মাস্ক প্রয়োজনে ও ফ্যাশনে
jugantor
মাস্ক প্রয়োজনে ও ফ্যাশনে
আবারও বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সে জন্য এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা ও হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে বলে জানানো হয়। অন্যথায় আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। লিখেছেন-

  গাজী মুনছুর আজিজ  

১৮ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আমাদের দেশেও হানা দিয়েছে। সে জন্য এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে। এসব বিধিনিষেধের মধ্যে দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা ও হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। এ ছাড়া অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

মাস্ক পরা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে পাবলিক প্লেসে মাস্ক পরা উচিত। সংস্থাটি জানায় মাস্ক পরলে জীবাণু বহনকারী ড্রপলেট থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। কোভিড-১৯-এর টেকনিক্যাল বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মারিয়া ভ্যান কেরখোভ রয়টার্সকে বলেন, যেসব জায়গায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে সেসব জায়গায় মানুষকে ‘কাপড়ের মাস্ক-যেটি মেডিকেল মাস্ক নয়’ পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা সব দেশের সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছি যেন তারা জনসাধারণকে মাস্ক পরতে উৎসাহিত করে। অনেক রকম সুরক্ষা উপকরণের মধ্যে মাস্ক একটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক টেড্রোস ঘেব্রেয়েসাস বলেন, শুধু মাস্ক কখনো আপনাকে কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত রাখবে না। কাজেই যেসব জায়গায় দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব নয়, গণপরিবহণ, শরণার্থী শিবির, জনবহুল দোকানপাট সেখানে ঘরে তৈরি করা মাস্ক পরলে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। আর যাদের বয়স ষাটের ওপর ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে তারা আরও উন্নত মেডিকেল গ্রেড মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

ইউনিসেফ সবাইকে সুরক্ষিত থাকার জন্য কাপড়ের তৈরি মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। তবে তারা বলছে, কেবল মাস্ক কোভিড-১৯ এর বিস্তারকে আটকাবে না, সবাইকেই শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা ও ঘন ঘন হাত ধোয়ার চর্চা রাখতে হবে।

কীভাবে পরিষ্কার করবেন

দিনে কমপক্ষে একবার সম্ভব হলে গরম পানি দিয়ে (কমপক্ষে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস আঁচে) সাবান বা গুঁড়া সাবান ব্যবহার করে কাপড়ের মাস্ক ধুয়ে নিন। মেশিনে ধোয়ার ক্ষেত্রে কাপড়ের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত উষ্ণতার সেটিং ব্যবহার করুন। হাতে ধোয়ার ক্ষেত্রে গরম সাবান পানি ব্যবহার করুন। ধোয়ার পর মাস্কটি পুনরায় পরার আগে ভালোভাবে শুকানো উচিত। মাস্ক একটি পরিষ্কার ব্যাগে সংরক্ষণ করুন।

পরার সময়

সব সময় সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পর মাস্ক পরা শুরু করুন। মাস্কটি পরিষ্কার আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। এতে ছিদ্র বা গর্ত আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন। মাস্কটি ময়লা বা নষ্ট হলে এটি পরবেন না। মাস্কটি এমনভাবে পরুন যাতে মুখ, নাক ও চিবুক ভালোভাবে ঢেকে থাকে ও পাশে কোনো ফাঁক না থাকে। মাস্ক পরা অবস্থায় স্বাচ্ছন্দ্যে নিশ্বাস নেওয়া যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হোন।

পরা অবস্থায়

মাস্কটি ময়লা হলে বা ভিজে গেলে তা বদলে ফেলুন। মাস্কটিকে টেনে নাক বা চিবুকের নিচে নামাবেন না বা এটি আপনার মাথায় পরবেন না, কার্যকারিতার জন্য মাস্কটি দিয়ে মুখ ও নাক পুরোপুরি ঢেকে রাখা উচিত। পরিহিত অবস্থায় মাস্কটি স্পর্শ করবেন না।

পরামর্শ

আপনি ও আপনার পরিবার যদি মাস্ক খুলে রাখার ও দিনের বেলায় এগুলো পুনরায় ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেন, তবে এগুলো সংরক্ষণের জন্য মুখবন্ধ করা যায় এমন পরিষ্কার ব্যাগ ব্যবহার করুন। আপনার পরিবারের প্রতিটি মাস্কের জন্য আলাদা ব্যাগ ব্যবহার করুন। মাস্কটি ব্যাগে রাখার সময় বা ব্যাগ থেকে বের করার সময় সম্ভাব্য দূষণ এড়াতে ইলাস্টিক বন্ধনী বা গিঁটগুলোতে ধরুন (মাস্কের পৃষ্ঠ স্পর্শ না করে)।

খোলার সময়

মাস্কটি খোলার আগে দুই হাত ধুয়ে নিন। ইলাস্টিক বন্ধনী বা গিঁটগুলো ধরে মাস্কটি খুলুন। মাস্কের সামনে অংশে স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন। মাস্ক খোলার পর আপনার দুই হাত ধুয়ে নিন। কাপড়ের মাস্ক প্রতিবার ব্যবহারের পর ধুয়ে ফেলা ও একটি পরিষ্কার ব্যাগে সংরক্ষণ করা উচিত। মেডিকেল মাস্কগুলো একবার ব্যবহার উপযোগী ও ব্যবহারের পর এগুলো ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেওয়া উচিত।

সাধারণ কিছু ভুল

টেনে নাকের নিচে নামাবেন না। থুতনি উন্মুক্ত রাখবেন না। টেনে থুতনির নিচে নামাবেন না। মাস্ক পরার সময় এটি স্পর্শ করবেন না, ঢিলাঢালা মাস্ক পরবেন না। ময়লা, নষ্ট বা ভেজা মাস্ক পরবেন না।

মাস্ক প্রয়োজনে ও ফ্যাশনে

আবারও বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সে জন্য এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা ও হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে বলে জানানো হয়। অন্যথায় আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। লিখেছেন-
 গাজী মুনছুর আজিজ 
১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আমাদের দেশেও হানা দিয়েছে। সে জন্য এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে। এসব বিধিনিষেধের মধ্যে দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা ও হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যথায় তাকে আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। এ ছাড়া অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

মাস্ক পরা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে পাবলিক প্লেসে মাস্ক পরা উচিত। সংস্থাটি জানায় মাস্ক পরলে জীবাণু বহনকারী ড্রপলেট থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। কোভিড-১৯-এর টেকনিক্যাল বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মারিয়া ভ্যান কেরখোভ রয়টার্সকে বলেন, যেসব জায়গায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে সেসব জায়গায় মানুষকে ‘কাপড়ের মাস্ক-যেটি মেডিকেল মাস্ক নয়’ পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমরা সব দেশের সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছি যেন তারা জনসাধারণকে মাস্ক পরতে উৎসাহিত করে। অনেক রকম সুরক্ষা উপকরণের মধ্যে মাস্ক একটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক টেড্রোস ঘেব্রেয়েসাস বলেন, শুধু মাস্ক কখনো আপনাকে কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষিত রাখবে না। কাজেই যেসব জায়গায় দূরত্ব মেনে চলা সম্ভব নয়, গণপরিবহণ, শরণার্থী শিবির, জনবহুল দোকানপাট সেখানে ঘরে তৈরি করা মাস্ক পরলে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। আর যাদের বয়স ষাটের ওপর ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে তারা আরও উন্নত মেডিকেল গ্রেড মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

ইউনিসেফ সবাইকে সুরক্ষিত থাকার জন্য কাপড়ের তৈরি মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। তবে তারা বলছে, কেবল মাস্ক কোভিড-১৯ এর বিস্তারকে আটকাবে না, সবাইকেই শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা ও ঘন ঘন হাত ধোয়ার চর্চা রাখতে হবে।

কীভাবে পরিষ্কার করবেন

দিনে কমপক্ষে একবার সম্ভব হলে গরম পানি দিয়ে (কমপক্ষে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস আঁচে) সাবান বা গুঁড়া সাবান ব্যবহার করে কাপড়ের মাস্ক ধুয়ে নিন। মেশিনে ধোয়ার ক্ষেত্রে কাপড়ের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত উষ্ণতার সেটিং ব্যবহার করুন। হাতে ধোয়ার ক্ষেত্রে গরম সাবান পানি ব্যবহার করুন। ধোয়ার পর মাস্কটি পুনরায় পরার আগে ভালোভাবে শুকানো উচিত। মাস্ক একটি পরিষ্কার ব্যাগে সংরক্ষণ করুন।

পরার সময়

সব সময় সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পর মাস্ক পরা শুরু করুন। মাস্কটি পরিষ্কার আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। এতে ছিদ্র বা গর্ত আছে কিনা তা পরীক্ষা করুন। মাস্কটি ময়লা বা নষ্ট হলে এটি পরবেন না। মাস্কটি এমনভাবে পরুন যাতে মুখ, নাক ও চিবুক ভালোভাবে ঢেকে থাকে ও পাশে কোনো ফাঁক না থাকে। মাস্ক পরা অবস্থায় স্বাচ্ছন্দ্যে নিশ্বাস নেওয়া যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হোন।

পরা অবস্থায়

মাস্কটি ময়লা হলে বা ভিজে গেলে তা বদলে ফেলুন। মাস্কটিকে টেনে নাক বা চিবুকের নিচে নামাবেন না বা এটি আপনার মাথায় পরবেন না, কার্যকারিতার জন্য মাস্কটি দিয়ে মুখ ও নাক পুরোপুরি ঢেকে রাখা উচিত। পরিহিত অবস্থায় মাস্কটি স্পর্শ করবেন না।

পরামর্শ

আপনি ও আপনার পরিবার যদি মাস্ক খুলে রাখার ও দিনের বেলায় এগুলো পুনরায় ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেন, তবে এগুলো সংরক্ষণের জন্য মুখবন্ধ করা যায় এমন পরিষ্কার ব্যাগ ব্যবহার করুন। আপনার পরিবারের প্রতিটি মাস্কের জন্য আলাদা ব্যাগ ব্যবহার করুন। মাস্কটি ব্যাগে রাখার সময় বা ব্যাগ থেকে বের করার সময় সম্ভাব্য দূষণ এড়াতে ইলাস্টিক বন্ধনী বা গিঁটগুলোতে ধরুন (মাস্কের পৃষ্ঠ স্পর্শ না করে)।

খোলার সময়

মাস্কটি খোলার আগে দুই হাত ধুয়ে নিন। ইলাস্টিক বন্ধনী বা গিঁটগুলো ধরে মাস্কটি খুলুন। মাস্কের সামনে অংশে স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন। মাস্ক খোলার পর আপনার দুই হাত ধুয়ে নিন। কাপড়ের মাস্ক প্রতিবার ব্যবহারের পর ধুয়ে ফেলা ও একটি পরিষ্কার ব্যাগে সংরক্ষণ করা উচিত। মেডিকেল মাস্কগুলো একবার ব্যবহার উপযোগী ও ব্যবহারের পর এগুলো ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেওয়া উচিত।

সাধারণ কিছু ভুল

টেনে নাকের নিচে নামাবেন না। থুতনি উন্মুক্ত রাখবেন না। টেনে থুতনির নিচে নামাবেন না। মাস্ক পরার সময় এটি স্পর্শ করবেন না, ঢিলাঢালা মাস্ক পরবেন না। ময়লা, নষ্ট বা ভেজা মাস্ক পরবেন না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন