বয়স যখন একুশ

  হাবীবাহ্ নাসরীন ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বইমেলা।
বইমেলা। ছবি সংগৃহীত

আঠারোতে যদি ছেলেমানুষী ঘোচে, একুশ তবে তারুণ্যের সুপ্রভাত। টগবগে যে সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে প্রতিটি মানুষের ভেতর, এ একুশেই বুঝি তা উন্মোচিত হয়।

সম্ভাবনার একটি দরজা বন্ধ হলে আরও হাজারটি দরজা খুলে দেয়ার কাজটিও ঘটে একুশেই। কৈশোরের আবছায়া দোলাচল কাটিয়ে স্পষ্টত নিজেকে প্রকাশ করার সগৌরব সময় এটি।

সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে পারার পরম সাহস সঞ্চয়ের সময় এই একুশ। একুশ একই সঙ্গে উদারতা আর আপসহীনতার নাম। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র স্বার্থ ছেড়ে মানুষের কল্যাণে জীবনটা কাটানোর শপথও গ্রহণ হয় এই একুশেই।

আকাশ ছোঁয়ার, সাগর পাড়ি দেয়ার কিংবা পাহাড়ের চূড়ায় নিজেকে আবিষ্কার করার স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে আগায় বুঝি এ একুশ বছর বয়স থেকেই। কিন্তু একুশেই কেন? কেন আগে কিংবা পরে নয়।

নিজেকে প্রমাণের একটি জীবন যে আমরা পেয়ে থাকি, তার সূচনালগ্ন পার হতেই বেশ খানিকটা সময় কেটে যায়। পৃথিবীটা চেনা এবং জানা হলে পথচলা সহজ হয়। সেই চলার পথটাকে সহজ করে নিতেই আমরা খানিকটা সময় ব্যয় করি।

যা কিনা শৈশব আর কৈশোর নাম নিয়ে আমাদের জীবন থেকে স্মৃতির ফ্রেমে গিয়ে আটকে থাকে। তারপর আসে যৌবন। তারুণ্যে ভরপুর এক সুসময়। যতটুকু চেনা-জানা হল, সেই অভিজ্ঞতার আলোয় নিজেকে দেখে নেয়া, সাবধানে পা ফেলা।

কোন নৌকার নোঙর তোলা হবে, সেটি ঠিক করে নেয়া। আঠারো-উনিশ-বিশ পার হয়ে যায় ভাবতে ভাবতেই। তাই একুশই সেই বয়স, নিজেকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার। আমার জীবন শুধুই আমার নাকি সবার জন্য? জানার বাইরেও যে বিশাল পৃথিবী, তার সন্ধানে উৎসাহী হয়ে ওঠার উৎসুক মনটার জন্ম এই বয়সটাতেই।

শতাব্দীর পরে শতাব্দী ধরে প্রবাহমান এ মানবসভ্যতা। যুগে যুগে প্রতিটি প্রজন্মই নিজস্ব চিন্তাধারা দিয়ে সমাজ বদলেছে, সমাজ গড়েছে। প্রতিটি পরিবর্তনের নেতৃত্বে থাকে এই তারুণ্যই, এ একুশ বছর বয়স।

একুশের টগবগে তারুণ্য প্রতিনিয়তই নতুন কিছু শিখতে, নতুন কিছু অন্বেষণ করতে আগ্রহী। কিছু বেঁধে দেয়া নিয়মে তারা আটকে থাকতে চায় না। কাজের সার্থকতা, যুক্তির যৌক্তিকতা খুঁজতে তারা আগ্রহী। তারুণ্যের স্বভাবই যে এমন! সভ্যতার যেসব সিদ্ধান্ত পৃথিবী বদলে দিয়েছে, তার বেশিরভাগেরই উৎস এ তারুণ্য। অন্যের মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেও কীভাবে নিজের মতকে প্রতিষ্ঠা করা যায়, তা দেখিয়ে দেয়ার বয়স এই একুশ।

মির্জা গালিব বলেছেন, ‘দুটি বাতি আলাদা আলাদা জ্বললেও তাদের আলো পরস্পরের সঙ্গে মিশে যায়।’ তারুণ্যের শক্তিও ঠিক তেমন। পরস্পরের মেধা, বুদ্ধি, জ্ঞান মিলেমিশে নতুন পৃথিবী তৈরি করাই তারুণ্যের সাফল্য।

বিশ্বে প্রযুক্তি, শিক্ষা, চিকিৎসা, স্থাপত্য, বিজ্ঞান-প্রতিটি ক্ষেত্রেই সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে তরুণরা। তরুণরা না থাকলে এ অগ্রগতি কার হাত ধরে হতো? মানবসভ্যতা এ পৃথিবীর আলো-বাতাসের কাছে যেমন ঋণী, তেমনই ঋণী এ দুরন্ত তারুণ্যের কাছে। জীবন বাজি রেখে রহস্য উদঘাটনে নামার মতো সাহস যে অন্য বয়সে পাওয়া দুর্লভ! তবু দুঃখ তো কিছু থাকেই। এ যেমন এমন সোনালি সময় অপচয় করা মানুষের সংখ্যাও কম নয়! অলসতা, কর্ম বিমুখতা, পরশ্রীকাতরতা, হিংসা, লোভ, সচেতনতার অভাব, অশিক্ষা, অভাব- হাজারটা অজুহাত এ দুরন্ত সময়ের অপচয়ের। একটি মূল্যবান জীবন পেয়েও তাকে হেলায় হারানোর মতো বোকামি করেন অনেকেই।

যে তারুণ্যে নিজেকে মেলে ধরে চারপাশ সুবাসিত করার কথা, সেই তারুণ্যেই তারা বিপথগামী হয়। মানুষ হয়ে মানুষের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যের বিনষ্ট করতে আত্মঘাতী হতেও পিছপা হয় না তারা! তবু আশার আলো দেখা যায়, কারণ সেই সংখ্যাটা মঙ্গলকামী তরুণের থেকে বড় নয়। অন্যের জন্য ভাবার, অন্যের দুঃখ দূর করার ব্রতে জীবন কাটানোর সংখ্যাটাও বিশাল।

হাজারটা না পাওয়া, আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হওয়ার কষ্ট নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট না করে ফের স্বপ্ন দেখতে জানে এ বয়স। এ একুশ তাই মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সময়।

যতদিন এ শক্তিশালী তারুণ্য পথ দেখাবে, ততদিন পিছু হটবে না এ দেশ, এ বিশ্ব। একুশের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, দক্ষতা আর কর্মস্পৃহাই বদলে দেবে পৃথিবী। নেতৃত্ব দেবে পরিবর্তিত সমাজব্যবস্থার। যেমনটা হয়ে এসেছে পৃথিবীর আদি ইতিহাস থেকে। কারণ সময় বদলায়, তারুণ্য তার স্বভাব বদলায় না। পৃথিবীর রং-রূপ-রস-গন্ধের মতো তারুণ্যও চিরন্তন।

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫৬ ২৬
বিশ্ব ৯,৬২,৮৮২২,০৩,২৭৪৪৯,১৯১
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×