এ সময়ের সাজসজ্জা

শীত শেষ। প্রকৃতিতে এখন গরমের হওয়া লাগতে শুরু করেছে। তবে পুরোপুরি গরম এখনও পড়েনি। ঋতু পরিবর্তনের এ সময়টিতে বদলে যায় আমাদের জীবনযাপন। বদলে যাওয়া এ জীবনযাপনকে সহজ ও স্বস্তির করতে প্রস্তুতি নিন এখন থেকেই। কীভাবে? জানাচ্ছেন-

  আঞ্জুমান আরা ১০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সব ঋতুতেই সুতি পোশাক আরামদায়ক। শীত শেষে বা না ঠাণ্ডা না গরম- এমন দিনগুলোতে আবহাওয়া বুঝে পাতলা এবং মোটা সুতি পোশাক পরুন। সুতি ছাড়াও সিল্ক, খাদি, তসর, ব্রোকেড, ভারী ধুপিয়ান এ আবহাওয়ার জন্য আরামদায়ক। চাইলে শর্ট স্লিভের পাশাপাশি ফুলস্লিভও পরতে পারেন। মেয়েরা অনায়াসে এ সময় বেছে নিতে পারেন সালোয়ার-কামিজ, কোটি-কামিজ, জিন্স-টপস, ফতুয়া, শাড়িসহ যে কোনো পোশাক। পরতে আরামদায়ক হবে। আর দেখতেও ভালো লাগবে।

প্রকৃতির হঠাৎ পরিবর্তনের চিহ্ন পড়ে আমাদের ত্বকেও। তাই এ সময় ত্বকের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। শীত চলে গেলেও বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় ত্বক এখনও শুষ্ক হয়ে উঠছে। ত্বকের এ শুষ্কতা দূর করতে ত্বক সবসময় ময়েশ্চার রাখতে হবে। পানি ত্বকের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। শীত চলে গেলেও এখনই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার কমিয়ে দেবেন না। কারণ ঋতু পরিবর্তনের এ সময়টিতেও ত্বকে টানটান ভাব আসে। ধুলোময়লার কারণে তৈলাক্ত ত্বকে এ সময় ব্রণের প্রকোপ বেড়ে যায়। এজন্য ত্বক সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। ত্বক পরিষ্কার করতে বেসন খুব ভালো কাজ করে। এছাড়া বাইরে থেকে ফিরে মুখে টোনার ব্যবহার করুন। ১ কাপ পুদিনা পাতা, ১ কাপ নিমপাতা, ১ কাপ তুলসী পাতা একসঙ্গে পানিতে বেশ কিছুক্ষণ ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করুন। এরপর ফ্রিজে আইস করে রেখে দিন। বাইরে থেকে ফিরে এটি টোনার হিসেবে ব্যবহার করুন। ত্বক ব্রণমুক্ত থাকবে। শুষ্ক ত্বকের অধিকারীরা সপ্তাহে একদিন ৪-৫টি কাঠবাদাম কিংবা চিনাবাদাম ব্লেন্ড করে ডিমের কুসুমের সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করুন। ত্বক ময়েশ্চার থাকবে। সঙ্গে উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পাবে।

বসন্তে প্রকৃতিতে ধুলোময়লা বেশি থাকার কারণে অন্য সময়ের চেয়ে এ সময় চুল তুলনামূলক বেশি ময়লা হয়। আবার এ ঋতুতে হালকা গরমপড়া শুরু হওয়ার কারণে মাথার ত্বক ঘামতে শুরু করে। এতে চুল স্যাঁতসেঁতে হয়ে পড়ে এবং দ্রুত ময়লা হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে চুল ময়েশ্চার করার পাশাপাশি ঝরঝরে ও পরিষ্কার রাখাটাও জরুরি। এজন্য প্রতিদিন শ্যাম্পু করতে হবে। শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ও হেয়ার সেরাম ব্যবহার করতে হবে। বসন্তে চুল ড্যামেজ হওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। চুল ড্যামেজ হয়ে গেলে শ্যাম্পু করার আগে স্ক্যাল্পে এবং পুরো চুলে হট অয়েল ম্যাসাজ করুন। এরপর শ্যাম্পু করে চুল হালকা শুকিয়ে টক দই লাগিয়ে নিন। ঘণ্টা খানেক পর আরও একবার শ্যাম্পু করে চুলে কন্ডিশনার ও হেয়ার সেরাম লাগিয়ে নিন।

বাংলাদেশে শীত মৌসুমের শেষের দিকে ও বসন্ত শুরুর দিকে সাধারণত অনুষ্ঠান উৎসব বেশি হয়। উপলক্ষ যাই হোক, উৎসবের জন্য চাই সাজ। সাজের শুরুতেই ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করুন। ১০ মিনিট বিরতি দিন। শুষ্ক পাউডার ব্যবহার না করে এ সময়টিতে অয়েল বেইজড বা ক্রিমি ফাউন্ডেশন বেছে নিন। এতে ত্বক সতেজ লাগবে। ক্রিমি ফাউন্ডেশনের ওপর আলতো করে ফেসপাউডার লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে ত্বক বেশি শুষ্ক হলে এটা না দেয়াই ভালো। বসন্ত উৎসবের সাজ গাঢ় করতে ব্লাশন ছাড়াও আলাদা করে দিতে পারেন গ্লিটার। এ মৌসুমে ঘামের ভয় খুব একটা নেই। তাই ইচ্ছামতো মেকআপ করতে পারেন। রাতে স্মোকি করে চোখ সাজালে দেখতে ভালো লাগবে। সঙ্গে কাজল, আইলাইনার ও মাশকারা দিন। ঋতু পরিবর্তনে ঠোঁটের টান টান ভাব দূর করতে লিপবাম লাগান। বছরের এ সময় নিশ্চিন্তে চুল খোলা রেখে ঘুরে বেড়াতে পারেন। কিংবা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে চুল বাঁধতে পারেন।

শীতের শেষে হঠাৎ তাপমাত্রা ওঠানামার কারণে এবং ঋতু পরিবর্তনের জন্য অনেকেই এখন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হচ্ছে। এতে জ্বর-সর্দি-কাশি হতে দেখা যাচ্ছে অনেকেরই। এটা ‘ভাইরাল ফ্লু’ হিসেবে পরিচিত। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ভাইরাসের কারণে জ্বর হলে সাধারণত পাঁচ-সাত দিনেই ভালো হয়ে যায়। তবে হঠাৎ করে যাতে ঠাণ্ডা না লাগে, তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। সাধারণ তাপমাত্রার পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে কিছুক্ষণ পর পর সারা শরীর মুছে দিতে হবে। প্রতিদিন মসলা দেয়া রং চা, লেবুর রস এবং ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ ফলমূল খান। সর্দি-কাশিতে উপকার দিবে।

গরমের শুরুর সময়টিতে খাদ্যতালিকায় হালকা ও কম চর্বিযুক্ত খাবার রাখুন। প্রচুর পরিমাণে সবজি ও ফলমূল খান। ভাজাপোড়া খাবার এখন থেকেই কমিয়ে দিন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। তরল পানীয়র পরিবর্তে ঘরে বানানো ফলের ঠাণ্ডা রস ও লেবুর শরবতের বিকল্প নেই।

এতদিন যেসব শীতের পোশাক চুটিয়ে পরেছেন, তা এখন বাক্সবন্দি করে তুলে রাখুন। তবে অবশ্যই শীতের পোশাক বাক্সবন্দি করার আগে নিতে হবে বাড়তি কিছু যত্ন। এজন্য প্রথমেই শীতের পোশাক স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে হালকা ডিটারজেন্টে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তারপর অল্প ঘষে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন। উলের পোশাক কাচার পর বেশি নিংড়াবেন না। প্রয়োজনে কোনো কিছুর ওপর রেখে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর ঝুলিয়ে না শুকিয়ে রোদ আসে এমন জায়গায় মাটিতে তোয়ালে পেতে শুকাতে দিন। নয়তো উলের পোশাকের শেপ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। শুকিয়ে গেলে প্লাস্টিকের এয়ারটাইট প্যাকেটে ভরে আলমিরাতে তুলে রাখুন। লেপের কাভার, ভারী কাঁথাও ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে তুলে রাখুন। লেপ এবং কম্বল কড়া রোদে শুকিয়ে তুলে রাখতে পারলে বেশ ভালো থাকবে। কম্বল চাইলে লন্ড্রিতে দিয়ে ড্রাইওয়াস করিয়েও নিতে পারেন।

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত