় তৈরি হচ্ছে রড, এর মধ্যে ১৫০টি রি-রোলিং মিল এবং ৩০টি অটো রি-রোলিং মিল রয়েছে। এসব কারখানায় বছরে প্রায় ৭৫ লাখ মেট্রিক টন রড উৎপাদিত হয়, যেখানে দেশের বর্তমান রডের চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন। বর্তমানে দেশে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশে রডের চাহিদাও বেড়েছে কয়েক গুণ।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকারের মেগা প্রকল্প পায়রা বন্দর, মেট্রোরেল প্রকল্প, ঢাকা বিমানবন্দর, যশোর বিমানবন্দর, কক্সবাজার বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর। এছাড়াও দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো রিজর্ড পার্ক, কল্পতরু পওয়ার, সিআইসিও পাওয়ার প্ল্যান, ম্যাক্স গ্রুপ, রূপায়ণ গ্রুপ, সজীব পলিমারস, মদিনা গ্রুপসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও ZSRM-এর রড ব্যবহার হচ্ছে।

ইস্পাতশিল্পের কিছু প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কাঁচামাল আনার ক্ষেত্রে হাইওয়েতে আমাদের বেশি ওজনের পণ্য বন্ধ করা হয়েছে। এতে আমাদের পণ্য পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ বেড়েছে। এছাড়া বাজেটে প্রতি বছর বাড়তি শুল্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে এ খাতে, যার প্রভাব পড়ে সবার ওপর। এছাড়া মিরসরাইতে অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের কুনমিং আইরন অ্যান্ড স্টিল, জাপানের নিপ্পন স্টিল এখানে করখানা করবে। তারা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি, শুল্ক ছাড়সহ নানা সুবিধা পাবে। এতে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকা কঠিন হবে। ইস্পাতশিল্পে সুস্থ প্রতিযোগিতা সুনিশ্চিত করতে আমরা সর্বোপরি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই।

এছাড়া তিনি জানান, ‘বর্তমান সরকার শিল্পবান্ধব। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় শিল্প যাতে কোনো ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সরকার বিশেষভাবে নজর দেবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’

আপনাদের রডের এমন কী বিশেষত্ব আছে, যে কারণে ক্রেতারা কিনবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খালি চোখে এটি বোঝা অসম্ভব। সব রড দেখতে প্রায় একই রকম মনে হয়। তবে বুয়েট টেস্টের মাধ্যমে গুণগতমান বোঝা যায়। আমাদের এ ধরনের প্রজেক্টগুলোতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্যই হল কোয়ালিটি কন্ট্রোল বা মান নিয়ন্ত্রণ। কোয়ালিটিতে আমরা যদি কম্প্রোমাইজ করি, তাহলে আমাদের বিনিয়োগটা বড় রকমের ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আর সেক্ষেত্রে নীতিগত দিক থেকেও মানের ব্যপারে কোনো প্রকার ছাড় দেয়ার প্রশ্নই আসে না। ক্রেতা যখন রড ক্রয় করতে যাবেন তখন টেস্ট রিপোর্ট চাইতে পারেন। ক্রেতা হিসেবে এটি চাওয়ার অধিকার আছে তাদের। এটি করলে আমার মনে হয়, ক্রেতা মানের বিষয়ে নিরাপদ থাকতে পারবেন। আমরা উন্নতমানের কোয়ালিটি প্রোডাক্ট দিচ্ছি। নিশ্চিন্তে গ্রহক ZSRM-এর রড ক্রয় করতে পারবেন।

গ্রহকদের উদ্দেশে হুমায়ুন কবির বলেন, তঝজগ-এর ফ্যাক্টরি রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত, ক্রেতারা তঝজগ-এর ফ্যাক্টরিতে স্থাপিত রডের মান মূল্যায়নের জন্য উন্নত জার্মান প্রযুক্তির মাধ্যমে রডের মান যাচাই-বাছাই করে নিতে পারবেন অতি সহজেই।

রডের বিজ্ঞাপনে ভূমিকম্পসহনীয় বিষয়ে মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘রডের মানভেদে প্রতিটি রডই ভূমিকম্পসহনীয়। রড বিল্ডিংয়ের অবকাঠামোকে করে শক্ত ও মজবুত, রডের কারণে কোনো বিল্ডিং ভেঙে পড়েছে এ ধরনের কোনো তথ্য জানা নেই। মূলত এসব ক্ষেত্রে স্ট্রাকচারসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা পাইলিং সঠিকমতো না হওয়ায় প্রধান কারণ। এছাড়া নকশা অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ রডের ব্যবহারটা ঠিকমতো না হওয়াটাকে বিশেষ একটি কারণ বলে উল্লেখ করেন। এখন যেসব রড আমরা উৎপাদন করছি, সেগুলো আরও উন্নত। এগুলোর টলারেন্স বা সহ্য ক্ষমতা অনেক বেশি।’

হুমায়ুন কবির তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘বর্তমানে আমরা রড উৎপাদনে আছি। পরবর্তীকালে পর্যায়ক্রমে অ্যাঙ্গেল, জেড বার্গ-এ আইটেমগুলো উৎপাদনে যাব। চেষ্টা করছি কোটেড রড বানানোর প্রক্রিয়া দেশে নিয়ে আসার জন্য। এটাই সফল হলে রডের স্থায়িত্ব আরও অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×