ভ্রমণ করুন নিয়ম মেনে
jugantor
ভ্রমণ
ভ্রমণ করুন নিয়ম মেনে
করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি খুলে দেয়া হয়েছে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সুন্দরবনসহ দেশের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র। তবে ভ্রমণে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। এছাড়া পর্যটকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে কিছু নির্দেশনা। লিখেছেন-

  গাজী মুনছুর আজিজ  

২৪ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহামারী করোনার কারণে দীর্ঘদিন ভ্রমণ করা নিষেধ ছিল। ফলে বাড়িতে থাকতে থাকতে এর প্রভাব পড়েছে মনের ওপর। বিশেষ করে ভ্রমণপিয়াসিদের মনের অবস্থা ছিল করুণ। তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক। চলাচল করা যাচ্ছে সব জায়গায়। আর খুলেছে দেশের সব বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র। অবশ্য এরই মধ্যে অনেকে ভ্রমণে বেরিয়েছেন। আবার অনেকে বের হওয়ার পরিকল্পনাও করছেন।

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্রমণ বা চলাচল করতে। কারণ করোনা এখনও পুরোপুরি যায়নি বা কবে যাবে সে কথাও নিশ্চিত নয় সরকার বা বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা। সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষকে ভ্রমণ বা চলাচল করার পরামর্শ দিচ্ছেন সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কেবল সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে বলেই যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, তা কিন্তু নয়। বরং নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবেই এটা মানতে হবে। এছাড়া আপনি আক্রান্ত হলে শুধু আপনি নয়, আপনার পরিবার বা কাছের মানুষেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা জরুরি। বিশেষ করে ভ্রমণে এটা অত্যাবশ্যক।

পর্যটন কেন্দ্র খোলার পাশাপাশি সরকারের প্রশাসন ভ্রমণে স্বাস্থ্যবিধিসহ বেশ কিছু নীতিমালা ও নির্দেশনা দিয়েছে। তাই ভ্রমণে বের হওয়ার আগে সেসব নির্দেশনা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। এছাড়া ভ্রমণে বের হলে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি তার অন্যতম হল- শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। আর পুরো ভ্রমণেই মাস্ক পরতে হবে। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে। না পরলে জরিমানাও গুনতে হবে। এছাড়া হাত সব সময় জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। এ জন্য হাতের কাছে বা পকেটে সব সময় জীবাণুনাশক স্প্রে রাখুন। এখন বাজারে নানা কোম্পানির পকেট সাইজ বোতলে স্যানেটাইজার পাওয়া যায়। এর একটি পকেটে রাখলেই হল। এর মাধ্যমে খাবার আগে বা কিছুক্ষণ পরপর হাত স্যানেটাইজ করা সহজ।

বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা বিমান- যে মাধ্যমেই ভ্রমণ করুন, নিজের আসনটি অবশ্যই জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করুন। হোটেলের বিছানাও জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করুন। অথবা রুমটি জীবাণুমুক্ত কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন। রেস্টুরেন্টে খেতে গেলেও সেটি কতটা জীবাণুমুক্ত তা জেনে নিন। সব চেয়ে ভালো হয় চলাফেরায় সব সময় সঙ্গে রাখুন জীবাণুনাশক স্প্রে।

যথাসম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলনু। এতে নিজেকে নিরাপদ রাখাটা সহজ। আর ফুটপাতের খাবার বা ফাস্টফুডজাতীয় খাবার পরিহার করাও জরুরি। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবারই বলেছে, ফুটপাতের খাবার বা ফাস্টফুডজাতীয় খাবার যতটা এড়ানো যায়, স্বাস্থ্যের পক্ষে ততটাই ভালো। বিশেষ করে এ করোনার মুহূর্তে তা অতি জরুরি। এছাড়া বাইরে থেকে হোটেলের রুমে এলে নিজেকে আগে জীবাণুমুক্ত করে নিন। আর জুতা বা পা বেশি বেশি করে জীবাণুমুক্ত রাখুন।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল ‘নেচার’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে- হোটেল, রেস্তারাঁ ও জিমনেসিয়ামে কোভিড সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত আমেরিকার বিভিন্ন শহরে গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছে স্ট্যানফোর্ড ও নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখে না যে, হোটেল-রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে কতটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

কেবল স্বাস্থ্যবিধি নয়, ভ্রমণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হল- প্রকৃতিবান্ধব বা পরিবেশবান্ধব হওয়া। অর্থাৎ ভ্রমণে আপনার দ্বারা যেন প্রকৃতি বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ কেবল মানুষ সৃষ্ট কারণে এরই মধ্যে আমাদের পরিবেশ বা জীববৈচিত্র্যের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আর সে কারণেই সম্প্রতি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপে। ফলে এখন থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়া সম্ভব হলেও ছেঁড়াদ্বীপ ভ্রমণ করা যাবে না। এছাড়া সম্প্রতি সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় ৬ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। কারণ সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপ অংশে এখনও কিছু সামুদ্রিক প্রবাল জীবিত আছে। এসব প্রবাল সংরক্ষণের জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে সেন্ট মার্টিনের সৈকতে কোনো ধরনের যান্ত্রিক যানবাহন যেমন- মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চালানো যাবে না। রাতে আলো বা আগুন জ্বালানো যাবে না। রাতের বেলা কোলাহল সৃষ্টি বা উচ্চ স্বরে গান-বাজনার আয়োজন করা যাবে না। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে যাতায়াতকারী জাহাজে অনুমোদিত ধারণ সংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। অননুমোদিত ও অনুমোদনের অতিরিক্ত নির্মাণসামগ্রী সেন্টমার্টিনে যাতায়াত বন্ধ করা হবে। পরিবেশ দূষণকারী দ্রব্য যেমন- পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদির ব্যবহার সীমিত করা হবে। এছাড়া আগে যেখানে সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন কয়েক হাজার পর্যটক যেতে পারতেন, এখন সেখানে প্রতিদিন মাত্র ১ হাজার ২৫০ জন পর্যটক যেতে পারবেন। তাও আগে অনলাইনে নিবন্ধন করে যেতে হবে। মূলত সেন্ট মার্টিনের অস্তিত্ব রক্ষায় এ বিধিনিষেধ।

অন্যদিকে ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলেছে সুন্দরবন। তবে এখন থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে মানতে হবে ৫টি শর্ত। শর্তগুলো হল- কোনো ট্রলারে ২০ জনের বেশি পর্যটক বহন করা যাবে না। পর্যটকরা খাদ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্য বহন করতে পারবেন না। প্রতিটি ট্রলারে স্যানিটাইজ ও বর্জ্য ফেলার ঝুড়ি রাখতে হবে। কোনো ট্রলারে মাইক বা সাউন্ডবক্স ব্যবহার করা যাবে না।

দেখুন বাংলার রূপ : দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া। সত্যি তাই, ছোট্ট হলেও ছয় ঋতুর এ দেশে চার পাশেই আছে নানা দর্শনীয় স্থান। আছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার ও সর্ববৃহৎ একক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। আরও আছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৈকতপাড় কুয়াকাটা, বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদসহ নানা প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যের দর্শনীয় স্থান। এছাড়া এ দেশের আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্যের ভাণ্ডারে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা

সামনে আসছে শীতের মৌসুম। আর শীত মানেই বাংলাদেশের পর্যটন বা বেড়ানোর মৌসুম। তাই চাইলে এ মৌসুমে দেখে নিতে পারেন বাংলার কিছুটা রূপ। তবে ঘুরতে বের হলে সবার আগে ভাবতে হবে, হাতে সময় আর বাজেট কত? কারণ সময় কম থাকলে আশপাশে বা দিনে দিনে আসা যায় এমন স্থানে ঘুরতে যাওয়া ভালো। আর হাতে সময় থাকলে যেতে পারেন দূরে কোথাও। তবে ঘুরতে বের হলে দলবেঁধে যাওয়া ভালো। এতে খরচ কম হয়। অন্যদিকে একা একা ঘোরার মজাও আলাদা। আর পারিবারিক ভ্রমণও অন্যরকম মজার।

ঘুরতে বের হলে আরেকটি বিষয় খেলায় রাখতে হবে, সেটি হল, যেখানে আগে যাওয়া হয়নি সেখানে যাওয়াকে প্রাধান্য দেয়া। তবে যেখানেই যান, সেখানে যাওয়ার আগে সেখানকার থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের সব ধরনের তথ্য জেনেই বের হওয়া উচিত। খুব ভালো হয়, যেখানে যাচ্ছেন সেখানে আগে কেউ গেছেন এমন কাউকে সঙ্গে নেয়া। অথবা সেখানকার স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে সেখানকার তথ্য জেনে নেয়া। এছাড়া ভ্রমণ তথ্য নিয়ে বাজারে অনেক বই আছে। চাইলে সেসব বই দেখেও জানতে পারেন। আর এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। ইন্টারনেটে ভ্রমণের নানা তথ্য ও ছবি আছে। সেখান থেকেও তথ্য জেনে নিতে পারেন।

যারা সমুদ্র দেখতে পছন্দ করেন, তাদের সবার আগে যাওয়া উচিত কক্সবাজার। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত। এর পাশেই আছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। অথবা যেতে পারেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দেশ কুয়াকাটা। ঢাকা থেকে রাতের বাসে কক্সবাজার গিয়ে সারা দিন থেকে আবার রাতে ফেরা যাবে ঢাকার উদ্দেশে। তবে সেন্টমার্টিন গেলে আরও একদিন সময় লাগবে। আর কুয়াকাটা গিয়ে এত কম সময়ে ফেরা যাবে না। কারণ কুয়াকাটা যেতে হলে প্রথমে লঞ্চে বা বাসে পটুয়াখালী। এরপর সেখান থেকে লোকাল বাসে কুয়াকাটা। তাই সেখানে যেতেই অনেক সময় লাগবে। অন্যদিকে পাহাড় যাদের কাছে টানে, তারা যেতে পারেন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি। পাহাড়, অরণ্য আর আদিবাসীদের বর্ণিল সাজে সজ্জিত এ জনপদ।

এছাড়া সমুদ্র কিংবা পাহাড় যারা এড়িয়ে চলেন, তারা যেতে পারেন বনে-বাদাড়ে। আর বন দেখতে হলে প্রথমে আসতে পারেন সুন্দরবনে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত এ বন বিশ্বের একক বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। ঢাকা থেকে প্রথমে খুলনা, এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন ভ্রমণ পরিচালনাকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারেন সুন্দরবনে। এছাড়া একা একা দিনে দিনে সুন্দরবনের স্বাদ পেতে যেতে পারেন করমজল। মোংলাঘাট থেকে ট্রলারে করমজল যেতে সময় লাগবে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা। এছাড়া বিভিন্ন ভ্রমণ পরিচালনাকারী সংস্থার মাধ্যমে ঢাকা থেকেও সরাসরি আপনি সুন্দরবনের উদ্দেশে আসতে পারেন। অনেকেই ভাবেন, দেশের যে কোনো স্থানেই একা একা যাওয়া গেলে সুন্দরবন কেন যাওয়া যাবে না? আসলে তাদের ধারণা ভুল। কারণ সুন্দরবনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে হলে আপনাকে কমপক্ষে তিন-চার দিন সময় করে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে হবে। আর সুন্দরবনে কখনও যে কোনো নৌকা বা ট্রলার নিয়ে একা একা বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা যায় না। তাই সুন্দরবনের মূল অংশে আপনাকে যেতে হলে ভ্রমণ পরিচালনাকারীদের সাহায্য নিতে হবে। অথবা নিজেদের ভাড়া করা লঞ্চ বা বড় ট্রলারেই যেতে হবে। আর লঞ্চ বা ট্রলার ছাড়া বন বিভাগ আপনাকে সুন্দরবনে একা একা প্রবেশের অনুমতিও দেবে না।

বন, সমুদ্র বা পাহাড় দেখা যাদের আছে, তারা আসতে পারেন সবুজ চা-বাগান দেখতে। সিলেট বিভাগজুড়ে রয়েছে অসংখ্য চা-বাগন। তবে সবচেয়ে বড় ও বেশি চা-বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। রাতের ট্রেনে বা বাসে রওনা হয়ে সকালে নেমে সারা দিন চা-বাগান দেখে আবার রাতে ফেরা যাবে ঢাকায়। চাইলে শ্রীমঙ্গলে দিনে দিনে গিয়েও দেখে আসা যাবে। দেশের বিখ্যাত হাওরগুলোও রয়েছে এ চায়ের দেশে। হাকালুকি, টাঙ্গুয়া, পাশুয়া, বাইক্কাসহ বিভিন্ন হাওরও দেখে আসতে পারেন সিলেট অঞ্চলে গেলে। এছাড়া সিলেট অঞ্চলজুড়ে রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য উদ্ভিদ উদ্যান বা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এসব উদ্ভিদ উদ্যান বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। চা-বাগান আর বনাঞ্চল ছাড়াও সিলেট অঞ্চলে রয়েছে ছোট-বড় অনেক ঝরনা। মাধবকুণ্ড ঝরনাটিও আছে এ অঞ্চলের মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায়।

আর ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বা পুরাকীর্তি দেখার জন্য আছে খুলনার ষাটগম্বুজ মসজিদ। এ মসজিদ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। এ মসজিদের আশপাশে আরও কিছু ঐহিত্যবাহী মসজিদ আছে। এছাড়া আছে দিনাজপুরের কান্তজিউর মন্দির, কুমিল্লার ময়নামতী, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, বগুড়ার মহাস্থানগড়, ফরিদপুরের মথুরা দেউর, রাজশাহীর সোনামসজিদ, তোহাখানা, পুঠিয়া রাজবাড়ি, নাটোরের রাজবাড়ি, জমিদারবাড়ি, গণভবনসহ দেশের বিভিন্ন পুরাকীর্তির নিদর্শন।

এছাড়া হরিণের রাজ্য দেখতে হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ, পাখির রাজ্য দেখতে সিলেটের হাওর ও ভোলা-নোয়াখালীর উপকূলের বিভিন্ন কাদাচর যেতে পারেন। আর চাইলে আপনি আপনার জেলাটাই ঘুরে দেখতে পারেন শীতের এ মৌসুমে। কারণ আমাদের প্রতিটি জেলারই রয়েছে নানারকম ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের চারপাশে যে দিকেই চোখ বুলাবেন সেদিকেই দেখা মিলবে রূপসী বাংলার মায়াবী রূপ।

ছবি : গাজী মুনছুর আজিজ

ভ্রমণ

ভ্রমণ করুন নিয়ম মেনে

করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি খুলে দেয়া হয়েছে কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সুন্দরবনসহ দেশের প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্র। তবে ভ্রমণে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। এছাড়া পর্যটকদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে কিছু নির্দেশনা। লিখেছেন-
 গাজী মুনছুর আজিজ 
২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মহামারী করোনার কারণে দীর্ঘদিন ভ্রমণ করা নিষেধ ছিল। ফলে বাড়িতে থাকতে থাকতে এর প্রভাব পড়েছে মনের ওপর। বিশেষ করে ভ্রমণপিয়াসিদের মনের অবস্থা ছিল করুণ। তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক। চলাচল করা যাচ্ছে সব জায়গায়। আর খুলেছে দেশের সব বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র। অবশ্য এরই মধ্যে অনেকে ভ্রমণে বেরিয়েছেন। আবার অনেকে বের হওয়ার পরিকল্পনাও করছেন।

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভ্রমণ বা চলাচল করতে। কারণ করোনা এখনও পুরোপুরি যায়নি বা কবে যাবে সে কথাও নিশ্চিত নয় সরকার বা বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা। সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানুষকে ভ্রমণ বা চলাচল করার পরামর্শ দিচ্ছেন সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

কেবল সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে বলেই যে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, তা কিন্তু নয়। বরং নিজেদের সুরক্ষার কথা ভেবেই এটা মানতে হবে। এছাড়া আপনি আক্রান্ত হলে শুধু আপনি নয়, আপনার পরিবার বা কাছের মানুষেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা জরুরি। বিশেষ করে ভ্রমণে এটা অত্যাবশ্যক।

পর্যটন কেন্দ্র খোলার পাশাপাশি সরকারের প্রশাসন ভ্রমণে স্বাস্থ্যবিধিসহ বেশ কিছু নীতিমালা ও নির্দেশনা দিয়েছে। তাই ভ্রমণে বের হওয়ার আগে সেসব নির্দেশনা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন। এছাড়া ভ্রমণে বের হলে যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি তার অন্যতম হল- শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। আর পুরো ভ্রমণেই মাস্ক পরতে হবে। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে। না পরলে জরিমানাও গুনতে হবে। এছাড়া হাত সব সময় জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। এ জন্য হাতের কাছে বা পকেটে সব সময় জীবাণুনাশক স্প্রে রাখুন। এখন বাজারে নানা কোম্পানির পকেট সাইজ বোতলে স্যানেটাইজার পাওয়া যায়। এর একটি পকেটে রাখলেই হল। এর মাধ্যমে খাবার আগে বা কিছুক্ষণ পরপর হাত স্যানেটাইজ করা সহজ।

বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা বিমান- যে মাধ্যমেই ভ্রমণ করুন, নিজের আসনটি অবশ্যই জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করুন। হোটেলের বিছানাও জীবাণুনাশক দিয়ে স্প্রে করুন। অথবা রুমটি জীবাণুমুক্ত কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন। রেস্টুরেন্টে খেতে গেলেও সেটি কতটা জীবাণুমুক্ত তা জেনে নিন। সব চেয়ে ভালো হয় চলাফেরায় সব সময় সঙ্গে রাখুন জীবাণুনাশক স্প্রে।

যথাসম্ভব ভিড় এড়িয়ে চলনু। এতে নিজেকে নিরাপদ রাখাটা সহজ। আর ফুটপাতের খাবার বা ফাস্টফুডজাতীয় খাবার পরিহার করাও জরুরি। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবারই বলেছে, ফুটপাতের খাবার বা ফাস্টফুডজাতীয় খাবার যতটা এড়ানো যায়, স্বাস্থ্যের পক্ষে ততটাই ভালো। বিশেষ করে এ করোনার মুহূর্তে তা অতি জরুরি। এছাড়া বাইরে থেকে হোটেলের রুমে এলে নিজেকে আগে জীবাণুমুক্ত করে নিন। আর জুতা বা পা বেশি বেশি করে জীবাণুমুক্ত রাখুন।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল ‘নেচার’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যায় একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে- হোটেল, রেস্তারাঁ ও জিমনেসিয়ামে কোভিড সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। গত মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত আমেরিকার বিভিন্ন শহরে গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য পেয়েছে স্ট্যানফোর্ড ও নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখে না যে, হোটেল-রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে কতটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

কেবল স্বাস্থ্যবিধি নয়, ভ্রমণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হল- প্রকৃতিবান্ধব বা পরিবেশবান্ধব হওয়া। অর্থাৎ ভ্রমণে আপনার দ্বারা যেন প্রকৃতি বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ কেবল মানুষ সৃষ্ট কারণে এরই মধ্যে আমাদের পরিবেশ বা জীববৈচিত্র্যের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আর সে কারণেই সম্প্রতি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপে। ফলে এখন থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়া সম্ভব হলেও ছেঁড়াদ্বীপ ভ্রমণ করা যাবে না। এছাড়া সম্প্রতি সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় ৬ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। কারণ সেন্ট মার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপ অংশে এখনও কিছু সামুদ্রিক প্রবাল জীবিত আছে। এসব প্রবাল সংরক্ষণের জন্যই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে সেন্ট মার্টিনের সৈকতে কোনো ধরনের যান্ত্রিক যানবাহন যেমন- মোটরসাইকেল ও ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চালানো যাবে না। রাতে আলো বা আগুন জ্বালানো যাবে না। রাতের বেলা কোলাহল সৃষ্টি বা উচ্চ স্বরে গান-বাজনার আয়োজন করা যাবে না। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে যাতায়াতকারী জাহাজে অনুমোদিত ধারণ সংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। অননুমোদিত ও অনুমোদনের অতিরিক্ত নির্মাণসামগ্রী সেন্টমার্টিনে যাতায়াত বন্ধ করা হবে। পরিবেশ দূষণকারী দ্রব্য যেমন- পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল ইত্যাদির ব্যবহার সীমিত করা হবে। এছাড়া আগে যেখানে সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন কয়েক হাজার পর্যটক যেতে পারতেন, এখন সেখানে প্রতিদিন মাত্র ১ হাজার ২৫০ জন পর্যটক যেতে পারবেন। তাও আগে অনলাইনে নিবন্ধন করে যেতে হবে। মূলত সেন্ট মার্টিনের অস্তিত্ব রক্ষায় এ বিধিনিষেধ।

অন্যদিকে ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলেছে সুন্দরবন। তবে এখন থেকে সুন্দরবন ভ্রমণ করতে মানতে হবে ৫টি শর্ত। শর্তগুলো হল- কোনো ট্রলারে ২০ জনের বেশি পর্যটক বহন করা যাবে না। পর্যটকরা খাদ্য ছাড়া অন্য কোনো পণ্য বহন করতে পারবেন না। প্রতিটি ট্রলারে স্যানিটাইজ ও বর্জ্য ফেলার ঝুড়ি রাখতে হবে। কোনো ট্রলারে মাইক বা সাউন্ডবক্স ব্যবহার করা যাবে না।

দেখুন বাংলার রূপ : দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া, ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া। সত্যি তাই, ছোট্ট হলেও ছয় ঋতুর এ দেশে চার পাশেই আছে নানা দর্শনীয় স্থান। আছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার ও সর্ববৃহৎ একক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। আরও আছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সৈকতপাড় কুয়াকাটা, বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদসহ নানা প্রাকৃতিক ও ঐতিহ্যের দর্শনীয় স্থান। এছাড়া এ দেশের আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের ঐতিহ্যের ভাণ্ডারে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা

সামনে আসছে শীতের মৌসুম। আর শীত মানেই বাংলাদেশের পর্যটন বা বেড়ানোর মৌসুম। তাই চাইলে এ মৌসুমে দেখে নিতে পারেন বাংলার কিছুটা রূপ। তবে ঘুরতে বের হলে সবার আগে ভাবতে হবে, হাতে সময় আর বাজেট কত? কারণ সময় কম থাকলে আশপাশে বা দিনে দিনে আসা যায় এমন স্থানে ঘুরতে যাওয়া ভালো। আর হাতে সময় থাকলে যেতে পারেন দূরে কোথাও। তবে ঘুরতে বের হলে দলবেঁধে যাওয়া ভালো। এতে খরচ কম হয়। অন্যদিকে একা একা ঘোরার মজাও আলাদা। আর পারিবারিক ভ্রমণও অন্যরকম মজার।

ঘুরতে বের হলে আরেকটি বিষয় খেলায় রাখতে হবে, সেটি হল, যেখানে আগে যাওয়া হয়নি সেখানে যাওয়াকে প্রাধান্য দেয়া। তবে যেখানেই যান, সেখানে যাওয়ার আগে সেখানকার থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের সব ধরনের তথ্য জেনেই বের হওয়া উচিত। খুব ভালো হয়, যেখানে যাচ্ছেন সেখানে আগে কেউ গেছেন এমন কাউকে সঙ্গে নেয়া। অথবা সেখানকার স্থানীয় লোকদের কাছ থেকে সেখানকার তথ্য জেনে নেয়া। এছাড়া ভ্রমণ তথ্য নিয়ে বাজারে অনেক বই আছে। চাইলে সেসব বই দেখেও জানতে পারেন। আর এখন তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। ইন্টারনেটে ভ্রমণের নানা তথ্য ও ছবি আছে। সেখান থেকেও তথ্য জেনে নিতে পারেন।

যারা সমুদ্র দেখতে পছন্দ করেন, তাদের সবার আগে যাওয়া উচিত কক্সবাজার। এটি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত। এর পাশেই আছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। অথবা যেতে পারেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দেশ কুয়াকাটা। ঢাকা থেকে রাতের বাসে কক্সবাজার গিয়ে সারা দিন থেকে আবার রাতে ফেরা যাবে ঢাকার উদ্দেশে। তবে সেন্টমার্টিন গেলে আরও একদিন সময় লাগবে। আর কুয়াকাটা গিয়ে এত কম সময়ে ফেরা যাবে না। কারণ কুয়াকাটা যেতে হলে প্রথমে লঞ্চে বা বাসে পটুয়াখালী। এরপর সেখান থেকে লোকাল বাসে কুয়াকাটা। তাই সেখানে যেতেই অনেক সময় লাগবে। অন্যদিকে পাহাড় যাদের কাছে টানে, তারা যেতে পারেন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি। পাহাড়, অরণ্য আর আদিবাসীদের বর্ণিল সাজে সজ্জিত এ জনপদ।

এছাড়া সমুদ্র কিংবা পাহাড় যারা এড়িয়ে চলেন, তারা যেতে পারেন বনে-বাদাড়ে। আর বন দেখতে হলে প্রথমে আসতে পারেন সুন্দরবনে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত এ বন বিশ্বের একক বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন। ঢাকা থেকে প্রথমে খুলনা, এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন ভ্রমণ পরিচালনাকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারেন সুন্দরবনে। এছাড়া একা একা দিনে দিনে সুন্দরবনের স্বাদ পেতে যেতে পারেন করমজল। মোংলাঘাট থেকে ট্রলারে করমজল যেতে সময় লাগবে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা। এছাড়া বিভিন্ন ভ্রমণ পরিচালনাকারী সংস্থার মাধ্যমে ঢাকা থেকেও সরাসরি আপনি সুন্দরবনের উদ্দেশে আসতে পারেন। অনেকেই ভাবেন, দেশের যে কোনো স্থানেই একা একা যাওয়া গেলে সুন্দরবন কেন যাওয়া যাবে না? আসলে তাদের ধারণা ভুল। কারণ সুন্দরবনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলো দেখতে হলে আপনাকে কমপক্ষে তিন-চার দিন সময় করে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে হবে। আর সুন্দরবনে কখনও যে কোনো নৌকা বা ট্রলার নিয়ে একা একা বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা যায় না। তাই সুন্দরবনের মূল অংশে আপনাকে যেতে হলে ভ্রমণ পরিচালনাকারীদের সাহায্য নিতে হবে। অথবা নিজেদের ভাড়া করা লঞ্চ বা বড় ট্রলারেই যেতে হবে। আর লঞ্চ বা ট্রলার ছাড়া বন বিভাগ আপনাকে সুন্দরবনে একা একা প্রবেশের অনুমতিও দেবে না।

বন, সমুদ্র বা পাহাড় দেখা যাদের আছে, তারা আসতে পারেন সবুজ চা-বাগান দেখতে। সিলেট বিভাগজুড়ে রয়েছে অসংখ্য চা-বাগন। তবে সবচেয়ে বড় ও বেশি চা-বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। রাতের ট্রেনে বা বাসে রওনা হয়ে সকালে নেমে সারা দিন চা-বাগান দেখে আবার রাতে ফেরা যাবে ঢাকায়। চাইলে শ্রীমঙ্গলে দিনে দিনে গিয়েও দেখে আসা যাবে। দেশের বিখ্যাত হাওরগুলোও রয়েছে এ চায়ের দেশে। হাকালুকি, টাঙ্গুয়া, পাশুয়া, বাইক্কাসহ বিভিন্ন হাওরও দেখে আসতে পারেন সিলেট অঞ্চলে গেলে। এছাড়া সিলেট অঞ্চলজুড়ে রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য উদ্ভিদ উদ্যান বা সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এসব উদ্ভিদ উদ্যান বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নানা প্রজাতির জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। চা-বাগান আর বনাঞ্চল ছাড়াও সিলেট অঞ্চলে রয়েছে ছোট-বড় অনেক ঝরনা। মাধবকুণ্ড ঝরনাটিও আছে এ অঞ্চলের মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায়।

আর ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বা পুরাকীর্তি দেখার জন্য আছে খুলনার ষাটগম্বুজ মসজিদ। এ মসজিদ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত। এ মসজিদের আশপাশে আরও কিছু ঐহিত্যবাহী মসজিদ আছে। এছাড়া আছে দিনাজপুরের কান্তজিউর মন্দির, কুমিল্লার ময়নামতী, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, বগুড়ার মহাস্থানগড়, ফরিদপুরের মথুরা দেউর, রাজশাহীর সোনামসজিদ, তোহাখানা, পুঠিয়া রাজবাড়ি, নাটোরের রাজবাড়ি, জমিদারবাড়ি, গণভবনসহ দেশের বিভিন্ন পুরাকীর্তির নিদর্শন।

এছাড়া হরিণের রাজ্য দেখতে হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ, পাখির রাজ্য দেখতে সিলেটের হাওর ও ভোলা-নোয়াখালীর উপকূলের বিভিন্ন কাদাচর যেতে পারেন। আর চাইলে আপনি আপনার জেলাটাই ঘুরে দেখতে পারেন শীতের এ মৌসুমে। কারণ আমাদের প্রতিটি জেলারই রয়েছে নানারকম ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের চারপাশে যে দিকেই চোখ বুলাবেন সেদিকেই দেখা মিলবে রূপসী বাংলার মায়াবী রূপ।

ছবি : গাজী মুনছুর আজিজ