আগ্রহ বাড়ছে অনলাইন কেনাকাটায়
jugantor
আগ্রহ বাড়ছে অনলাইন কেনাকাটায়

  কেয়া আমান  

০৭ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা আর যানজটের ভোগান্তি এড়াতে ও সময় বাঁচাতে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয় ভার্চুয়াল বাজার বা অনলাইন শপিং। তবে কোভিড-১৯ সংকটকালে অনলাইন শপিংয়ের আরেক নাম হয়ে উঠেছে সংক্রমণ ঝুঁকি কমানো ও নিরাপদে থাকা। শপিংমলে বা বাজারে কেনাকাটা করতে গেলে রিকশা বা ট্যাক্সি ইত্যাদি যানবাহনের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে শপিংমলের দোকানপাট, লিফট, সিঁড়ি, টয়লেট, ফুডকোর্ট, জনকোলাহল এমনকি টাকা-পয়সা লেনদেনের মাধ্যমেও। আবার আপনি হয়তো শপিংমলে গিয়ে একটি জামা বা জুতা ট্রায়াল দিচ্ছেন কিন্তু এমনটি তো হতেই পারে সেই জামা বা জুতাটি কিছুক্ষণ আগে কোনো করোনা রোগী ট্রায়াল দিয়েছেন। আর শপিংমল বলুন কিংবা কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে গেলে বিক্রয়কর্মী এবং অন্য ক্রেতাদের কাছাকাছি তো আপনাকে যেতেই হচ্ছে। শপিংমল বা বাজারে গিয়ে কেনাকাটায় সংক্রমণ ছড়ানোর এমন আরও বহু সম্ভাবনা রয়েছে। এতে শুধু নিজে নয়- পুরো পরিবারকে জীবন ঝুঁকিতে ফেলা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি পণ্য পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু করেছে দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের পাশাপাশি প্রায় সমপরিমাণ নতুন নতুন ব্র্যান্ড ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে অনলাইন সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শুধু ঢাকা শহরেই নয়- বিভিন্ন জেলা শহরগুলোয়ও এখন অনলাইনে কেনাকাটায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। তারা ঘরে বসেই বিভিন্ন ফেসবুক পেজে পণ্য দেখে মেসেঞ্জারে বা ফোনে অর্ডার করছেন। অর্ডার পেয়ে নির্ধারিত পণ্য নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ডেলিভারি ম্যান। পণ্য হাতে পেয়ে নির্ধারিত মূল্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন গ্রাহকরা। কখনও বা বিকাশে মূল্য পরিশোধ করছেন।

কোনো কোনো অনলাইন শপ ক্রেতাদের সুরক্ষা দিতে নানা আয়োজন করেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের পণ্য ক্রয়ের বিপরীতে নগদ ছাড়, গিফট ভাউচার, ক্যাশব্যাক ও উপহারও দিচ্ছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে ফ্রি হোমডেলিভারি। প্রিয়শপ ডট কম, দারাজ ডট কম, চালডাল ডট কম, বন্ধনশপ ডট কম, বাগডুম ও হুর নুসরাতসহ বিভিন্ন অনলাইন শপ ক্রেতাদের সুবিধার বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ বিষয়ে অনলাইন শপ ‘বন্ধনশপ ডট কম’-এর কর্ণধার নিজাম উদ্দিন জানান, ‘ঘরে বসে কেনাকাটার মাধ্যমে করোনা ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। তাই আমরা এ বিষয়ে ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে এবং করোনাকালীন ক্রেতাদের আর্থিক সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে এখন নামমাত্র মুনাফা করছি। ক্রেতাদের সন্তুষ্টি, সুবিধা এবং নিরাপত্তাই এখন আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্যে। করোনা সংকটে আমরা পুরনো ক্রেতাদের সব পণ্যে ১০-২০ শতাংশ এবং নতুন-পুরনো সব ক্রেতাদের জন্য কিছু কিছু পণ্যে ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিচ্ছি। নতুনদের পণ্যের সঙ্গে পৌঁছে দিচ্ছি মেম্বার কার্ড, যা থেকে তিনি পাবেন লাইফটাইম ডিসকাউন্ট সুবিধা’।

বর্তমানে প্রায় ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার বিস্তার ঘটেছে। এমন সংকটে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কেনাকাটার কাজটি অনলাইনে সারতে পারলে আমরা অনেকেই করোনার ঝুঁকি এড়াতে পারি। এখন যেহেতু প্রায় সব ধরনের পণ্যই অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে তাই সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটায় করার চেয়ে অনলাইনে কেনাকাটায় আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে। তবে অনলাইনে কেনাকাটা করার সময়ও কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। যেমন-

কেনাকাটা করার আগে রিভিউ বিভাগে গিয়ে পণ্যসংক্রান্ত মতামতগুলো পড়ে নিন;

করোনার কারণে অনলাইনে অনেক ধরনের অফার চলছে। তবে বিশেষ অফার দেখেই পণ্য কনফার্ম করবেন না। অফারে অনেক সময় পণ্যের মান ভালো নাও হতে পারে। অরিজিনাল পণ্য আর রেপ্লিকা পণ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই পছন্দের পণ্য অর্ডার করুন;

অনলাইন অর্ডারের সময় চেষ্টা করুন পেমেন্ট কার্ড বা বিকাশে করতে। এতে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে; বিশেষ প্রয়োজনে পণ্য পরিবর্তন করার নিয়মগুলো ভালোমতো জেনে নিন;

কতদিনের মধ্যে পণ্য হাতে পাবেন তাও ভালোভাবে জেনে নিন;

যে ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ থেকে পণ্যটি কিনবেন তাদের কোনো অফিস বা দোকান আছে কিনা এবং তার ঠিকানা ভালোমতো যাচাই করে পণ্য কিনুন;

ডেলিভারি ম্যানের কাছ থেকে পণ্য বুঝে নেয়ার সময় মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস পরে নিন;

পণ্য গ্রহণ করার সময় ব্যাগের বাইরের অংশে জীবাণুনাশক স্প্রে করুন। পণ্য হাতে পেয়েই চেষ্টা করুন পণ্যের প্যাকেট খুলে ফেলে দিতে। ফেলা সম্ভব না হলে প্যাকেটটি ভালোমতো সাবান পানি দিয়ে মুছে নিন। আর পণ্যটি যদি ধোয়া সম্ভব হয় তাহলে ধুয়ে ব্যবহার করুন। তবে শাকসবজি বা মাছ-মাংসের ক্ষেত্রে কখনই সরাসরি জীবাণুনাশক স্প্রে বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করবেন না। এসব পণ্য স্বাভাবিক পানি দিয়ে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে বেকিং সোডামিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন;

ব্যাগ থেকে জিনিসপত্র বের করার পর হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।

আগ্রহ বাড়ছে অনলাইন কেনাকাটায়

 কেয়া আমান 
০৭ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা আর যানজটের ভোগান্তি এড়াতে ও সময় বাঁচাতে বহুদিন ধরেই জনপ্রিয় ভার্চুয়াল বাজার বা অনলাইন শপিং। তবে কোভিড-১৯ সংকটকালে অনলাইন শপিংয়ের আরেক নাম হয়ে উঠেছে সংক্রমণ ঝুঁকি কমানো ও নিরাপদে থাকা। শপিংমলে বা বাজারে কেনাকাটা করতে গেলে রিকশা বা ট্যাক্সি ইত্যাদি যানবাহনের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে শপিংমলের দোকানপাট, লিফট, সিঁড়ি, টয়লেট, ফুডকোর্ট, জনকোলাহল এমনকি টাকা-পয়সা লেনদেনের মাধ্যমেও। আবার আপনি হয়তো শপিংমলে গিয়ে একটি জামা বা জুতা ট্রায়াল দিচ্ছেন কিন্তু এমনটি তো হতেই পারে সেই জামা বা জুতাটি কিছুক্ষণ আগে কোনো করোনা রোগী ট্রায়াল দিয়েছেন। আর শপিংমল বলুন কিংবা কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে গেলে বিক্রয়কর্মী এবং অন্য ক্রেতাদের কাছাকাছি তো আপনাকে যেতেই হচ্ছে। শপিংমল বা বাজারে গিয়ে কেনাকাটায় সংক্রমণ ছড়ানোর এমন আরও বহু সম্ভাবনা রয়েছে। এতে শুধু নিজে নয়- পুরো পরিবারকে জীবন ঝুঁকিতে ফেলা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি পণ্য পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু করেছে দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রায় অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের পাশাপাশি প্রায় সমপরিমাণ নতুন নতুন ব্র্যান্ড ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে অনলাইন সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শুধু ঢাকা শহরেই নয়- বিভিন্ন জেলা শহরগুলোয়ও এখন অনলাইনে কেনাকাটায় ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। তারা ঘরে বসেই বিভিন্ন ফেসবুক পেজে পণ্য দেখে মেসেঞ্জারে বা ফোনে অর্ডার করছেন। অর্ডার পেয়ে নির্ধারিত পণ্য নিয়ে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ডেলিভারি ম্যান। পণ্য হাতে পেয়ে নির্ধারিত মূল্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন গ্রাহকরা। কখনও বা বিকাশে মূল্য পরিশোধ করছেন।

কোনো কোনো অনলাইন শপ ক্রেতাদের সুরক্ষা দিতে নানা আয়োজন করেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের পণ্য ক্রয়ের বিপরীতে নগদ ছাড়, গিফট ভাউচার, ক্যাশব্যাক ও উপহারও দিচ্ছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে ফ্রি হোমডেলিভারি। প্রিয়শপ ডট কম, দারাজ ডট কম, চালডাল ডট কম, বন্ধনশপ ডট কম, বাগডুম ও হুর নুসরাতসহ বিভিন্ন অনলাইন শপ ক্রেতাদের সুবিধার বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এ বিষয়ে অনলাইন শপ ‘বন্ধনশপ ডট কম’-এর কর্ণধার নিজাম উদ্দিন জানান, ‘ঘরে বসে কেনাকাটার মাধ্যমে করোনা ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। তাই আমরা এ বিষয়ে ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে এবং করোনাকালীন ক্রেতাদের আর্থিক সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে এখন নামমাত্র মুনাফা করছি। ক্রেতাদের সন্তুষ্টি, সুবিধা এবং নিরাপত্তাই এখন আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্যে। করোনা সংকটে আমরা পুরনো ক্রেতাদের সব পণ্যে ১০-২০ শতাংশ এবং নতুন-পুরনো সব ক্রেতাদের জন্য কিছু কিছু পণ্যে ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিচ্ছি। নতুনদের পণ্যের সঙ্গে পৌঁছে দিচ্ছি মেম্বার কার্ড, যা থেকে তিনি পাবেন লাইফটাইম ডিসকাউন্ট সুবিধা’।

বর্তমানে প্রায় ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার বিস্তার ঘটেছে। এমন সংকটে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে কেনাকাটার কাজটি অনলাইনে সারতে পারলে আমরা অনেকেই করোনার ঝুঁকি এড়াতে পারি। এখন যেহেতু প্রায় সব ধরনের পণ্যই অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে তাই সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটায় করার চেয়ে অনলাইনে কেনাকাটায় আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে। তবে অনলাইনে কেনাকাটা করার সময়ও কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। যেমন-

কেনাকাটা করার আগে রিভিউ বিভাগে গিয়ে পণ্যসংক্রান্ত মতামতগুলো পড়ে নিন;

করোনার কারণে অনলাইনে অনেক ধরনের অফার চলছে। তবে বিশেষ অফার দেখেই পণ্য কনফার্ম করবেন না। অফারে অনেক সময় পণ্যের মান ভালো নাও হতে পারে। অরিজিনাল পণ্য আর রেপ্লিকা পণ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই পছন্দের পণ্য অর্ডার করুন;

অনলাইন অর্ডারের সময় চেষ্টা করুন পেমেন্ট কার্ড বা বিকাশে করতে। এতে টাকা লেনদেনের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে; বিশেষ প্রয়োজনে পণ্য পরিবর্তন করার নিয়মগুলো ভালোমতো জেনে নিন;

কতদিনের মধ্যে পণ্য হাতে পাবেন তাও ভালোভাবে জেনে নিন;

যে ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ থেকে পণ্যটি কিনবেন তাদের কোনো অফিস বা দোকান আছে কিনা এবং তার ঠিকানা ভালোমতো যাচাই করে পণ্য কিনুন;

ডেলিভারি ম্যানের কাছ থেকে পণ্য বুঝে নেয়ার সময় মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস পরে নিন;

পণ্য গ্রহণ করার সময় ব্যাগের বাইরের অংশে জীবাণুনাশক স্প্রে করুন। পণ্য হাতে পেয়েই চেষ্টা করুন পণ্যের প্যাকেট খুলে ফেলে দিতে। ফেলা সম্ভব না হলে প্যাকেটটি ভালোমতো সাবান পানি দিয়ে মুছে নিন। আর পণ্যটি যদি ধোয়া সম্ভব হয় তাহলে ধুয়ে ব্যবহার করুন। তবে শাকসবজি বা মাছ-মাংসের ক্ষেত্রে কখনই সরাসরি জীবাণুনাশক স্প্রে বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করবেন না। এসব পণ্য স্বাভাবিক পানি দিয়ে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে বেকিং সোডামিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন;

ব্যাগ থেকে জিনিসপত্র বের করার পর হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।