চুল পড়া রোধে হারবাল উপাদানের কার্যকারিতা
jugantor
চুল পড়া রোধে হারবাল উপাদানের কার্যকারিতা

   

০২ মার্চ ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড আক্রান্ত মানুষের মধ্যে যে সমস্যাটি লক্ষণীয়, তা হলো- অতিমাত্রায় চুল পড়া। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড আক্রান্তদের দীর্ঘ সময় অতিমাত্রায় জ্বর থাকার কারণে ও হতাশাজনিত কারণে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রভাব ও টেনশন চুলের গোড়া নরম করে ফেলে। আমরা হয়তো অনেকেই জানি না, যখন আমাদের শরীর কোনো কারণে অসুস্থ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সবার প্রথম প্রভাব আমাদের চুলের ওপর গিয়ে পড়ে। ফলাফল স্বরূপ চুলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা যায় এবং চুল পড়ার হারও তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পায়। এমনকি কোভিড থেকে সুস্থতা লাভ করলেও চুল পড়ার এ সমস্যা বিদ্যমান থাকে।

চুলপড়া রোধে হারবাল বা প্রাকৃতিক উপাদানের জুড়ি নেই। বর্তমানে বাজারে হারবাল বা প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ নানা ধরনের তেল, শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের গুণাগুণ এবং চুল পড়া রোধে এগুলো কীভাবে কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করব।

১. ব্রাহ্মী এমন একটি গাছ, যার কাণ্ড ও পাতা অত্যন্ত রসালো হয়। এটি আমাদের স্ক্যাল্পের রক্তনালিগুলোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। ফলে অক্সিজেন এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ চুলের বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে এবং চুল পড়া বন্ধ হয়। ব্রাহ্মীর উপাদানগুলো চুলের গোড়ায় প্রোটিনের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে চুলকে আরও শক্ত এবং ঘন করে। এটি চুলের আগা ফাটা রোধ করে। ব্রাহ্মীযুক্ত তেল কোনো হেয়ার প্যাকের সঙ্গে ব্যবহার করলে দুর্দান্ত ফলাফল পাওয়া যায়।

২. আমলকী আমাদের হাতের কাছে পাওয়া সবচেয়ে সস্তা ও সহজলভ্য প্রাকৃতিক ফল। হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত আমলকী চুলের যত্নে অন্যতম সেরা উপাদান। আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস। আমলা কাঁচা, গুঁড়া বা তেল হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। চুলের আগা ফেটে যাওয়া ও চুল পেকে যাওয়া দূর করতে আমলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চুলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল।

৩. অ্যালোভেরা যুগ যুগ ধরে চুলের যত্নে মানুষের পরম আস্থার নাম। এটি এমন এক প্রাকৃতিক উপাদান, যাতে রয়েছে স্যালিসাইলিক এসিড, এনজাইম, মিনারেল, সুগার ও এমিনো এসিডের মতো পুষ্টিকর উপাদান। এতে আরও রয়েছে ভিটামিন এ, বি এবং ডি, যা আমাদের চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় ও কোলাজেন তৈরি করে। চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, রেশমি ও ঝলমলে করতে অ্যালোভেরার ভূমিকা দুর্দান্ত। চুল পড়া রোধ করতে, মাথায় চুলের ঘাটতি কমিয়ে চুলের ঘনত্ব বাড়াতে অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার। অ্যালোভেরাযুক্ত তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পেঁয়াজের রস মিশিয়ে ব্যবহার করলে মাথায় নতুন চুল গজায় এবং চুল কোমল ও মসৃণ হয়। নারিকেল তেলের সঙ্গে অ্যালোভেরা মিশিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করে সারা রাত রেখে পরদিন সকালে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে চুলের উজ্জ্বলতা ও সিল্কিভাব বৃদ্ধি পায়।

কোভিড থেকে সুস্থতা লাভের পরবর্তী পরিস্থিতি রুখে দাঁড়ানো আমাদের সবার জন্য একটি কঠিন ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে আমরা তা কিছুটা হলেও মোকাবিলা করতে পারি। কোভিড-পরবর্তী অবস্থায় চুলজনিত যে কোনো সমস্যার কার্যকর সমাধান পেতে হারবাল বা প্রাকৃতিক উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের বাজারে হারবাল তেলের যাত্রা শুরু হয় কুমারিকা হেয়ার অয়েলের মাধ্যমে, যা চুলের গোড়ায় সঠিক পুষ্টি জুগিয়ে চুল পড়া সমস্যা সমাধানে দীর্ঘদিন ধরে এক অসাধারণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ তেলে অ্যালোভেরা, ব্রাহ্মী ও আমলা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান সঠিক পরিমাণে বিদ্যমান। রুক্ষ, শুষ্ক ও পাতলা চুল আমাদের কারোরই কাম্য নয়। তাই চুলের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান পেতে হলে ভেজাল কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। চুলের যত্নে নিয়মিত হারবাল পণ্য ব্যবহার করুন ও চুলকে মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তুলুন।

চুল পড়া রোধে হারবাল উপাদানের কার্যকারিতা

  
০২ মার্চ ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোভিড আক্রান্ত মানুষের মধ্যে যে সমস্যাটি লক্ষণীয়, তা হলো- অতিমাত্রায় চুল পড়া। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড আক্রান্তদের দীর্ঘ সময় অতিমাত্রায় জ্বর থাকার কারণে ও হতাশাজনিত কারণে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের ওষুধের প্রভাব ও টেনশন চুলের গোড়া নরম করে ফেলে। আমরা হয়তো অনেকেই জানি না, যখন আমাদের শরীর কোনো কারণে অসুস্থ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সবার প্রথম প্রভাব আমাদের চুলের ওপর গিয়ে পড়ে। ফলাফল স্বরূপ চুলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা যায় এবং চুল পড়ার হারও তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পায়। এমনকি কোভিড থেকে সুস্থতা লাভ করলেও চুল পড়ার এ সমস্যা বিদ্যমান থাকে।

চুলপড়া রোধে হারবাল বা প্রাকৃতিক উপাদানের জুড়ি নেই। বর্তমানে বাজারে হারবাল বা প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ নানা ধরনের তেল, শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদানের গুণাগুণ এবং চুল পড়া রোধে এগুলো কীভাবে কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করব।

১. ব্রাহ্মী এমন একটি গাছ, যার কাণ্ড ও পাতা অত্যন্ত রসালো হয়। এটি আমাদের স্ক্যাল্পের রক্তনালিগুলোকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। ফলে অক্সিজেন এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ চুলের বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে এবং চুল পড়া বন্ধ হয়। ব্রাহ্মীর উপাদানগুলো চুলের গোড়ায় প্রোটিনের সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে চুলকে আরও শক্ত এবং ঘন করে। এটি চুলের আগা ফাটা রোধ করে। ব্রাহ্মীযুক্ত তেল কোনো হেয়ার প্যাকের সঙ্গে ব্যবহার করলে দুর্দান্ত ফলাফল পাওয়া যায়।

২. আমলকী আমাদের হাতের কাছে পাওয়া সবচেয়ে সস্তা ও সহজলভ্য প্রাকৃতিক ফল। হাজার বছর ধরে ব্যবহৃত আমলকী চুলের যত্নে অন্যতম সেরা উপাদান। আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস। আমলা কাঁচা, গুঁড়া বা তেল হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। চুলের আগা ফেটে যাওয়া ও চুল পেকে যাওয়া দূর করতে আমলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি চুলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল।

৩. অ্যালোভেরা যুগ যুগ ধরে চুলের যত্নে মানুষের পরম আস্থার নাম। এটি এমন এক প্রাকৃতিক উপাদান, যাতে রয়েছে স্যালিসাইলিক এসিড, এনজাইম, মিনারেল, সুগার ও এমিনো এসিডের মতো পুষ্টিকর উপাদান। এতে আরও রয়েছে ভিটামিন এ, বি এবং ডি, যা আমাদের চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় ও কোলাজেন তৈরি করে। চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, রেশমি ও ঝলমলে করতে অ্যালোভেরার ভূমিকা দুর্দান্ত। চুল পড়া রোধ করতে, মাথায় চুলের ঘাটতি কমিয়ে চুলের ঘনত্ব বাড়াতে অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার। অ্যালোভেরাযুক্ত তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পেঁয়াজের রস মিশিয়ে ব্যবহার করলে মাথায় নতুন চুল গজায় এবং চুল কোমল ও মসৃণ হয়। নারিকেল তেলের সঙ্গে অ্যালোভেরা মিশিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করে সারা রাত রেখে পরদিন সকালে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে চুলের উজ্জ্বলতা ও সিল্কিভাব বৃদ্ধি পায়।

কোভিড থেকে সুস্থতা লাভের পরবর্তী পরিস্থিতি রুখে দাঁড়ানো আমাদের সবার জন্য একটি কঠিন ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে আমরা তা কিছুটা হলেও মোকাবিলা করতে পারি। কোভিড-পরবর্তী অবস্থায় চুলজনিত যে কোনো সমস্যার কার্যকর সমাধান পেতে হারবাল বা প্রাকৃতিক উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের বাজারে হারবাল তেলের যাত্রা শুরু হয় কুমারিকা হেয়ার অয়েলের মাধ্যমে, যা চুলের গোড়ায় সঠিক পুষ্টি জুগিয়ে চুল পড়া সমস্যা সমাধানে দীর্ঘদিন ধরে এক অসাধারণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ তেলে অ্যালোভেরা, ব্রাহ্মী ও আমলা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান সঠিক পরিমাণে বিদ্যমান। রুক্ষ, শুষ্ক ও পাতলা চুল আমাদের কারোরই কাম্য নয়। তাই চুলের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান পেতে হলে ভেজাল কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকাই ভালো। চুলের যত্নে নিয়মিত হারবাল পণ্য ব্যবহার করুন ও চুলকে মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে তুলুন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন