ঘরে বসেই নববর্ষ

  আঞ্জুমান আরা ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘদিন ঘরে থাকতে থাকতে আমরা অনেকেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ভুগছি, মানসিক চাপে আছি। তার ওপর নববর্ষের দিনটি উদযাপন করতে না পারায় আজ আমাদের সবারই মনটা হয়তো অনেক বেশি বিষাদময়। সবার আগে আপনার মনোভাব আর দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে ফেলুন। এটি একটি যুদ্ধাবস্থা। এ যুদ্ধে জিততে হলে আপনাকে ঘরে থাকতেই হবে। তাই নিজেকে ঘরবন্দি ভাববেন না। এ নিয়ে মন খারাপ করবেন না বা হতাশ হবেন না। প্রতি বছর তো রমনায় কিংবা মঙ্গল শোভাযাত্রায় গিয়ে বর্ষবরণ উৎসবে যোগ দেয়া বা ঘুরতে যাওয়াই হয়, এবার না হয় ঘরে বসেই বা হোম কোয়ারেন্টিনের ভেতরেই উদযাপন করুন নববর্ষ। তবে একটু ভিন্নভাবে। এতে গৃহবন্দি থাকার মনোকষ্ট অনেকটাই দূর হয়ে যাবে। পাওয়া যাবে নববর্ষের এক নতুন আনন্দ।

* প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ তরুণ-তরুণীরা সাধারণত বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে উদযাপন করে। পরিবারের বড়দের বা বয়স্কদের সঙ্গে দিনটি হয়ত কাটানো হয় না। এবার তাদের সঙ্গে দিনটি উদযাপন করুন। একসঙ্গে আজ সারাদিন টিভি দেখুন, নববর্ষের গান শুনুন, তারা যখন আপনার বয়সী ছিলেন তখন কিভাবে পালন করতেন দিনটি সেই গল্প শুনুন। দেখবেন মনটা নিমিষেই ভালো হয়ে যাবে।

* প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নতুন পোশাক কেনা হয় নিশ্চয়ই। এবারও হয়তো নতুন পোশাক কেনার জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল। আফসোস না করে আজ সেই বাজেট থেকে সামান্য কিছু অর্থ আপনার আশপাশের কোনো গরিব-দুঃখীজন, আপনার বাসায় সারাবছর কাজ করত যে খণ্ডকালীন গৃহকর্মী কিংবা এ ঝুঁকিপূর্ণ সময়েও যিনি আপনার বাসার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন সেই সিকিউরিটি গার্ড বা দারোয়ানকে দিন। দেশের পরিস্থিতি ঠিক হলে এ টাকা দিয়ে তার পরিবারের কোনো ছোট সদস্য থাকলে তাকে পোশাক কিনে দিতে বলুন বা তার প্রয়োজনমতো খরচ করতে বলুন। কিংবা আপনার আলমিরা থেকে কোনো পোশাক নিয়ে তাকে দিন পরতে। দেখবেন এই অর্থ বা পোশাক হাতে পেয়ে তার চেহারায় যে খুশি ঝলকে উঠবে তা নিমিষেই আপনার পোশাক কিনতে না পারার কষ্ট ভুলিয়ে দেবে। এক নতুন তৃপ্তি নিয়ে শুরু হবে নতুন বছরের প্রথম দিনটি।

* দিনের শুরুতেই ঘরটাকে সাজিয়ে ফেলুন। যেমন করে বৈশাখী আবহে প্রতিবছর ঘর সাজান। আজও সেইভাবে সাজাতে পারেন ঘরটি। মন খারাপ ভাবটা চলে যাবে।

* আমাদের সবারই আলমিরাতে দু’একটি পোশাক এমন থাকে যা অনেক দিন পরা হয় না। আলমিরা খুলে সেরকম কোনো পোশাক আজ পরে ফেলুন। আজ নতুন মনে হবে পোশাকটি। পরিবারের সদস্যদেরও পরতে উৎসাহিত করুন। ঘর থেকে বের না হওয়ার কারণে অনেকদিন হয়তো সাজগোজও করা হয় না। আজ একটু সাজুন। পরিবারের জন্য নিজের জন্য। তারপর সবাই মিলে সারাদিন আড্ডা দিন, ছবি তুলুন, গল্প করুন। মনটা ফুরফুরে লাগবে।

* সম্ভব হলে আজ কোনো বিশেষ খাবার রান্না করুন। না শুধু পরিবারের সদস্যদের খাওয়ার জন্য নয়, একটু বাড়িয়ে রান্না করে আশপাশের অসহায় দু’একটি পরিবারকে খেতে দিন। খণ্ডকালীন গৃহকর্মী, বাড়ির দারোয়ানকে খাবার পাঠাতে পারেন। কিংবা আপনার প্রতিবেশী এমন কেউ যদি থাকে যারা কষ্টে দিন পার করছে অথচ চক্ষু লজ্জায় কাউকে বলতে পারছে না কিন্তু আপনি তা জানেন, আজ আপনার খাবারের ভাগ থেকে কিছুটা অংশ তার বাড়িতে পৌঁছে দিন। ভাগাভাগির এ খাবার দেখবেন আজ আপনাকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দেবে।

* নববর্ষ উপলক্ষে খাবারের মেনুতে পরিবারের প্রিয় কোনো খাবার রাখতে পারেন। তবে অবশ্যই মিতব্যয়ী হতে হবে। কারণ সামনে আরও কতদিন এভাবে আমাদের গৃহবন্দি থাকতে হবে বা আয়রোজগার বন্ধ থাকবে তা আমরা কেউ জানি না। তাই এখন থেকেই রান্নাবান্নায় হিসেবি হোন। তাই সাধারণ খাবারের মধ্যেই আজ ভিন্ন কিছু রান্না করতে পারেন। দেশীয় বিভিন্ন পদের খাবার, সবজি একটু ভিন্নস্বাদে, খিচুড়ির সঙ্গে ভর্তা এরকম সাধারণ খাবার অথচ অনেকদিন খাওয়া হয় না- এ ধরনের খাবারগুলো আজ বাড়িতে রাঁধতে পারেন।

* আজ সারাদিন পরিবারের সদস্যরা ঘরোয়া খেলাধুলায় মেতে থাকতে পারেন। এতে করোনার আতঙ্ক ভুলে হাসিখুশি কাটবে দিনটি।

* দূরে আছেন যেসব আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব নববর্ষ উপলক্ষে তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন, শুভকামনা জানাতে পারেন।

সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করুন। প্রার্থনা করলে মন শান্ত হয়। প্রশান্তি মেলে।

* সরকারের তরফ থেকে এবার ঘরে বসে ‘ডিজিটাল পদ্ধতি’-তে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের কথা বলা হয়েছে। পরিবারে সঙ্গীতচর্চার অভ্যাস থাকলে পরিবারের সদস্যরা মিলে গানের আসর বসাতে পারেন। গানে গানে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পারেন।

* হতাশ বা নববর্ষ উদযাপন করতে পারলেন না এ ভেবে মনোকষ্টে না থেকে আজ আপনি এমনি ভিন্নভাবে উদযাপন করতে পারেন পহেলা বৈশাখ। নববর্ষে খুঁজে নিতে পারেন নতুন এক তৃপ্তি-মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তৃপ্তি, পরিবারের সঙ্গে থাকার তৃপ্তি।

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত