স্যাঁতসেঁতে ভাব কাটিয়ে ওঠার উপায়
jugantor
স্যাঁতসেঁতে ভাব কাটিয়ে ওঠার উপায়

  ফারিন সুমাইয়া  

৩০ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। সারা দিন টুপটাপ বৃষ্টি আর মেঘলা আকাশ জানান দিচ্ছে বর্ষামুখর দিন এসেছে। অন্যদিকে বর্ষা মানেই বৃষ্টি আর চারদিক স্যাঁতসেঁতে ভাব। এমন দিনে তাই নিজেদের চারপাশ স্যাঁতসেঁতে মুক্ত রাখা আবশ্যক। এছাড়া বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বাড়ছে দিন দিন। তাই চারপাশের পরিচ্ছন্নতার প্রতিও নজরদারি প্রয়োজন। সারা দিনের বৃষ্টি আর মেঘলা আকাশ যখন আপনাকে বিষন্ন করে তোলে তখন ঘরের কিছু অল্প পরিবর্তন আর কিছু টিপস আপনার মন আর পরিবেশের স্যাঁতসেঁতে ভাবটা কাটিয়ে ওঠার সহায়ক হতে পারে।

বর্ষার এ সময়ে ঘরের মাঝে এক গুমোট ভাব তৈরি হয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত আলো না থাকার কারণেও ঘরের আবহাওয়াতে একঘেয়েমি ভাব চলে আসে। এছাড়া এ সময়ে স্যাঁতসেঁতে একটা ভাবও জায়গা করে নেয়। তাই ঘরের পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। ঘরের জানালাগুলো ভালোভাবে ডেটল কিংবা স্যাভলন মিশ্রিত পানি দিয়ে স্প্রে করে মুছে নেয়া প্রয়োজন।

জানালার গ্লাস আপনি চাইলে গ্লাস ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। এতে করে বাইরের আলো ঘরে ভালোভাবে প্রবেশ করতে পারবে। জানালার জালিগুলো কাপড় দিয়ে মুছে নিতে পারেন। এতে ঘরের বাতাস সহজেই প্রবেশ করতে পারবে আর ঘরে স্যাঁতসেঁতে ভাবের সৃষ্টি হবে না।

জানালার পর্দাগুলোও ঝেড়ে নিতে পারেন কিংবা ধুয়ে নিতে পারেন। এছাড়া ঘরের পর্দা পাল্টে নিতে পারেন। নীল, ধূসর অথবা সাদা রঙের পর্দা এ সময় ব্যবহার করতে পারেন। পর্দায় কিছুটা ভিন্নতা আনতে দু’রঙের পর্দাও ব্যবহার করতে পারেন।

ঘরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে মেঝে মোছার ক্ষেত্রে পানির সঙ্গে ডেটল, ফ্লোর ক্লিনার কিংবা স্যাভলন মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে করে ঘরে আর স্যাঁতসেঁতে ভাবের সৃষ্টি হয় না।

বিছানার চাদর পাল্টে নিতে পারেন। এতে করে ঘরের সাজের মাঝে বৈচিত্র্য আসবে।

ঘরের সঙ্গে সংযুক্ত বাথরুমের পরিচ্ছন্নতাও জরুরি। সেক্ষেত্রে ফ্লোর ক্লিনার দিয়ে ফ্লোর মুছে নেয়া, কমোডে যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা ও পরিষ্কার করে নেয়া, পানির বালতি পরিষ্কার করে রাখা- এ বিষয়ে নজর রাখা প্রয়োজন।

বর্ষার এ সময়ে ডেঙ্গু মশা জন্মানোর সময়। তাই বেলকোনিতে থাকা টবগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আবশ্যক। টবে কোথাও পানি জমে আছে কিনা, টবের নিচে থাকা ট্রেগুলো পরিষ্কার আছে কিনা- এ বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বাচ্চাদের ঘরগুলো এ সময় একটু বেশি পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। খেলনা রাখার জায়গা, প্লেইংজোন যাতে পরিষ্কার থাকে সে দিকে খেয়াল রাখুন। ঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করুন, দিনের বেলা জানালা খুলে রাখুন এতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আপনার শিশুর ঘরে প্রবেশ করতে পারবে।

ঘরে থাকা আসবাবপত্রগুলোর জায়গা পরিবর্তন করে দিতে পারেন। এতে করে ঘরের মাঝে পরিবর্তন আসবে।

ঘরের মাঝে স্নিগ্ধতার ছোঁয়া রাখতে গোলাপ কিংবা লেবুর সুবাসের রুম স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।

ঘরের ফ্যানগুলো ৭ থেকে ১৪ দিন অন্তর মুছে নিন। পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে ডেটল মিশ্রিত পানি ব্যবহার করুন। এতে ময়লা যেমন পরিষ্কার হবে তেমনই ঘরও থাকবে জীবাণুমুক্ত।

আর এভাবেই বর্ষার এ সময়েও ঘরটাকে রাখুন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আর চনমনে। এতে করে আপনার মনও যেমন ভালো থাকবে তেমনি আপনি এবং আপনার পরিবার থাকবেন সুস্থ ও প্রাণবন্ত।

স্যাঁতসেঁতে ভাব কাটিয়ে ওঠার উপায়

 ফারিন সুমাইয়া 
৩০ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। সারা দিন টুপটাপ বৃষ্টি আর মেঘলা আকাশ জানান দিচ্ছে বর্ষামুখর দিন এসেছে। অন্যদিকে বর্ষা মানেই বৃষ্টি আর চারদিক স্যাঁতসেঁতে ভাব। এমন দিনে তাই নিজেদের চারপাশ স্যাঁতসেঁতে মুক্ত রাখা আবশ্যক। এছাড়া বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণে বাড়ছে দিন দিন। তাই চারপাশের পরিচ্ছন্নতার প্রতিও নজরদারি প্রয়োজন। সারা দিনের বৃষ্টি আর মেঘলা আকাশ যখন আপনাকে বিষন্ন করে তোলে তখন ঘরের কিছু অল্প পরিবর্তন আর কিছু টিপস আপনার মন আর পরিবেশের স্যাঁতসেঁতে ভাবটা কাটিয়ে ওঠার সহায়ক হতে পারে।

বর্ষার এ সময়ে ঘরের মাঝে এক গুমোট ভাব তৈরি হয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত আলো না থাকার কারণেও ঘরের আবহাওয়াতে একঘেয়েমি ভাব চলে আসে। এছাড়া এ সময়ে স্যাঁতসেঁতে একটা ভাবও জায়গা করে নেয়। তাই ঘরের পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। ঘরের জানালাগুলো ভালোভাবে ডেটল কিংবা স্যাভলন মিশ্রিত পানি দিয়ে স্প্রে করে মুছে নেয়া প্রয়োজন।

জানালার গ্লাস আপনি চাইলে গ্লাস ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে পারেন। এতে করে বাইরের আলো ঘরে ভালোভাবে প্রবেশ করতে পারবে। জানালার জালিগুলো কাপড় দিয়ে মুছে নিতে পারেন। এতে ঘরের বাতাস সহজেই প্রবেশ করতে পারবে আর ঘরে স্যাঁতসেঁতে ভাবের সৃষ্টি হবে না।

জানালার পর্দাগুলোও ঝেড়ে নিতে পারেন কিংবা ধুয়ে নিতে পারেন। এছাড়া ঘরের পর্দা পাল্টে নিতে পারেন। নীল, ধূসর অথবা সাদা রঙের পর্দা এ সময় ব্যবহার করতে পারেন। পর্দায় কিছুটা ভিন্নতা আনতে দু’রঙের পর্দাও ব্যবহার করতে পারেন।

ঘরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে মেঝে মোছার ক্ষেত্রে পানির সঙ্গে ডেটল, ফ্লোর ক্লিনার কিংবা স্যাভলন মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে করে ঘরে আর স্যাঁতসেঁতে ভাবের সৃষ্টি হয় না।

বিছানার চাদর পাল্টে নিতে পারেন। এতে করে ঘরের সাজের মাঝে বৈচিত্র্য আসবে।

ঘরের সঙ্গে সংযুক্ত বাথরুমের পরিচ্ছন্নতাও জরুরি। সেক্ষেত্রে ফ্লোর ক্লিনার দিয়ে ফ্লোর মুছে নেয়া, কমোডে যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা ও পরিষ্কার করে নেয়া, পানির বালতি পরিষ্কার করে রাখা- এ বিষয়ে নজর রাখা প্রয়োজন।

বর্ষার এ সময়ে ডেঙ্গু মশা জন্মানোর সময়। তাই বেলকোনিতে থাকা টবগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা আবশ্যক। টবে কোথাও পানি জমে আছে কিনা, টবের নিচে থাকা ট্রেগুলো পরিষ্কার আছে কিনা- এ বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

বাচ্চাদের ঘরগুলো এ সময় একটু বেশি পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। খেলনা রাখার জায়গা, প্লেইংজোন যাতে পরিষ্কার থাকে সে দিকে খেয়াল রাখুন। ঘরে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করুন, দিনের বেলা জানালা খুলে রাখুন এতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আপনার শিশুর ঘরে প্রবেশ করতে পারবে।

ঘরে থাকা আসবাবপত্রগুলোর জায়গা পরিবর্তন করে দিতে পারেন। এতে করে ঘরের মাঝে পরিবর্তন আসবে।

ঘরের মাঝে স্নিগ্ধতার ছোঁয়া রাখতে গোলাপ কিংবা লেবুর সুবাসের রুম স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।

ঘরের ফ্যানগুলো ৭ থেকে ১৪ দিন অন্তর মুছে নিন। পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে ডেটল মিশ্রিত পানি ব্যবহার করুন। এতে ময়লা যেমন পরিষ্কার হবে তেমনই ঘরও থাকবে জীবাণুমুক্ত।

আর এভাবেই বর্ষার এ সময়েও ঘরটাকে রাখুন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আর চনমনে। এতে করে আপনার মনও যেমন ভালো থাকবে তেমনি আপনি এবং আপনার পরিবার থাকবেন সুস্থ ও প্রাণবন্ত।