স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক
jugantor
স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক

  কেয়া আমান  

০২ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অগ্নিঝরা মার্চ, বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। স্বাধীনতার মাস এটি। এ মাসেই অকুতোভয় ছাত্র-জনতা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, নিপীড়ন আর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বিশ্বের মানচিত্রে আমাদের জাতীয় পতাকাকে তুলে ধরতে। আর যেদিন প্রথম এ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় আজ ২ মার্চ সেই বিশেষ দিন।

১৯৭০ সালের ৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানে ছাত্রদের সামরিক কুচকাওয়াজ সামনে রেখে একটি পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।এ সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের (সাবেক ইকবাল হল) ১০৮ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, কাজী আরেফ আহমেদ, মার্শাল মনিরুল ইসলাম বৈঠক করেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা স্বপন কুমার চৌধুরী, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক হাসানুল হক ইনু ও ছাত্রনেতা ইউসুফ সালাউদ্দিন আহমেদ, জগন্নাথ কলেজের ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিবনারায়ণ দাশ। বৈঠকে কাজী আরেফের প্রাথমিক প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে সবার সম্মতিতে সবুজ জমিনের ওপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কামরুল আলম খান খসরু ঢাকা নিউমার্কেটের এক দর্জি দোকান থেকে বড় এক টুকরা সবুজ কাপড়ের মাঝে একটি লাল বৃত্ত সেলাই করে আনেন। পরে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতুমীর হলের (সাবেক কায়েদে আজম) ৩১২ নম্বর রুমে বসে ট্রেসিং পেপারে পতাকাটি আঁকা হয়। ছাত্রনেতা শিবনারায়ণ দাশ তার নিপুণ হাতে লাল বৃত্তের মাঝে আঁকেন বাংলার মানচিত্র।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় প্রথম জাতীয় পতাকা তোলা হয়েছিল। সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি মানচিত্র খচিত পতাকা ওইদিন উত্তোলন করেছিলেন ডাকসুর সহ-সভাপতি আ স ম আবদুর রব। পর দিন ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অপর ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ।

প্রথমে জাতীয় পতাকাটি ছিল সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি মানচিত্র খচিত। ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশের পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করা হয়। আর বিদেশের মাটিতে সর্বপ্রথম অর্থাৎ ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরে বর্তমান মুজিবনগরের আম্রকাননে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে সর্বপ্রথম জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম নিজ হাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ২৩ মার্চ ১৯৭১ সালে ধানমণ্ডিতে তার নিজ বাসভবনে। এ ছাড়া একাত্তরের এই দিনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক জনসভার ঘোষণাও দেওয়া হয় এ দিনে।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আমাদের স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে তৎকালীন ডাকসু নেতাদের উদ্যোগে ২ মার্চ সাড়া দিয়েছিল আমজনতা। প্রকৃতপক্ষে সে দিনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি ছাত্র-জনতা স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত হয় এবং স্বাধীনতা অর্জনের পথে যাত্রা শুরু করে। ২ মার্চের পতাকা উত্তোলনই জানান দেয় স্বাধীন বাংলাদেশের বিকল্প নেই। পরবর্তীতে দীর্ঘ ৯ মাসের বহু ত্যাগ, রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

২ মার্চ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষিত হওয়ায় সকাল থেকেই দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ ঢাকার রাজপথে অবস্থান নেয়, ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। পাকিস্তানি শাষকগোষ্ঠীর জুলুম, নিগ্রহ, শোষণ আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে তৎকালীন ডাকসু নেতাদের উদ্যোগে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হতে থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। অকুতোভয় ছাত্রসমাজ ও জনতা পাকিস্তানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জানিয়ে দেয় বাঙালি মাথা নত করবে না।

লাল-সবুজের পতাকা বাংলাদেশের প্রতীক। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম কতটা জানে পতাকার লাল সবুজের মর্মার্থ? জানতে চেয়েছিলাম নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী মো. মুবাশির রহমানের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পতাকার লাল রঙের ভরাট বৃত্তটি দ্বারা বোঝায় রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনা স্বাধীনতার নতুন সূর্যের প্রতীক। এ পতাকাই বিশ্বের দরবারে পরিচয় করায় লাল-সবুজে ঘেরা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে।’

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে পতাকার মাঝের লাল বৃত্তের ভেতর হলুদ রঙের মানচিত্রটি বাদ দিয়ে শুধু লাল বৃত্ত সংযোজন করা হয়, যা উদীয়মান সূর্যের প্রতীক ও স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের স্মৃতি বহন করে। মানচিত্রটি পতাকার উভয় পাশে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলার সমস্যার কারণে পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়। পতাকার মাপ, রং ও তার ব্যাখ্যা সংবলিত একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয় চিত্রশিল্পী কামরুল হাসানকে। কামরুল হাসানের ডিজাইনে পরিমার্জিত রূপটিই বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলার শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন বলেন, ‘জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা তরুণ প্রজন্ম স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ভাষা আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, কার্যক্রম স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকি। আমাদের শহিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করি। কিন্তু আমরা অনেকেই এখনো জাতীয় পতাকার মাপ, উত্তোলনের নিয়মাবলিসহ পতাকার মমার্থ ইত্যাদি জানি না। এটা দেশের প্রতি, শহিদদের প্রতি, স্বাধীনতার প্রতি অসম্মানের শামিল। তাই আমাদের জাতীয় পতাকার এবং পতাকা উত্তোলন দিবস সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে হবে।’

স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক

 কেয়া আমান 
০২ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অগ্নিঝরা মার্চ, বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। স্বাধীনতার মাস এটি। এ মাসেই অকুতোভয় ছাত্র-জনতা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, নিপীড়ন আর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বিশ্বের মানচিত্রে আমাদের জাতীয় পতাকাকে তুলে ধরতে। আর যেদিন প্রথম এ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় আজ ২ মার্চ সেই বিশেষ দিন।

১৯৭০ সালের ৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানে ছাত্রদের সামরিক কুচকাওয়াজ সামনে রেখে একটি পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।এ সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের (সাবেক ইকবাল হল) ১০৮ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, কাজী আরেফ আহমেদ, মার্শাল মনিরুল ইসলাম বৈঠক করেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা স্বপন কুমার চৌধুরী, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক হাসানুল হক ইনু ও ছাত্রনেতা ইউসুফ সালাউদ্দিন আহমেদ, জগন্নাথ কলেজের ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিবনারায়ণ দাশ। বৈঠকে কাজী আরেফের প্রাথমিক প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে সবার সম্মতিতে সবুজ জমিনের ওপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। কামরুল আলম খান খসরু ঢাকা নিউমার্কেটের এক দর্জি দোকান থেকে বড় এক টুকরা সবুজ কাপড়ের মাঝে একটি লাল বৃত্ত সেলাই করে আনেন। পরে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতুমীর হলের (সাবেক কায়েদে আজম) ৩১২ নম্বর রুমে বসে ট্রেসিং পেপারে পতাকাটি আঁকা হয়। ছাত্রনেতা শিবনারায়ণ দাশ তার নিপুণ হাতে লাল বৃত্তের মাঝে আঁকেন বাংলার মানচিত্র।

১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় প্রথম জাতীয় পতাকা তোলা হয়েছিল। সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি মানচিত্র খচিত পতাকা ওইদিন উত্তোলন করেছিলেন ডাকসুর সহ-সভাপতি আ স ম আবদুর রব। পর দিন ৩ মার্চ বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অপর ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ।

প্রথমে জাতীয় পতাকাটি ছিল সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝখানে সোনালি মানচিত্র খচিত। ১২ জানুয়ারি, ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশের পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করা হয়। আর বিদেশের মাটিতে সর্বপ্রথম অর্থাৎ ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল।

মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরে বর্তমান মুজিবনগরের আম্রকাননে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে সর্বপ্রথম জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম নিজ হাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ২৩ মার্চ ১৯৭১ সালে ধানমণ্ডিতে তার নিজ বাসভবনে। এ ছাড়া একাত্তরের এই দিনেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। রেসকোর্স ময়দানে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক জনসভার ঘোষণাও দেওয়া হয় এ দিনে।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আমাদের স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচারের বিরুদ্ধে তৎকালীন ডাকসু নেতাদের উদ্যোগে ২ মার্চ সাড়া দিয়েছিল আমজনতা। প্রকৃতপক্ষে সে দিনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি ছাত্র-জনতা স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত হয় এবং স্বাধীনতা অর্জনের পথে যাত্রা শুরু করে। ২ মার্চের পতাকা উত্তোলনই জানান দেয় স্বাধীন বাংলাদেশের বিকল্প নেই। পরবর্তীতে দীর্ঘ ৯ মাসের বহু ত্যাগ, রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

২ মার্চ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষিত হওয়ায় সকাল থেকেই দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ ঢাকার রাজপথে অবস্থান নেয়, ঢাকা পরিণত হয় মিছিলের নগরীতে। পাকিস্তানি শাষকগোষ্ঠীর জুলুম, নিগ্রহ, শোষণ আর নিপীড়নের বিরুদ্ধে তৎকালীন ডাকসু নেতাদের উদ্যোগে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হতে থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। অকুতোভয় ছাত্রসমাজ ও জনতা পাকিস্তানের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জানিয়ে দেয় বাঙালি মাথা নত করবে না।

লাল-সবুজের পতাকা বাংলাদেশের প্রতীক। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম কতটা জানে পতাকার লাল সবুজের মর্মার্থ? জানতে চেয়েছিলাম নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী মো. মুবাশির রহমানের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পতাকার লাল রঙের ভরাট বৃত্তটি দ্বারা বোঝায় রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনা স্বাধীনতার নতুন সূর্যের প্রতীক। এ পতাকাই বিশ্বের দরবারে পরিচয় করায় লাল-সবুজে ঘেরা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে।’

১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে পতাকার মাঝের লাল বৃত্তের ভেতর হলুদ রঙের মানচিত্রটি বাদ দিয়ে শুধু লাল বৃত্ত সংযোজন করা হয়, যা উদীয়মান সূর্যের প্রতীক ও স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের স্মৃতি বহন করে। মানচিত্রটি পতাকার উভয় পাশে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলার সমস্যার কারণে পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়। পতাকার মাপ, রং ও তার ব্যাখ্যা সংবলিত একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয় চিত্রশিল্পী কামরুল হাসানকে। কামরুল হাসানের ডিজাইনে পরিমার্জিত রূপটিই বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলার শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন বলেন, ‘জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা তরুণ প্রজন্ম স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ভাষা আন্দোলনসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, কার্যক্রম স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে থাকি। আমাদের শহিদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করি। কিন্তু আমরা অনেকেই এখনো জাতীয় পতাকার মাপ, উত্তোলনের নিয়মাবলিসহ পতাকার মমার্থ ইত্যাদি জানি না। এটা দেশের প্রতি, শহিদদের প্রতি, স্বাধীনতার প্রতি অসম্মানের শামিল। তাই আমাদের জাতীয় পতাকার এবং পতাকা উত্তোলন দিবস সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে হবে।’

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন